শিরোনাম

উপজেলা নির্বাচন‍: বিজয় চায় আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১১:৩৩, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনেও বিজয়ী হতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সদ্য সমাপ্ত একাদশ সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই আগামি মার্চে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষ উপজেলা নির্বাচন নির্দলীয় হলেও এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে।

এরইমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জেলা, উপজেলা পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা জেষ্ঠ্য নেতা, স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। দলের মনোনয়ন পেতে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপও।সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেককেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয় বা বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, তারা মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে। তাই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে ধরে নিয়েই উপজেলা নির্বাচনের কৌশল নির্ধারন ও প্রস্তুতি নেবেন তারা।

আগামী মার্চে দেশের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনার রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ইসি সবিচালয় এ লক্ষ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সারা দেশের মোট ৪৯৩টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করতে চলতি মাসের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের জন্য আমাদের দল প্রস্তুত। মাঠ পর্যায়ে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানও ভাল। মানুষ আমাদের আস্থায় নিয়েছে বলেই সংসদ নির্বাচনে বিজয় পেয়েছি।’

তিনি জানান, জেলা উপজেলায় যারা পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন, যাদের ভাবমূর্তি ভালো তারাই মনোনয়ন পাবেন। তবে উপজেলা ও জেলা কমিটির সুপারিশে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। কোথাও জোট শরীকদেরও যোগ্য প্রার্থী থাকলে তাদেরও মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত উপজেলা নির্বাচনেও বিজয় পেতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটে শরীক দলগুলো। তবে কেন্দ্র দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা কমিটির সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেবে। পাশাপাশি আসন্ন উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্রিক দলের কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে ও বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দলের কর্মকৌশলও শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।

উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোববার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের যৌথসভা হবে। এতে ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উল্লিখিত জেলাগুলোর সব উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের উপস্থিত থাকতে দল থেকে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, উপজেলা নির্বাচনে বিজয় পেতে হলে তৃণমূলে দলীয় কোন্দল মেটাতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তর অমান্য করে যারা প্রার্থী হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় শাস্তি নেয়া হবে। সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্তত ৩০ টি সংসদীয় আসনে সরকার দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা অংশ নেয়। এজন্য উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কেউ যাতে নির্বাচনে অংশ না নেয়, সেজন্য সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় এবং জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্র থেকে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দলীয় কোন্দল মেটাতেও জেলা কমিটি গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দলীয় কোন্দলের কারণে উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে যেন খেসারত দিতে না হয়, সেজন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দলীয় কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

দলের নীতিনির্ধারকরা জানান, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আট সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা নির্বাচনের কার্যক্রম গুছিয়ে আনবেন। পরে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে ১৮ সদস্যের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় চার যুগ্ম সম্পাদক ও আট সাংগঠনিক সম্পাদক পৃথক পৃথক বিভাগ ও জেলার দায়িত্বে থাকবেন। তবে কে কোন বিভাগের দায়িত্বে থাকবেন এখনও তা চূড়ান্ত করা হয়নি। নিতহ মদনপুরের প্যানডেক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন। এই সময় আহত হয়েছেন চার পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে সাড়ে ৮টায় ওয়ারেন্টভুক্ত বিভিন্ন মামলার আসামি ধরতে বন্দর থানা পুলিশ মদনপুরের চাঁনপুরে অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃতরা স্থানীয় খলিল মেম্বারের সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে খলিল মেম্বারের সমর্থকরা দেশি অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা পুলিশের দুটি গাড়িও ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ, মোহনসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে খবর পেয়ে রাতেই অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এক ঘণ্টা পর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত