শিরোনাম

ভোট পার্সেন্টেজ ডাজ নট ম্যাটার: ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:৩১, মার্চ ২৪, ২০১৯

ভোটের পার্সেন্টেজ কত হলো তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘পার্সেন্টেজ ডাজ নট ম্যাটার। বিষয়টি হলো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে।’

রোববার (২৪ মার্চ) তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব এসব কথা বলেন। এ সময় ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহমেদ, এসএম আসাদুজ্জামান আরজু ও ইসির এনআইডির ডিজি বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রথম ধাপে উপজেলা নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় ধাপে পড়েছে ৪১ শতাংশ। তবে খাগড়াছড়ি জেলার ফলাফল বাদে এই পার্সেন্টেজ হিসাব করা হয়েছিল। তবে রাঙ্গামাটিসহ সব উপজেলাগুলোর ফলাফলে হিসাব করলে তা ৪৫ শতাংশ হবে। তবে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়বে বলে আমরা আশা করছি।’

নির্বাচনে ভোট কম পড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনে একটি জোট অংশগ্রহণ করেনি। তাদের ভোটাররা কেন্দ্রে আসেনি। আবার ওই জোটে ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার বিষয় প্রচারণা রয়েছে। সেটিরও প্রভাব রয়েছে।’

গত দুই দফায় ভোটের হার কম হওয়ায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমাদের দেশের কোনো আইন নেই, যে কত শতাংশ ভোট দিতে হবে বা গ্রহণযোগ্যতার জন্য কত শতাংশ ভোট পড়তে হবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘এ দফায় ২৫ জেলার ১১৬টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। অনিয়মের কারণে ১৪টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে কটিয়াদির নির্বাচন। সেখানে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত করে অন্যকারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ কনস্টেবল মারাত্মক আহত হয়েছেন। তিনি তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার আর্টারি ছিঁড়ে যাওয়ায় রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হেলিকপ্টারে করে এনে ভর্তি করানো হয়েছে। কেননা অন্য কোথাও এই চিকিৎসা নেই। সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন মনে করছেন, মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘রংপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর ও মেহেরপুর সদর এই চারটি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এতে মোট ৩৪০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ২১৩টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়। প্রযুক্তি সহায়তায় ভোটগ্রহণ করায় এসব কেন্দ্রে কোনো অনিয়মের সুযোগ কেউ পায়নি। মানুষ ইভিএমে ভোট দিয়ে আনন্দ পেয়েছে।’

ভোট শেষ, চলছে গণনা
বিকাল চারটায় ভোট শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা পরেও কেন ইভিএমের ফলাফল জানানো যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ভোট শেষ হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ইভিএমের ফলাফল প্রিন্ট দিতে পারি। কিন্তু ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে বিকাল ৪টার পরও ভোটার থাকেন। আইন অনুযায়ী তাদের ভোট নিতে হয়। এছাড়া ফলাফল সমন্বয় করে কেন্দ্রগুলো থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতেও কিছুটা সময় লাগে। তাই একটু বিলম্ব হয়।’

উল্লেখ্য, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে তিন ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের এবং ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত