শিরোনাম

শুক্র গ্রহে প্রাণের দাবি রাশিয়া’র

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৫:৩০, মে ২৩, ২০১৮

পৃথিবীর প্রতিবেশী শুক্র গ্রহের তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বিজ্ঞানীরা ধারণাই করে নিয়েছেন যে, সেখানে প্রাণের সম্ভাবনা একেবারেই নেই। সৌরজগতে সূর্যের খুব কাছে বুধ গ্রহের অবস্থান। এরপরই রয়েছে শুক্র গ্রহ। আর তৃতীয় অবস্থানেই রয়েছে পৃথিবী। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মঙ্গল গ্রহ।

মঙ্গল এবং শুক্র গ্রহের মাঝে পৃথিবী থাকায়, এই দুনিয়ার বাসিন্দারা অপেক্ষাকৃত শীতল গ্রহের মাঝেই প্রাণের সম্ভাবনা খুঁজে চলেছেন। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং বিজ্ঞান সংস্থা যৌথভাবে দাবি করেছে, শুক্রগ্রহে প্রাণ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দাবির স্বপক্ষে তারা বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছে। যা গ্রহটিতে রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থার পাঠানো সিরিজ নভোযান ‘ভেরেনা’ পাঠিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রুশ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রস কসমস ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শুক্র গ্রহে ভেরেনা প্রকল্পের মাধ্যমে এই নামের নভোযান পাঠায়। যা উজ্জ্বল গ্রহটি সম্পর্কে নিয়মিত ভাবে নানা তথ্য পাঠায়। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও, সে সম্পর্কে দীর্ঘদিন কোনো তথ্যই প্রকাশ করেনি রাশিয়া।

তার চাইতেও বেশি আশ্চর্যের বিষয় যে, গোটা দুনিয়াকে অভিযান সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেই শুক্রগ্রহে একাধারে ভেরেনা সিরিজের ১৬টি নভোযান পাঠায় রসকসমস। রুশ ভাষায় ভেনাস বা শুক্র গ্রহের নাম ভেরেনা হওয়ায়, সরাসরি এই নামেই প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।

তবে রহস্যের বিষয় হচ্ছে, ১৯৮৩ সালে ভেরেনা সিরিজের সর্বশেষ যান ‘Venera 16’ পাঠানোর পর ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে পর পর দুটি মহাকাশযান পাঠায় রাশিয়া। ভেনাসের পরবর্তী সিরিজ ‘ভেগা’ নামের মহাকাশ যান দু’টি ডিসেম্বরের ১৫ এবং ২১ তারিখে মহাকাশে পাড়ি দেয়।

ভেরেনা’র পরবর্তী প্রকল্পটির লক্ষ্যবস্তু শুক্র গ্রহ হলেও এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল হ্যালির ধূমকেতু। কিন্তু নভোযান দুটি পরের বছরের জুনে লক্ষবস্তুতে পৌঁছালেও কি তথ্য পাওয়া গিয়েছিল তা জানায়নি রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। তবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুক্র গ্রহ এবং হ্যালির ধূমকেতু’র প্রচুর ছবি পাওয়া যায় বলে জানা যায়।

বলা হয়, ভেগা ২ শুধু হ্যালির ধূমকেতু’র ৭শ’ ছবি তুলেছিল। এছাড়া, চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত শুক্র গ্রহের ছবি তোলে ভেগা ২।সম্প্রতি ভেরেনা প্রকল্পের সেই সব ছবি সম্পর্কে মুখ খুলছে রুশ মহাকাশ সংস্থা। ভেরেনা প্রকল্পের কিছু ছবি প্রকাশ করে সংস্থা দুটি দাবি করছে, শুক্রগ্রহে জীবিত প্রাণী দেখা গেছে।

পূর্বে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ১শ’ থেকে দেড়শ’ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কোনো জীবের বেঁচে থাকা সম্ভব না। কিন্তু পরবর্তীতে পৃথিবীতেই এমন জীবাণু পাওয়া গেছে যা নেতিবাচক পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম। তা ১শ’ থেকে দেড়শ’ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলেও।

ফলে রুশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুক্র গ্রহের ৪৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলেও তা সহ্য করার মতো ক্ষমতা সে সব জীবের রয়েছে।গবেষণা দলে থাকা ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক লিওনিড কেশানফোমাল্টি গত ৩০ বছর ধরে শুক্রগ্রহের গোপন এসব ছবি পরীক্ষা করে আসছিলেন। এসব ছবি পরীক্ষা করে তিনি নিশ্চিত শুক্র গ্রহে আক্ষরিক অর্থে বুদ্ধিমান প্রাণী দেখা না গেলেও সেখানে প্রচুর জীবন রয়েছে।

ভেরেনা ১৩ নভোযানের পাঠানো একটি ছবি দেখিয়ে তার দাবি, প্রাণীটি গ্রহের ভূমিতে বহাল তবিয়তেই চলাফেরা করে থাকে। রোবটযানটির ছিল দুটি ক্যামেরা। একটি সামনে স্থাপিত ছিল এবং অন্যটি ছিল পেছনে। ফলে শুক্র গ্রহের ভূমির পরিস্থিতি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছে।

নাসা অবশ্য বলছে, শুক্র গ্রহে কোনো ভাবেই জীবিত প্রাণীর বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। অতীতেও গ্রহে কোনো জীবিত প্রাণী ছিল কিনা সে ব্যাপারেও নেতিবাচক মনোভাবই পোষণ করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। কিন্তু রাশিয়ার দাবি, গ্রহটিতে গিয়েই তারা প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত