শিরোনাম
ঢাকা-১৭ আসনের হালচাল

আ.লীগের চিন্তায় জোট-মহাজোট ফিরতে মরিয়া বিএনপি

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:২৮, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন হলেও ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় সংসদ সদস্য পায়নি আওয়ামী লীগ। জোট-মহাজোটের হিসাব কষে আসনটি দুবারই ছাড় দিয়েছে দলটি। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আসনটি নিয়ে জোট-মহাজোটের হিসাব কষছে দলটির হাইকমান্ড। যদিও স্থানীয় নেতাকর্মী চান, আগামীতে নিজ দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। শেষ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগ পর্যন্ত। অন্যদিকে, আসনটি নিয়ে অনেকা কৌশলী ভূমিকায় রয়েছে রাজনৈতিক মাঠের শক্ত প্রতিপক্ষ বিএনপি। আসনটি নিজেদের দখলে আনার পরিকল্পনা করছে দলটি। বিরোধী শিবিরের প্রার্থী নির্ধারণ এবং দলের মধ্যে ও স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে চায় তারা। রাজধানীর অভিজাত এলাকার গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাসানটেক থানা নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড আসনের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এলাকাটি ঢাকা-৫ আসনের মধ্যে ছিল। ওই নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। ফলশ্রুতিতে বিএনপির আসম হান্নান শাহকে পরাজিত করে সহজেই জয় ছিনিয়ে নেন এরশাদ। ২০১৪ সালে এরশাদ ঢাকা-১৭সহ রংপুরের আরও দুটি আসনে প্রার্থী হন। কিন্তু নানা নাটকীয়তার পর ভোটগ্রহণের আগেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে জয়লাভ করেন। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এসএম আবুল কালাম আজাদ। তিনি নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে সাংসদ হওয়ার পর স্থানীয়রা তেমন কাছে পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ আসনটি হতে এবারো প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ইতোমধ্যে আসনটি তার এবং দল জাতীয় পার্টির শক্ত অবস্থান গড়ে উঠেছে। বিএনপি আসলে মহাজোটের এবং না আসলে জাতীয় প্রার্থীর হয়ে এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। চূড়ান্ত রূপ দেখতে অপেক্ষা করতে হবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা আগ পর্যন্ত।আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আসনটি হতে সাংসদ হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন সাবেক বিএনপিনেতা ও মন্ত্রী, বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসন হতে তিনি একাধিকবার সাংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যও হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন হতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দশম জাতীয় নির্বাচনের পর হতেই তিনি আসনটির হাল ধরতে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।সম্প্রতি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এ বিএনপিনেতা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ঢাকা-১৭ আসন হতে এমপি হয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।গত দশ বছরে আসনটিতে নিজেদের কোনো প্রার্থী না থাকায় এবার নিজেদের দখলে নিতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চায় দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে মহানগরের কয়েকজন নেতা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এরা হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ কাদের খান, কোষাধ্যক্ষ ওয়াকিল উদ্দিন, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব একেএম জসিম উদ্দিন। এছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল লতিফ মল্লিক এবং জাসদের (ইনু) মীর হোসাইন আখতার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।একেএম জসিম উদ্দিন আমার সংবাদকে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণীত হয়ে ১৯৬৬ সাল থেকে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছি। প্রত্যেক রাজনীতিবিদের স্বপ্ন পার্লামেন্ট মেম্বার হওয়া। তাই আমিও স্বপ্ন দেখি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাছে নিজেকে আরও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পার্লামেন্টে যেতে চাই। দলের প্রতি আমার যে ত্যাগ তা বিবেচনা করলে ইনশাআল্লাহ দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।এমএ কাদের খান বলেন, দীর্ঘদিন আসনটিতে দলীয় প্রার্থী না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই এখানকার নেতাকর্মীরা আমাকে আগামীতে নৌকার প্রার্থী হিসেবে চায়। আশা করি নেত্রী মূল্যায়ন করবেন। ওয়াকিল উদ্দিন বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন চাই, আশাকরি পাবো ইনশাল্লাহ। কারণ এখনকার মানুষ আমার সঙ্গে আছে। মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেত্রী নেবেন, তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, আমরা তাই মেনে নেব। অন্যদিকে, আসনটি ঘিরে বিএনপির প্রকাশ্যে কোনো তৎপরতা না মিললেও ভেতরগত প্রস্তুতি চলছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনটি আর হাতছাড়া করতে চায় না দলটি। আগামীতে আসনটি নিজেদের দখলে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এজন্য প্রার্থী নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, তার ছেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং গুলশান থানা বিএনপিনেতা কামাল জামান মোল্যা। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এ আসন হতে প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তাবিথ আউয়াল রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। পরিবারের আস্থাভাজন হওয়ায় তাদের দুজনের যে কাউকে প্রার্থী করা হতে পারে মনে করছেন সমর্থকরা। সেনাবাহিনীর জিওসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং চাকরিকালীন সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় ও তার পরিবারের সঙ্গে আস্থাভাজন হিসেবে মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরীরও স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত