শিরোনাম
নির্বাচনি দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে

বাঘাইছড়িতে ব্রাশফায়ারে নিহত ৭

মু. ইলিয়াস, রাঙ্গামাটি  |  ১৯:২১, মার্চ ১৮, ২০১৯

 

ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও নির্বাচনি দায়িত্ব পালন শেষে বাড়িতে ফেরার পথে রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীর গুলিতে সাতজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বাঘাইছড়ির সাজেকের ৯ কিলো নামক এলাকায় সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও পোলিং অফিসার আমির হোসেন, প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুল হান্নান, শিক্ষক আবু তৈয়ব এবং আনসার ও ভিডিপির সদস্য আলামিন, মিহির কান্তি দত্ত, জাহানারা বেগম ও বিলকিস। এ ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য, একজন শিশু, দুই নারী, তিন আনসার সদস্য রয়েছেন। হতাহতের পর গোটা জেলাজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের কংলাক এলাকায় ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে গাড়িতে করে ফিরছিলেন প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাঘাইছড়ির দিঘীনালা- মারিশ্যা সড়কের নয় কিলো নামক এলাকায় পৌঁছলে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন আনসার সদস্য ও একজন পোলিং অফিসার নিহত হন। আহত হন ২৬ জন। এরপর আহতদের মধ্যে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মনজুর বলেন, ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে গাড়িতে ফেরার পথে বাঘাইছড়ির ৯ কিলো নামক স্থানে দুর্বৃত্তের গুলিতে সাতজনের মৃত্যু হয়।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদিম সারওয়ার জানান, উপজেলার কংলাক, মাচালং ও বাঘাইহাটে উপজেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় একসঙ্গে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন নির্বাচনি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা নয় মাইল এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার চালায়। রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার আলমীর কবির জানান, এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। টহল বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ১১৬ উপজেলা নির্বাচন বড় ধরনের সংঘাত ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই

ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ৩ পার্বত্য জেলায় ভোটার উপস্থিতি ছিল বেশি। যে কোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে রাঙ্গামাটিসহ ৩ পার্বত্য জেলায় র্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে জেলাটির ২০৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ করে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা।

তবে কেন্দ্রে যেতে বাধা ও রাতে ব্যালটবাক্স ভর্তির অভিযোগে গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) চেয়ারম্যান প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা ও তিন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। নির্বাচনে বড়ঋষি চাকমা ও জেএসএস (এমএন লারমা) এর প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত