শিরোনাম

স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

আনোয়ার হোসেন  |  ০২:৫৪, জুলাই ১২, ২০১৮

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো ক্রোয়েশিয়া। গতকাল লুঝনিকি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী ইংল্যান্ডেকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে পরাজিত করে চমক দেখালো লুকা মদ্রিচরা। এ হারের ফলে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ যেন অধরাই থেকে গেলো হ্যারি কেইনদের। এর আগে ক্রোয়েশিয়ার সবোর্চ্চ সাফল্য ছিল ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান। আগামী ১৫ জুলাই রোববার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। গতকাল ক্রোয়েশিয়া-ইংল্যান্ড দু’দলই শক্তিশালী একাদশ নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়। ৫২ বছর আগে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ জয় ব্যতীত আর কখনো ফাইনালেই উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড। তিন যুগ পর বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিলো ডেভিড ব্যাকহাম আর স্টিভেন জেরার্ডদের উত্তরসুরিরা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলার প্রথমার্ধে ১-০ গোলের লিড নিয়েছে ইংলিশরা। কেইরান ট্রিপারের করা গোলে খেলার ৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। খেলার ২২ মিনিটে বাজে এক ভুল করে বসেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি দিয়ে দেন রহিম স্টার্লিংয়ের পায়ে। স্টার্লিং দুর্দান্ত চতুরতায় তা কেইনকে দিলেও, অফসাইডের ফাঁদে ধরা পড়েন ইংলিশ অধিনায়ক। সেই যাত্রায় বেঁচে যান সুবাসিচ। এর পরপরই উইং দিয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষনে আক্রমণ সাজায় ক্রোয়েশিয়া। ছোট ছোট পাসে সামনে এগিয়ে হুট করেই বুলেট গতির শট নেন আনতে রেবিক। তবে ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড সতর্ক থাকায় গোল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়া। পুরো প্রথর্মাধে পরিচ্ছন্ন ফুটবলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দুই দলই। যার ফলে ৪৫ মিনিটে একবারের জন্যও কোন কার্ড বের করতে হয়নি রেফারিকে। তবে প্রথমার্ধের ৫৩ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও গোলের দেখা পায়নি ক্রোয়েশিয়া। খেলার দ্বিতীয় ভাগের শুরুতেই ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ড মারিও মানজুকিচ কাইল ওয়াকারকে ফাউল করলে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর মিনিট পাঁচেক পরই ক্রোয়েটদের থ্রোইনে নিজে বল হাতে নিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন কাইল ওয়াকার। তবে এরই মাঝে চলে দু’দলের সমানে সমান লড়াই। ৫৬ মিনিটে হেদসে লিনগার্ডের শট কর্ণারের মাধ্যমে ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ান ডিফেন্ডার ডোমাগজ ভিদা। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে কর্ণায় পায় ক্রোয়েশিয়া। তবে দুর্বল কর্ণার কিক ক্লিয়ার করতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকারকে। এদিকে, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়াকে তখনো পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগে। বল দখলের লড়াইয়ে তারা এগিয়ে থাকলেও, তাদের খেলা সীমাবদ্ধ মাঝমাঠ বা নিজেদের রক্ষণভাগেই। তবে খেলার ৬৪ মিনিটে দুরপাল্লার এক শটে ইংলিশ রক্ষণ কাঁপিয়ে দেন ইভান পেরেসিচ। তবে সে যাত্রায় কাইল ওয়াকার জায়গামতো থাকায় গোল না খেয়েই বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। তবে ৬৮ মিনিটে আর পেরেসিচের লম্বা পায়ের ছোঁয়া থেকে বাচতে পারেনি ৬৬র বিশ্বকাপজয়ীরা। ডি বক্সের বেশ বাইরে থেকে সিমে ভ্রাসালকোর ক্রসে ইংলিশ ডিফেন্ডার ওয়াকারের মাথার উপর পা তুলে ডান পাশের বার দিয়ে বল জালে জড়ান পেরেসিচ। গোল দিয়ে যেন নিজেদের ফিরে পায় ক্রোয়েশিয়ানরা। মিনিট তিনেক বাদে আবারো ইংল্যান্ডের রক্ষণে জোরালো আক্রমণ সাজায় তারা। তবে পেরেসিচের বাপ পায়ের শট পোস্টে লেগে ফেরত আসলে হাফ ছেড়ে বাঁচে লুঝনিকিতে উপস্থিত ইংল্যান্ড সমর্থকরা। ৭৪ মিনিটে রহিম স্টার্লিংকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেন ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। ক্রোয়েশিয়ানদের একের পর এক আক্রমণে পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পরে ইংল্যান্ড। তবে ভাগ্য কিংবা নিজেদের ব্যর্থতা; দুই মিলিয়ে গোলের দেখা পাচ্ছিল না ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া ক্রোয়েশিয়া। ৮২ মিনিটে নিজ দলকে আরো একবার বাঁচিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। মানজুকিচের কাছ থেকে বল পেয়ে গোল মুখে শট নেন ব্রোজোভিচ। তবে পিকফোর্ডের নিখুঁত পারদর্শীতায় সে যাত্রায় আবারো গোলবঞ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়া। ইংলিশ খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাতেই বোঝা যাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ানদের দাপটের কথা। এরই মাঝে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণেও আক্রমণের চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। তবে হেসে লিনগার্ডের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় তেমন কোন সুবিধায় করতে পারেনি ফেবারিটের তকমা গায়ে নিয়ে খেলতে নামা ইংল্যান্ড। ফলে দুই দলের ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। খেলার অতিরিক্ত সময়ে ১০৯ মিনিটে ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক দর্শনীয় শটে ইংলিশ গোরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাজিত করে পক্ষে জয়সূচক করেন মারিও মানজুকিচ ২-১। প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও পরিসংখ্যানের নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখে ক্রোয়েশিয়া। বল দখলে ইংল্যান্ডের ৪১ শতাংশের বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার ছিল ৫৯ শতাংশ। গোলমুখে ইংল্যান্ডের ৫টি শটের বিপরীতে তারা নেয় মোট ৮টি শট। এরপর আর কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা হয়নি তাদের। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান পাওয়া ক্রোয়েশিয়ার এখন পর্যন্ত ফুটবলে সর্বোচ্চ অর্জন। সেটিকেও ছাপিয়ে যেতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে মাঠে নামছে দালিচের দল। ক্রোয়েশিয়া ডি-গ্রুপে টানা তিন ম্যাচই জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে। দ্বিতীয় পর্বে ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ক্রোয়েটরা। আর কোয়ার্টারে স্বাগতিক রাশিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকেট পায়। অপরদিকে, ইংল্যান্ড জি গ্রুপে তিন খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে। নকআউট পর্বে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার অর্জন করে। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেনকে ২-০ গোলের ব্যাবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌছে ইংলিশরা। আগামী ১৫ জুলাই রোববার মস্কোতে রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত