শিরোনাম

টংগিবাড়ী উপজেলায় যে কারণে হারলো নৌকা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবু হানিফ রানা, মুন্সীগঞ্জ  |  ০৫:৩৩, এপ্রিল ০৯, ২০১৯

গত ৩১ মার্চ টংগিবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জগলুল হালদার ভুতুর কাছে প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এই পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করতে হলে টংগিবাড়ীর আওয়ামী লীগ রাজনীতির পেছনের ইতিহাস জানতে হবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এর্টনি জেনারেল মাহাবুবে আলমের পক্ষে ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জগলুল হালদার ভুতু, বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝি ও মানিক মিয়া বাচ্চু মাঝি গং। অপরদিকে অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিনের পক্ষে ছিলেন- উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ, দুই ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভিন ও রুবেল খান। সাগুফতা ইয়াসমিন মনোনয়ন পাওয়ার পরে মাহবুবে আলম গ্রুপের ভুতু হালদার, লিটন মাঝি ও বাচ্চু মাঝিরা চেয়েছিলেন সাগুফতা ইয়াসমিন পরাজিত হোক। তারা নির্বাচনে একদিনও নৌকার প্রচারণায় অংশ নেননি। তারা চেয়েছিলেন কাজী ওয়াহিদ ও নৌকার পক্ষে নির্বাচন না করুক। কিন্তু সাগুফতা ইসয়ামিনকে নির্বাচনে জিতানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান কাজী ওয়াহিদ। আর তাতেই তিনি লুৎফর রহমান গংদের বিরাগ ভাজন হন। সে জন্য উপজেলা নির্বাচনে লিটন মাঝি গং কাজী ওয়াহিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অপপ্রচারে নামেন, যদিও জাতীয় নির্বাচনে তারা একদিনও নৌকার পক্ষে নামেননি। উপরে উল্লেখিত, নেতৃবৃন্দের হুমকি, দমকি, গালিগালাজ, সন্ত্রাসীর কারণে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা কাজী ওয়াহিদের পক্ষে মাঠে নামতে সাহস পাননি।জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কর্মীরা কেউ ভোট দিতে যেতে পারেননি। তখন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুতু হালদার শিবির কৌশলে রটিয়ে দেয় এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিশ্বাস করায় এটা কাজী ওয়াহিদ করিয়েছে। তাই টংগিবাড়ীর সকল বিএনপি ভোটার নৌকা ঠেকানোর প্রত্যয়ে ভুতু হালদারকে ভোট দেয়। যে কারণে মুন্সিগঞ্জ জেলায় ভোটার উপস্থিতির হার টংগিবাড়ীতে সব চেয়ে বেশি। ’৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে দিঘিরপাড়ে হালদার পরিবার ও সোনারং এর মল্লিক পরিবার চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার ছিল। দিঘিরপাড়ের আরব আলী হালদার ও সোনারং এর মজিবর মল্লিককে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা ও খুন-ধর্ষণ করায় মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধে তাকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কাজী ওয়াহিদকে পরাজিত করার জন্য আরব আলী হালদারের নাতি ভুতু হালদার ও মজিবর মল্লিকের ছেলে বাক্কার মল্লিকের নেতৃত্বে টংগিবাড়ীর সকল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি রাজাকার, বিএনপি ও জামায়াত ঐক্যবদ্ধ হয়। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ভোটার উপস্থিতির হার ও নৌকার বিরুদ্ধে ভোটার সংখ্যায়। ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাধারণ মানুষের সাথে ব্যাপক যোগাযোগ, গরিব দুঃখি মানুষের জন্য অনেক উপকার করা ও ১০ বছরের উন্নয়নের প্রেক্ষিতে উপরের তিন কারণ সামলিয়ে নির্বাচনের আগের দিনও এগিয়ে ছিলেন কাজী ওয়াহিদ। এলাকার অনেকের অভিযোগ- নির্বাচনের আগের দিন আসে চতুর্থ আঘাত। এদিন রাতে ভুতু হালদারের আনারস মার্কার পক্ষ থেকে প্রায় বিশ হাজার ভোটারের কাছে ৫০০-১০০০ করে টাকা পৌঁছে দেয়া হয় এবং এই টাকার কাছেই চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন কাজী ওয়াহিদ।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত