শিরোনাম

জয়পুরহাট-১ আসনে চলছে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচারণা

প্রিন্ট সংস্করণ॥গোলাপ হোসেন, জয়পুরহাট  |  ০১:৩৮, আগস্ট ০১, ২০১৮

জয়পুরহাটের দুটি আসনে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেমন আ.লীগ ধরে রাখার চেষ্টা করছে তেমনই আসন দুটি উদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে বিএনপি। জয়পুরহাটের দু’টি আসনেই ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একটানা দখলে রাখে বিএনপি। ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় নির্বাচনে জয়পুরহাটের দু’টি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করে। এ সকল নির্বাচনের ফলাফলকে ধরে বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হিসাব করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে আ.লীগের প্রার্থী অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলমকে ৩৪ হাজার ভোটে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী মোজাহার আলী প্রধান নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে দু’টি আসনেই আ.লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য যে, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ শুরু করেছেন পুরোদমে। যার কারণে জয়পুরহাট-১ আসনে আ.লীগ ও বিএনপির সাম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় নতুন মুখের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার উভয় দলের জন্য বর্তমানে বড় সমস্যা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা নিয়ে ক্ষুব্ধ একাংশ দলীয় অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। জেলা আ.লীগের মধ্যেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। দুইজন এমপি দুই দিকে অবস্থান। দলের মধ্যে চরম দ্বন্দ্বের বহি:প্রকাশ হিসেবে জেলা কমিটির বৃহৎ অংশের অনাস্থা প্রস্তাব বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছে। জয়পুরহাটের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো না গেলে কোন দলই আশানুরুপ ফলাফল করতে পারবে না বলে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ধারণা। জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-১ আসন। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ চালানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিয়িংও করেছেন মনোনয়নের আশায়। আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের সভাপতি এ্যাড. সামছুল আলম দুদু। এছাড়াও আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজ সেবক এ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও রেডক্রিসেন্টের ভাইস-চেয়ারম্যান এ্যাড. মোমিন আহমেদ চৌধুরী জিপি, জয়পুরহাট সদর উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির সহ-সভাপতি ও দোগাছী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়র ও জেলা আ.লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক এস এম সোলায়মান আলী, পাঁচবিবি পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পাঁচবিবি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শামছুল আলম, জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিএস জাকির হোসেন এবং সাবেক প্যানেল মেয়র শ্রমিক নেতা নন্দলাল পার্শীও আ.লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলেই বলেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দিবেন তারা তা মেনে নিবেন। জয়পুরহাট-১ আসনটি বিএনপির হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে না যাওয়া এবং জ্বালাও পোড়াও রাজনীতির কারণে বিএনপির ভোট কমেছে। আ.লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূখী কর্মকান্ডের জন্য তাদের ভোট বেড়েছে বলে মনে করেন জেলা আ.লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। এবার বিএনপি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরমধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমানে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুর রহমান এবার দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফয়সল আলীম ও জয়পুরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচবিবি উপজেলা সভাপতি আ. গফুর মন্ডল। অপর দিকে জামায়েতের ও শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। তারাও মাঠে ময়দানে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৩-১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংস ঘটনার কারণে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এসব মামলা নিয়ে বিএনপির নেতারা অনেকটা নাজুক অবস্থায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদের ঘটনা। এসব কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই বেশ সংশয় রয়েছে। আ.লীগের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হলে জোটের প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক তিতাস মোস্তফা। আর জোট না হলেও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হবেন তিনি। গত নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচনও মহাজোটের ব্যানারে হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান জেলা জাপার সভাপতি হেলাল উদ্দিন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত