শিরোনাম

পররাষ্ট্র সচিবকে নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিলো যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:১৭, জানুয়ারি ০৩, ২০১৯

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

বুধবার (০২ জানুয়ারি) নির্বাচনের তিন দিন পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিবের অফিসে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন মিলার। আলোচনার শুরুতে সচিব এবং রাষ্ট্রদূত একান্তভাবে কথা বলেন এবং পরে অন্য কর্মকর্তারা যোগ দেন।

জানা যায়, বৈঠকের ১২ ঘণ্টা আগে নির্বাচন নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই বিবৃতিতে জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি এবং সব দলের অংশগ্রহণের প্রশংসা করার পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মিলার যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাদের বিবৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে দিয়েছেন।’ ‘যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতাসহ অন্যান্য মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়; যা তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করে। আমরা তাদের কথা শুনেছি এবং যথাযথ উত্তর দিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রর বিবৃতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং আমরা আশা করি, এটি সামনের দিনগুলিতে আরও বাড়বে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তার বিবৃতিতে বলেছে, তারা সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।’

এর আগে মঙ্গলবার (০১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সবধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেন, ‘ গেল ৩০ ডিসেম্বর সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোটারের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সব দলকেও ধন্যবাদ জানায়। ২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কট পরিস্থিতির পর এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে।’

সফলভাবে নির্বাচন আয়োজনের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ভবিষ্যত ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গভীরভাবে বিনিয়োগ করতে চায়।

পালাদিনো বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, অনেক বাংলাদেশিও মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।’ ‘এই মর্মে আমরা বলতে চাই যে, নির্বাচনের আগে আমরা হয়রানি ও সহিংসতার নির্ভরযোগ্য খবর পেয়েছি। এতে করে অনেক বিরোধী দল ও তাদের সমর্থকদের স্বাধীনভাবে সভা, মিছিল ও প্রচারণা কঠিন হয়ে যায়। তারা আরও জানান, নির্বাচনের দিন কিছু অনিয়ম ও ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার খবরে তারা উদ্বিগ্ন। এতে করে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে’ ।

রবার্ট পালাদিনো বলেন, ‘আমরা সবপক্ষকে সহিংসতা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাই এবং নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করি, যেন সবাইকে নিয়ে অনিয়মের দাবিগুলো খতিয়ে দেখা হয়।’ ‘অর্থনৈতিক উন্নতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব রেকর্ড রয়েছে। আমরা ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত