শিরোনাম

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ১৮নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৬:১১, নভেম্বর ১৬, ২০১৮

আগামী রোববার (১৮নভেম্বর) ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুরু হবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনার মধ্যেই প্রতিটি আসনের জন্য ফরম কেনা নেতাদেরকেই ডেকেছে দলটি। রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় -১ আসন দিয়ে সাক্ষাৎকারটি শুরু হবে বলে জানান বিএনপির মুখপাত্র। এদিন রাজশাহী বিভাগের সাক্ষাৎকার নেয়া হবে। এ সময় মহানগর, জেলা, উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে গত সোমবার থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে ফরম বিক্রি শুরু করে বিএনপি। আজ শেষ হচ্ছে এই প্রক্রিয়া। প্রথম তিন দিনে ফরম বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৭২। আওয়ামী লীগ বিক্রি করেছে চার হাজার ২৩টি।

রিজভী তার সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন। তার অভিযোগ, তফসিল ঘোষণার পরও মন্ত্রী-এমপিরা নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন, বক্তব্য রাখছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রকার আচরণবিধি তৈরি হয়নি।

‘পুরো নির্বাচন ব্যবস্থায় জগাখিচুড়ি অবস্থা বিরাজ করছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন না ঘটিয়ে বরং সরকারবিরোধীদেরকে নানাভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও নির্বাচন কমিশন থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং নির্বাচন কমিশনকে নানাভাবে ব্যবহার করছে সরকার।’

নির্বাচন কমিশন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘সময় থাকতে আপনারা পরিবর্তন হন, তা না হলে জনগণ আপনাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’ ‘নির্বাচন ভবনটি আজ আওয়ামী লীগের অফিসে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্দেশেই পরিচালিত হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা।’

নির্বাচন কমিশন ৫ জানুয়ারির মতোই আরেকটি ‘একতরফা’ ও ‘প্রহসনমূলক’ নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রিজভীর। তার দাবি, নির্বাচনে সরকারি দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে বর্তমান কমিশন। সরকার আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে বিরোধী দলকে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে না।

‘সরকারের নির্দেশ প্রতিফলনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত নির্বাচন ভবনে অফিস করছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন এই মুস্তাফিজুর রহমান বাবলা। এই বাবলার ভয়ে তটস্থ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন স্তরের মেধাবী কর্মকর্তারা।

গোপনে তথ্য না দিলে তাদেরকে সরকারবিরোধী লোক বলে অভিযুক্ত করে বদলিসহ নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে থাকেন তিনি।’ কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আছে রিজভীর।

তিনি বলেন, ‘এই ফরহাদ আহমেদ খান সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগী। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার আগের দিন পুলিশের আইজিকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সভা-সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল, সেই চিঠি স্বাক্ষরকারী এই ফরহাদ আহমেদ খান। ফরহাদ ও বাবলা যৌথভাবে আজ্ঞাবহ ইসি ও সরকারে নানা ধরণের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত