শিরোনাম
ঢাকা-৮ আসনের হালচাল

বিএনপির আব্বাস পরিবার আ.লীগের ভরসা সাবের

প্রিন্ট সংস্করণ॥মো. রফিকুল ইসলাম  |  ০০:১৪, অক্টোবর ১১, ২০১৮

ঢাকা-৯ আসনজুড়ে চলছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আবহ। ভোটযুদ্ধে নামতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানামুখী তৎপরতার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে নির্বাচন প্রসঙ্গ। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা-কে জনগণের সামনে তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে জয়ের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হতে চান বর্তমান সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। তাই এই আসনে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছে বিএনপি। একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। ঢাকা-৯ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের নিয়ে চলছে বিশ্লেষণসহ নানা হিসাব-নিকাশ। পাড়া-মহল্লা, অলিগলি সবখানেই দেখা যায় প্রার্থীদের নির্বাচনির প্রচার-প্রচারণার ছাপ। নির্বাচনি এলাকায় ফেস্টুন, ব্যানার আর পোস্টারের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিজেদের আগ্রহের জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। রাজধানীর খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসন। দুই দলের মধ্যে পালাবদলের এই নির্বাচনি এলাকায় ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জয় পায় বিএনপি। বিপরীতে ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ১৪ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনেও রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এই আসনটি নৌকার দখলে থাকবে বলেই আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এই আসনে গত তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী। ক্লিন ইমেজের হেভিওয়েট এই নেতার ওপর আগামী নির্বাচনেও আস্থা রাখতে পারে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, এ আসন থেকে একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী। পরিবর্তনের নানা অঙ্গীকার নিয়ে তারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এরা হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশ প্রমুখ। তবে আগামীতেও সাবের হোসেন চৌধুরীর ওপর আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড আস্থা রাখছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। ঢাকা-৬ আসনকে দুই ভাগ করে ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ করা হয় নবম জাতীয় নির্বাচনের আগে। ২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শিরীন সুলতানাকে হারিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী জয় পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাপ্রতিন্দন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে এ আসনে (তৎকালীন ঢাকা-৬) আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মোজাফফর হোসেন পল্টু পরাজিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে হারিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সাবের হোসেন চৌধুরী জয়লাভ করেন। ২০০১ সালে মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন সাবের হোসেন চৌধুরী। রাজনৈতিক মাঠের শক্ত প্রতিপক্ষ বিএনপি নির্বাচনে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ঢাকা-৯ আসনে স্থানীয় নেতারা ভরসা রাখছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের ওপর। সাবেক নির্বাচনি এলাকা হিসেবে ঢাকা-৮ আসনেও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন মির্জা আব্বাস। সেক্ষেত্রে ঢাকা-৯ আসনে স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের অনুপস্থিতিতে প্রচারণায় নেমে আলোচনায় আসেন আফরোজা আব্বাস। এরপর মহিলা দলের সভাপতি হয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করেন। নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন ঢাকা-৯ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির সাবেক স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব। অন্যদিকে, এ আসন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনিই এককভাবে আলোচনায় আছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত