শিরোনাম

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারো জিতল ভারত

স্পোর্টস ডেস্ক  |  ১১:১৭, জুন ১৭, ২০১৯

ইতিহাস বদল হল না। ভারত ৬-০ থেকে করে ফেলল ৭-০। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের রেকর্ড ১০০ শতাংশই থেকে গেল। বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সব সময়ই জ্বলে উঠেছে ভারত। এবারও তার অন্যথা হল না। দল বদলে গেলেও আবেগটা যে একই রয়ে গিয়েছে।

সে কপিল দেব হোন বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, এমএস ধোনি বা আজকের বিরাট কোহলি। বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানকে পেলে পুরো দলটাই যেন তেতে ওঠে। অনেদিন ধরেই তাতছিল দল। কখন মাঠের বাইরের রাজনৈতিক কারনে আবার কখনও শুধুই ক্রিকেট।

পাকিস্তানের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করা হল না। শেষ বেলায় বৃষ্টির দাপটে পাকিস্তানের জন্য ম্যাচ আরও কঠিন হয়ে গেল। ডিএলএস মেথডে ৪০ ওভারে পাকিস্তানের টার্গেড দাঁড়াল ৩০২।

শেষ পাঁচ ওভারে পাকিস্তানকে করতে হত ১৩৬ রান। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেনি পাকিস্তান। ৮৯ রানে সহজ জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। ফলে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের শতভাগ রেকর্ড ধরে রাখল দলটি। চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে উঠে এল ভারত।

ইমরান খান পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে ম্যাচের আগে উপদেশ দিয়েছিলেন মাঠ ভিজে না থাকলে টস জিতে ব্যাটিং নিতে। তাঁর মত ছিল বড় রান তাড়া করার থেকে বড় রানের টাগেট রাখাটা ভাল। যেটা ভারত করল টস হেরে। বোর্ডে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়েই থামল তারা।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৫০ ওভারে করল ৩৩৬-৫। ভারতের টপ অর্ডারই এই বিরাট রান তুলে দিল এদিন। রবিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচ হওয়া নিয়েই সংশয় ছিল। প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল।

কিন্তু এই ম্যাচের উপর প্রকৃতিও আক্রোশ দেখাতে পারল না। যে দু'বার বৃষ্টি নামল তাতে ম্যাচের কোনও ক্ষতি হল না। ভারতের ইনিংসের শেষ দিকে আর পাকিস্তান ব্যাটিং শুরুর আগে।

এ দিন বিশ্বকাপে প্রথম ব্যাট করতে নেমেছিলেন লোকেশ রাহুল। রোহিত শর্মা যকন দারুণ ছন্দে ব্যাট চালাচ্ছেন তখন লোকেশকে দেখা গেল উইকেটে ধরে খেলতে। ৭৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেললেন তিনি। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন রোহিত শর্মা।

১১৩ বল খেলে যখন তিনি থামলেন তখন তাঁর নামের পাশে ১৪০ রান লেখা হয়ে গিয়েছে। তাঁর এই ইনিংস সাজানো ছিল ১৪টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। বিরাট কোহলি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠ ছাড়লেন ৬৫ বলে ৭৭ রান করে। পরে রিপ্লেতে দেখা গেল তিনি আউটই হননি।

এমএস ধোনি এ দিন মাত্র ১ রানই করলেন। যদিও ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড করে ফেললেন। বিজয় শঙ্কর ১৫ ও কেদার যাদব ৯ রান করে অপরাজিত থাকলেন। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে যতটুকু ভারতকে সমস্যায় ফেললেন সেটা মহম্মদ আমির। যদিও বিরাট কোহলির উইকেটটি বিরাটের ভুলেই পেলেন। একটি করে উইকেট নিলেন হাসান আলি ও ওয়াহাব রিয়াজ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মন্থর হলেও উইকেটে টিকে থেকে খেলছিলেন পাকিস্তানের দুই তৃতীয় উইকেট। ওপেনার ইমাম-উল-হককে সাত রানেই ফেরালেন বিজয় শঙ্কর। বল হাতে নেমেই ভারতকে প্রথম ব্রেক দিলেন তিনি। ফখৱ জামানের ব্যাট থেকে এল হাফ সেঞ্চুরি। ৭৫ বলে ৬২ রান করলেন তিনি। অল্পের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করলেন বাবর আজম, ৫৭ বলে ৪৮ রান করে আউট হলেন তিনি। দু'জনকেই পর পর ওভারে ফেরালেন কুলদীপ যাদব।

কুলদীপের পর বল করতে এসে একই ওভারে মহম্মদ হাফিজ (৯) ও শোয়েব মালিক (০)কে ফেরালেন হার্দিক পাণ্ড্যে। পরে আরও একটি উইকেট নেন বিজয় শঙ্কর। তাঁর বলে বোল্ড হয়ে যান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ (১২)। পাকিস্তান যখন ৩৫ ওভারে ১৬৬-৬ তখন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এর পর পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২। শেষ পাঁচ ওভারে পাকিস্তানকে করতে হত ১৩৬ রান। যা প্রায় অসম্ভবই ছিল।

শেষ ওভারে বল করতে আসেন হার্দিক পাণ্ড্যে। শেষ ওভারে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ৯৪ রান। ৪০ ওভারে পাকিস্তান থামে ২১২-৬-এ। ৮৯ রানে ম্যাচে হারের মুখ দেখতে হয় পাকিস্তানকে। ২০ রানে শাদাব খান ও ৪৬ রানে ইমাদ ওয়াসিম অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৫০ ওভারে ৩৩৬/৫ (রাহুল ৫৭, রোহিত ১৪০, কোহলি ৭৭, পান্ডিয়া ২৬, ধোনি ১, শঙ্কর ১৫*, কেদার ৯*; আমির ৩/৪৭, হাসান ১/৮৪, রিয়াজ ১/৭১, ইমাদ ০/৪৯, সাদাব ০/৬১, মালিক ০/১১, হাফিজ ০/১১)।

পাকিস্তান: ৩৫ ওভারে ১৬৬/৬ (ইমাম ৭, ফখর ৬২, বাবর ৪৮, হাফিজ ৯, সরফরাজ ১২, মালিক ০, ইমাদ ৪৬*, সাদাব ২০*; ভুবনেশ্বর ০/৮, বুমরাহ ০/৫২, শঙ্কর ২/২২, পান্ডিয়া ২/৪৪, কুলদিপ ২/৩২, চাহাল ০/৫৩)।

ফলাফল: বৃষ্টি আইনে ভারত ৮৯ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রোহিত শর্মা (ভারত)।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত