শিরোনাম

ধানের শীষের টিকিট পেলেন যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৩:৩২, নভেম্বর ২৬, ২০১৮

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চিঠি দেয়া শুরু করেছে বিএনপি। সোমবার (২৬নভেম্বর) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনের মনোনয়নের চিঠি তার প্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়।

কৌশলগত কারণে কোনো কোনো আসনে একাধিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে এ উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। পরে বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিঠি দিয়ে মনোনয়নপ্রাপ্তদের চিঠি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। মনোনয়ন ফরমে সই করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি গ্রহণ করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এর আগে অসুস্থতাজনিত কারণে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ারকে বরিশাল-৫ আসনের মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। প্রথমে বরিশাল বিভাগের চিঠি বিতরণের পর সন্ধ্যায় রংপুর বিভাগ এবং রাতে দেওয়া হবে রাজশাহী বিভাগের চিঠি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির বলেন, ঘোষিত বিভাগগুলোর মনোনয়ন বিতরণ শেষ করে যদি সময় থাকে তাহলে রাতে অথবা মঙ্গলবার সকালে বাকি বিভাগের চিঠি দেওয়া হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি আসনে দুইজন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিচ্ছি। কোনো কারণে একজনের না হলে পরেরজন যাতে সুযোগ পান। আর আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেখানে যারা আছেন, সেখানে তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন।”

ফখরুল বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা আন্দোলন সৃষ্টি করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে চাই, জনগণের ভোটাধিকার ফেরত আনতে চাই। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তার প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। যাতে স্বৈরাচার দূর করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে পারি।

এসময় বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্ট থেকে সাত দফা দাবি দিয়েছি তা আদায়ে জনগণের সঙ্গে আলোচনা করেছি, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসেছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।

এখন পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নের চিঠি যারা হাতে পেয়েছেন:

রংপুর বিভাগ
পঞ্চগড়
পঞ্চগড়-১: নওশাদ জমির, তৌহিদুল ইসলাম
পঞ্চগড়-২: জাহিদুর রহমান, ফরহাদ হোসেন আজাদ

ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও-১: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ঠাকুরগাঁও-২: মো. আবদুস সালাম, জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা
ঠাকুরগাঁও-৩: জাহিদুর রহমান, জিয়াউল ইসলাম জিয়া

দিনাজপুর
দিনাজপুর-১: মঞ্জুরুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ চৌধুরী
দিনাজপুর-২: সাদিক রিয়াজ
দিনাজপুর-৩: জাহাঙ্গীর আলম, মোফাজ্জল হোসেন দুলাল
দিনাজপুর-৪: আক্তারুজ্জামান মিয়া, হাফিজুর রহমান সরকার
দিনাজপুর-৫: এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, এস এস জাকারিয়া বাচ্চু
দিনাজপুর-৬: মো. লুৎফুর রহমান, সাহিদুল ইসলাম শাহীন

নীলফামারী
নীলফামারী-১: রফিকুল ইসলাম, ন্যান্সি রহমান কবির
নীলফামারী-২: শামসুজ্জামান জামাল, কাজী আক্তার জামান
নীলফামরী-৩: ফাহমিদা ফয়সাল কমেট চৌধুরী
নীলফামারী-৪:

লালমনিরহাট
লালমনিরহাট-১:
লালমনিরহাট-২: সালাউদ্দিন হেলাল
লালমনিরহাট-৩: আসাদুল হাবিব দুলু

রংপুর
রংপুর-১: মোশাররফ হোসেন সুজন
রংপুর-২: ওয়াহিদুজ্জামান মামুন, মোজাফফর আলী
রংপুর-৩: রিটা রহমান (পিপিবি), মোজাফফর আহমদ
রংপুর-৪: এমদাদুল হক ভরসা
রংপুর-৫: সোলায়মান আলম, ডা. মমতাজ
রংপুর-৬: সাইফুল ইসলাম

কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম-১: মো. সাইফুর রহমান রানা ও তার স্ত্রী শামিমা রহমান আপন
কুড়িগ্রাম-২: সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, আবু বকর সিদ্দিক
কুড়িগ্রাম-৩: তাজভীরুল ইসলাম, আবদুল খালেক
কুড়িগ্রাম-৪: আজিজুর রহমান, মোখলেছুর রহমান

রাজশাহী বিভাগ
জয়পুরহাট
জয়পুরহাট-১: ফয়সাল আলিম
জয়পুরহাট-২: ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা

বগুড়া
বগুড়া-১: মো. শোকরানা
বগুড়া-২:
বগুড়া-৩:
বগুড়া-৪: ডা. জিয়াউল হক মোল্লা
বগুড়া-৫: জি এম সিরাজ
বগুড়া-৬: খালেদা জিয়া
বগুড়া-৭: খালেদা জিয়া

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: মো. শাহজাহান মিয়া, বেলাল বাকী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: আনোয়ারুল ইসলাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: আবদুল ওয়াহেদ, হারুনুর রশীদ

নওগাঁ
নওগাঁ-১: সালেক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদ রানা
নওগাঁ-২: শামসুজ্জামান খান, খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী
নওগাঁ-৩: রবিউল আলম বুলেট, পারভেজ আরেফীন সিদ্দিকী জনি
নওগাঁ-৪: শামসুল আলম প্রামানিক, একরামুল বারী টিটো
নওগাঁ-৫: জাহিদুল ইসলাম, নজমুল হক সনি
নওগাঁ-৬: আলমগীর কবির, শেখ রেজাউল ইসলাম

রাজশাহী
রাজশাহী-১: আমিনুল হক
রাজশাহী-২: মিজানুর রহমান মিনু, সাঈদ হাসান
রাজশাহী-৩: মতিউর রহমান মন্টু, শফিকুল হক মিলন
রাজশাহী-৪: আবু হেনা, মো. আবদুল গফুর
রাজশাহী-৫: নাদিম মোস্তফা, নজরুল মণ্ডল
রাজশাহী-৬: আবু সাঈদ চাঁন, নুরুজ্জামান খান মানিক

খুলনা বিভাগ
মেহেরপুর
মেহেরপুর-১: মাসুদ অরুণ
মেহেরপুর-২: আমজাদ হোসেন

বরিশাল বিভাগ
বরগুনা
বরগুনা-১: মতিউর রহমান তালুকদার, নজরুল ইসলাম মোল্লা
বরগুনা-২: নুরুল ইসলাম মনি

পটুয়াখালী
পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী
পটুয়াখালী-২: শহীদুল আলম তালুকদার, সালমা আলম
পটুয়াখালী-৩: গোলাম মওলা রনি, হাসান মামুন, মো. শাহজাহান,
পটুয়াখালী-৪: এবিএম মোশাররফ হোসেন, মনিরুজ্জামান মুনির

ভোলা
ভোলা-১: আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি)
ভোলা-২: হাফিজ ইব্রাহিম, রফিকুল ইসলাম মনি
ভোলা-৩: হাফিজউদ্দিন আহমেদ, কামাল হোসেন
ভোলা-৪: নাজিমউদ্দিন আলম, মো. নুরুল ইসলাম

বরিশাল
বরিশাল-১: জহিরউদ্দিন স্বপন, আবদুস সোবহান
বরিশাল-২: সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, শহিদুল হক জামাল
বরিশাল-৩: জয়নুল আবেদীন, সেলিমা রহমান
বরিশাল-৪: মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, রাজীব আহসান
বরিশাল-৫: মজিবর রহমান সারওয়ার, এমাদুল হক চাঁন
বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান, রশিদ খান

ঝালকাঠি
ঝালকাঠি-১: শাহজাহান ওমর
ঝালকাঠি-২: রফিকুল ইসলাম জামাল, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জেবা খান

পিরোজপুর
পিরোজপুর-১: জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে
পিরোজপুর-২: জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে
পিরোজপুর-৩: রুহুল আমিন দুলাল, শাহজাহান মিয়া

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী,মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। আর প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিএনপির মনোনয়নের চিঠি নিতে সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন। তাদের অনেকেই প্রত্যয়নপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন পাওয়ার কথা বলেছেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটসঙ্গীরা মিলিয়ে মোট ১২টি দল ওই নির্বাচনে অংশ নেয়।

অধিকাংশ দলের ভোট বর্জনের ফলে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে, অন্যদিকে নবম সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সংসদের বাইরে ছিটকে পড়ে। তার আগে ২০০৮ সারের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট একসঙ্গে ভোট করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি ৩০, জামায়াতে ইমলামী ২ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি আসন পায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত