শিরোনাম
ময়মনসিংহ-২ আসন (ফুলপুর-তারাকান্দা)

আসন ধরে রাখতে মরিয়া আ’লীগ, পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় বিএনপি

এস.ইউ.সোহান, তারাকান্দা (ময়মনসিংহ)  |  ১২:৪০, অক্টোবর ১১, ২০১৮

ময়মনসিংহ-২ আসনের এই উপজেলায় ২টি থানা, একটি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন গঠিত তারাকান্দা-ফুলপুর নির্বাচনী এলাকা। এই আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি একাধিক। বিএনপিতে ৩ প্রার্থী। মরহুম এম শামছুল হক এ আসন থেকে ৫বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখানে আওয়ামী লীগে গ্রুপিং থাকলেও দলের স্বার্থে ঐক্যের জায়গাটি সুসংহত করার নজির আগেও দেখিয়েছে দলটি। আসন্ন নির্বাচনেও তা ফুটে উঠবে বলে দৃঢ় আশাবাদী তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। আর দলীয় ঐক্যের পথ ধরে আসনটি আগামীতেও আওয়ামী লীগের কব্জায় থাকবে বলে মনে করেন নেতারা। অপরদিকে বিএনপি গ্রুপিং কোন্দলের কারণে সুবিধা করতে পারছেনা বিএনপি। গ্রুপিং কোন্দল না থাকলে ফুলপুর-তারাকান্দা হতো বিএনপির ঘাঁটি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন সাবেক এমপি মরহুম শামছুল হকের ছেলে শরীফ আহমেদ। ভোটবিহীন নির্বাচনে এমপি হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রবীণ কিছু নেতাকর্মীর সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দুর্দিনে হালধরা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতাকর্মীরা ছোট ছোট দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলাল, শাহ কুতুব চৌধুরী, এড. ফজলুল হক, ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে বিএনপি ময়মনসিংহ (উ.) জেলা বিএনপির সিনযির যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি শাহ শহীদ সারোয়ার, ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দসহ কয়েকজন নেতার দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতায় নেতায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে কর্মী-সমর্থকরা। মোতাহার হোসেন তালুকদার ও আবুল বাসার আকন্দ আ’লীগ বিরোধী আন্দোলনে বিস্ফোরক মামলার আসামী হয়েছেন। মামলা হওয়ার পরও মোতাহার হোসেন তালুকদার আ’লীগ বিরোধী আন্দোলনে মাঠে থাকলেও। অনেকেই মামলা ও হামলা থেকে রক্ষা পেতেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বলে নেতা-কর্মীরা জানান।

বিভিন্ন সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, ময়মনসিংহ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বর্তমান এমপি ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক শরীফ আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি হায়াতোর রহমান খান বেলাল, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ, তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ কুতুব চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম ফেরদৌস জিলু।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহ (উঃ) জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক তারাকান্দা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, ফুলপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার, ময়মনসিংহ (উঃ) জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ফুলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আবুল বাসার আকন্দ।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, সম্ভাব্য এসব প্রার্থী তৃণমূলে গণসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সবুজ সংকেতের অপেক্ষা করছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও একবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জননেতা মরহুম এম. শামছুল হকের জ্যেষ্ঠ পুত্র শরীফ আহমেদ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উঠতি বয়সের তরুণ যুবক আর সদ্য ভোটার হওয়া তারুণ্যের ঝলকে তিনি উদ্ভাসিত। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলীয় বিশৃঙ্খলা নিরসন করে সুষ্ঠু নির্বাচনে আবারো এমপি হবেন বলে তিনি আশাবাদী।

এলাকার উচ্চ শিক্ষিত ও সদালাপী মানুষ হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার আবুল কালাম আজাদ। গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রথম দিকে খুবই মজবুত অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তিনি এবার মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত পল্লীতে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে আসছেন। তিনি ২০টি ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সাথে নিয়ে নৌকার পক্ষে জনমত গঠনের প্রয়াস চালাচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী সুপরিচিত নেতা হিসেবে ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন হায়াতোর রহমান খান বেলাল। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ২০১৪ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি অনেকটাই নিশ্চুপ হয়ে যান। ইদানীং নির্বাচনী আলোচনায় নৌকা মার্কায় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন পেলে সুষ্ঠু নির্বাচনে তিনি আবারও এমপি হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তারাকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক এড. ফজলুল হক ইতঃপূর্বে দুইবার জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে পাননি। নৌকার দুর্দিনের কান্ডারি তিনিও আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে মাঠে পোস্টার, হ্যান্ডবিল ও লিফলেট ছড়িয়ে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ কুতুব চৌধুরী। কিন্তু কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে হায়াতোর রহমান খান বেলাল মনোনয়ন পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্টচিত্তে হায়াতোর রহমান খানের সহযোগী হয়ে নির্বাচনী কর্মকান্ড চালান। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি গণসংযোগ চালিয়ে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মনোনয়ন পেলে তিনি এমপি হবেন বলে আশাবাদী।

বিএনপি সূত্র জানায়, সারোয়ার জাতীয় পার্টি থেকে ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগদান করে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পান সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ শহীদ সারোয়ার। এ নির্বাচনে এম.পি নির্বাচিত হন তিনি।২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হায়াতোর রহমানের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন তিনি। স্থানীয় বিএনপি ও তার সাথে যোগ দেয়া জাতীয় পার্টি কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়ায় কোণঠাসা হয়ে পড়েন শাহ শহীদ সারোয়ার। এবং ১/১১ তে সংস্কার প্রন্তীতে নাম লেখান। বিএনপি’র চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার জেল হলেও মুক্তির জন্য আন্দোলন কর্মসূচি বেশির ভাগ পালন না করলেও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী করছেন।

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা বর্তমান ময়মনসিংহ (উ:) জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও তারাকান্দা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত। এবারও রাজপথে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একাদিক মামলার আসামি ও উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে বরখাস্ত হয়ে ছিলেন। ইতঃপূর্বে জাতীয় নির্বাচনে একাদিক বার প্রার্থী হয়েও মনোনয়ন পাননি তিনি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে তিনি বার বার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও কখনো বিদ্রোহী অবস্থান নেননি। তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, তরুণ নেতা হিসাবে জনসাধারণের মধ্যে রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে, এবারো মনোনয়নে রয়েছেন কৈন্দ্রীয় তালিকায়। আগামী নির্বাচনে তিনিই মনোনয়ন পাবেন দৃঢ়ভাবে আত্মবিশ্বাসী বলে তিনি এবার মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে ফুলপুর ও তারাকান্দার প্রত্যন্ত পলীতে নির্বাচনী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এড. আবুল বাসার আকন্দ, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী হিসেবে ফুলপুরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনিও আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত