শিরোনাম

টিটুর মনোনয়নে উৎসবের নগরী ময়মনসিংহ

প্রিন্ট সংস্করণ॥সাখাওয়াত হোসেন, ময়মনসিংহ  |  ০১:৪৪, এপ্রিল ০৭, ২০১৯

তিনি ময়মনসিংহ পৌরসভার শেষ মেয়র। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনেরও (মসিক) প্রথম প্রশাসক। এবার তিনিই আগামী ৫ মে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রথম ভোটে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ‘নৌকার মাঝি’ হয়েছেন। বিতর্কমুক্ত, জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য এবং অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবেই তাকে বেছে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি ভোটে না থাকলেও নৌকা প্রতীক নিয়ে ‘গণজোয়ার’ তৈরি করতে সক্ষম এই প্রার্থীর নাম মো. ইকরামুল হক টিটু। এদিকে মেয়র টিটুকে মনোনয়ন দেয়ায় অন্যরকম এক আনন্দ আবহ তৈরি হয়েছে ময়মনসিংহ নগরীতে। শুধু দলীয় নেতাকর্মীরাই নয়- স্থানীয় সাধারণ মানুষও এই উৎসব-আনন্দে শামিল হয়েছেন। দফায় দফায় আনন্দ মিছিল, বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টি বিতরণসহ নানাভাবে তারা মেয়র টিটুর মনোনয়ন প্রাপ্তিকে উদযাপন করছেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইকরামুল হক টিটুকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয় ময়মনসিংহ। তার আগমনকে ঘিরে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার নিয়ে তাকে শহরতলী চুরখাই এলাকা থেকে স্বাগত জানায় দলীয় নেতাকর্মীরা। স্বতঃস্ফূর্ত নেতাকর্মীদের এমন আবেগ-উচ্ছ্বাসেআপ্লুত মেয়র ইকরামুল হক টিটুও। তিনি বলেন, মমতাময়ী নেত্রী আমাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি যদি নির্বাচিত হই, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। আমি ময়মনসিংহবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’গত শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ইকরামুল হক টিটুকেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। গত ২৫ মার্চ সিটি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল মোতাবেক, ভোটগ্রহণের তারিখ ৫ মে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৮ এপ্রিল, বাছাই ১০ এপ্রিল এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ এপ্রিল। মোট ১৩০টি কেন্দ্রে ভোট হবে ইভিএমে। এই বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নেন। আবারো তিনি এটা প্রমাণ করেছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। ময়মনসিংহবাসী তার এই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সাড়ে ৯ বছরে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র হিসেবে ইকরামুল হক টিটু কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা নিশ্চিতের পাশাপাশি ‘সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ’ ভিশন নিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপানে নিয়ে যান নগরীকে। পৌরসভার নাগরিকদের সঙ্গে স্থাপন করেন ‘ওয়ান টু ওয়ান’ রিলেশন’।দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের পাশাপাশি সাংগঠনিক ভিত্তিকেও মজবুত করতে নিরলস পরিশ্রম করেন। সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে স্থানীয় ভোটারদেরও প্রকাশ্য সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। এ ছাড়া মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তার ব্যাপক জনসংযোগ, প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে সংবর্ধনা, কনসার্ট এবং অমায়িক আচরণের মাধ্যমে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে একটি চমৎকার ইমেজ তৈরি করতে পেরেছেন। দলীয় সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নির্দেশে দলীয় জরিপ ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপসহ সবদিক থেকেই অন্য প্রার্থীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন ইকরামুল হক টিটু। মেয়র হিসেবে সফলতার সঙ্গে রেকর্ড সাড়ে ৯ বছরের ল্যান্ডমার্ক স্পর্শ করার পর তার কাজে মুগ্ধ হয়ে এবং পূর্ণ আস্থা রেখেই তার হাতেই প্রথম সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের চাবি তুলে দেয়া হয়। মূলত এটি ছিল দলীয় মনোনয়নের প্রথম ইঙ্গিত। তবে নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে আওয়াজ তুললেও প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীর পছন্দের তালিকায় অগ্রভাগেই ছিলেন মেয়র টিটু, এমন অভিমত দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের। ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহীনুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে ময়মনসিংহকে মডেল সিটি করপোরেশন হিসেবে রূপান্তর করতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইকরামুল হক টিটুর বিকল্প নেই। আমরা দলীয় সিদ্ধান্তের ফসল ঘরে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত