শিরোনাম
হবিগঞ্জ-৪ আসনের হালচাল

আওয়ামী লীগে এগিয়ে তরুণরা বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:১৬, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপে ভাসছে চায়ের দেশ খ্যাত হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট)। আসনটিজুড়ে শোভা পাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। প্রতিনিয়ত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে দলটির একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে দলটির দুই তরুণ প্রার্থী। অংশগ্রহণকৃত প্রতিটি নির্বাচনেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জেলাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হওয়ায় দলীয় প্রতীক নৌকা প্রাপ্তিকে বিজয় হিসেবে দেখছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাই একজন আরেকজনকে পেছনে ফেলে নৌকার মাঝি হতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে, আসনটি নিজেদের দখলে আনতে চায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে দলটির এ লক্ষ্যপূরণে বাধা একাধিক প্রার্থী। মাধবপুর-চুনারুঘাট উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪। আসনটির মোট ভোটার চার লাখ ২২ হাজার ৬২৩ জন। এর মধ্যে চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ৩৩১ ভোটার ও মাধবপুর উপজেলায় রয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ২৯২ ভোটার। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে আসনটি হতে জাতীয় পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে এবং ১৯৭৩, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদ। ৬ বারের এ সংসদ সদস্যের হাত ধরেই এখানকার আওয়ামী লীগ শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে আসনটি হতে সংসদ সদস্য হন অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। লবিং-গ্রুপিং করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। এদিকে, আসনটিজুড়ে বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির একাধিক প্রার্থী। এর মধ্যে তরুণ দুই প্রার্থী উঠে এসেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এরা হলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম এনামুল হক মোস্তফা শহীদের ছেলে নিজামুল হক মোস্তফা শহীদ রানা। সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন নিয়মিত আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকাসহ সামাজিক কর্মকাণ্ডে আসনটির সব বয়সি মানুষের আপনজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। কর্মজীবনের সুবাদে ঢাকায় থাকলেও সপ্তাহে অন্তত দুদিন তিনি মাধবপুর-চুনারুঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তরুণ এ নেতার সমাজ উন্নয়নে ব্যতিক্রমধর্মী নানা উদ্যোগের কারণে স্থানীয় যুব সম্প্রদায় তার পক্ষে একাট্টা হয়ে উঠেছে। ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গোটা আসনজুড়েই উন্নয়নের ছাপ রেখে চলেছেন। এছাড়া নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন দুর্নীতি-অসঙ্গতি নিয়ে লাইভ প্রোগ্রাম করে শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছেন। প্রায় প্রতিটি লাইভে তুলে ধরছেন স্থানীয় প্রশাসনের অসঙ্গতি, আর যার কারণে খেসারত দিতে হচ্ছে সরকারকে। এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তথ্য মতে, এলাকার যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে তিনি ২১টি ব্রিজ ও ৫টি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। ব্যক্তিগত অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন আরও ৪০টি রাস্তা। জনপ্রতিনিধি না হয়েও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাতছড়ি টিপরা পল্লীতে নদী ভাঙন রোধ, বিভিন্ন স্কুলে ২৭০টি ফ্যান প্রদান, ৫০টি মসজিদে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অনুদান, গরিব শিক্ষার্থীদের আর্থিক-চিকিৎসা সহযোগিতা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫০টি হুইল চেয়ার প্রদান করেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় ২০ হাজার গাছের চারা বিতরণ ও বিশুদ্ধ পানির জন্য ৬০টি নলকূপ প্রদান করেছেন। এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে শিশুদেরকে ১ হাজার খেলার সামগ্রী বিতরণ, ৫টি খেলার মাঠ মেরামত ও বঙ্গবন্ধুর নামে ৫টি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা ডিজিটালাইজেশনের স্বার্থে ১০০টি মোবাইল প্রদানসহ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়েছেন। এসব কর্মকা-ে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শ্রমিকের মতো প্রতিটি কাজে থাকেন অগ্রভাগে।পিতা এনামুল হক মোস্তফা শহীদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শক্তিশালী ভিত কাজে লাগিয়ে আসনটি হতে সাংসদ হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন নিজামুল হক রানা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তরুণ এ আওয়ামী লীগ নেতা। এছাড়া আসনটি হতে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ মো. মুসলিম, মাধবপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মো. আকবর হোসেন জিতু। ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন বলেন, ১৮ বছর ধরে আমি এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে আমি ইবাদত মনে করি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জন্মভূমি ও এর বাইরের উন্নয়নে সর্বসাধ্য দিয়ে চেষ্টা করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুযোগ দিলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে হলেও মর্যাদা রক্ষা করবো। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম বলেন, নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন, আশা করি নেত্রী মূল্যায়ন করবেন। বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী বলেন, নির্বাচিত হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার বাবাও (মওলানা আসাদ আলী) প্রাক্তন সংসদ সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে পারিবারিকভাবেই আমরা দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আশা করি নেত্রী আবারো মূল্যায়ন করবেন। এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থীদের প্রকাশ্যে তেমন তৎপরতা নেই। তবে ভেতরগতভাবে দলটির একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নামবেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার শিপা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী। আলোচনায় আছেন ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা অধ্যাপক আবদুল কাদির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হবিগঞ্জ জেলা শাখার আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হেভিওয়েট এসব প্রার্থী হতে একজন চূড়ান্ত করা কঠিন হবে বিএনপির জন্য। তবে একক প্রার্থী নিশ্চিত না হলে জয়ের রাস্তাও কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া আসনটি হতে জাতীয় পার্টির হয়ে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী শাহীন, জেলা আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাউছার উল-গনি নির্বাচনে অংশ নেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত