শিরোনাম
ঢাকা-৮ আসনের হালচাল

একক প্রার্থী চ্যালেঞ্জ বিএনপির পরিবর্তন চায় আ.লীগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জমান আজম  |  ১৮:২১, অক্টোবর ১০, ২০১৮

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-৮ নির্বাচনি এলাকা। এ আসনের অন্তর্ভুক্ত প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়, রাজনীতির সুতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা। যার কারণে দেশের রাজনৈতিক পালা-বদলে আসনটি খুবই গুরুত্ব বহন করে। জাতীয় নির্বাচনে আসনটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহ থাকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের। নগরীর রমনা, মতিঝিল, পল্টন, শাহজাহানপুর ও শাহবাগ থানা নিয়ে ঢাকা-৮ আসন গঠিত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত। আসনটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান। টানা দুই মেয়াদে আসনটি ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আসনটিতে নিজ দলের উল্লেখযোগ্য কর্মকা- না থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহায়তায় এবং নিজের ব্যক্তিত্ব কাজে লাগিয়ে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এ আসন হতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রাশেদ খান মেনন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাবিব উন খান সোহেলকে পরাজিত করে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন তিনি। ২০১৪ সালে বিএনপি অংশ না নেয়ায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জোটের প্রার্থী হিসেবে আবারো জয়লাভ করে। এরপর প্রথমে সরকারের বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী, পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এ প্রবীণ রাজনীতিবিদ। এদিকে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মেননকে দেখতে চান না স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এবার জোটের নয়, নিজ দলীয় প্রার্থী চান নেতাকর্মীরা। তাই নির্বাচনে অংশ নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন দলটির একাধিক হেভিওয়েট নেতা। তারা নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্যা আবু কাউসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার কামাল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার. ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন সম্রাট। তবে এসব প্রার্থীরা সকলেই ভরসা রাখছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ওপর। তিনি যাকে মনোনয়ন দিবেন তার হয়েই কাজ করবেন তারা। সূত্র মতে, ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে শেষ হাসি হাসবেন রাশেদ খান মেননই। তাকেই জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে। বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, টানা দুই মেয়াদে ঢাকা-৮ আসনের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছি। আগামীতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গেই আছে। জোটের প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, আশা করছি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্যা আবু কাউসার জানান, দলের নেতাকর্মীরা এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চায়। নেত্রী সুযোগ দিলে আমি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত আছি। আমাকে প্রার্থী করা হলে আওয়ামী পরিবারের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিজয়ী করবে। এদিকে, এ আসন ঘিরে বিএনপিতে রয়েছে মতানৈক্য। আসনটিতে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও দলীয় প্রার্থী নিয়ে রয়েছে বিভাজন। আসনটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদের দুজনেরই আসনটিতে রয়েছে শক্ত অবস্থান। ১৯৯১ সালে এই আসনে (তৎকালীন ঢাকা-৬) আওয়ামী লীগের মোজাফফর হোসেন পল্টুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাসকে হারিয়ে এমপি হন আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী। ২০০১ সালে সাবের হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। সীমানা পুনর্বিন্যাসে ২০০৮ নির্বাচনে এলাকাটি ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই নির্বাচনে আইনি জটিলতায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। বিএনপি হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। ওই নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী রাশেন খান মেনন জয় পান। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আসার ঘোষণা না আসলেও দলের হয়ে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস ও হাবিব উন নবী খান সোহেল। দুজনই মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী এবং প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে গণমাধ্যমে কথা বলতে আগ্রহী নন এ দুই প্রার্থী। দল নির্বাচনে এলে এদের মধ্যে একজনকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। আইনি জটিলতায় এরা অংশ নিতে না পারলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু বা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামকে প্রার্থী করা হতে পারে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত