শিরোনাম

দুর্দান্ত সব ছবি তুলতে বাজারের সেরা ১০ স্মার্টফোন

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ২০:৪৩, জুন ২৩, ২০১৯

স্মার্টফোন আসার পর ফটোগ্রাফিটাও একটি জনপ্রিয় আর্টে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক টুইটারে ঢুকলেই চোখে পড়ে অবাক অবাক ছবি। শুধু ছবি পোস্ট করেই সেলিব্রেটি হয়ে উঠছেন অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

ছবি তুলে সবাই কিন্তু সেলিব্রেটি হতে পারছেন না। দেখতে সুন্দর, কালারফুল ও কোয়ালিটিফুল একটি ছবি আপলোড করে নিজের হাতের ফোনটির জন্য গর্ব যেমন বাড়ে, ফলোয়ারদের কাছেও কদর পাওয়া যায় সহজে।

কিন্তু যেনতেন ফোন দিয়ে ছবি তুললে আনন্দের চেয়ে চেহারার গম্ভীরতাই বাড়ায় বেশি। হাতের স্মার্টফোনটির ক্যামেরা ভালো না হলে ফটো তোলার সেন্স যতই ভালো হোক সুন্দর একটি ছবি কিছুতেই ধরা পড়বে না ক্যামেরায়।

বাজারে বর্তমানে অনেক ধরনের স্মার্টফোন এসেছে। নানা অফারে বিক্রি হচ্ছে নানা ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। কিন্তু আপনি যখন একজন ফটোগ্রাফিপ্রেমী তখন কোন স্মার্টফোনটি আপনাকে বেশি স্বস্তি দেবে?

যেভাবে চিনবেন ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোন

ম্যাগাপিক্সেলের পরিমাণ দেখেই সাধারণত আমরা ক্যামেরার কোয়ালিটি ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু ম্যাগাপিক্সেল মূলত ক্যামেরার কোয়ালিটি নির্দেশ করে না। ম্যাগাপিক্সেল দ্বারা নির্ণয় করা হয় ছবির সাইজ।

ক্যামেরার কোয়ালিটি ভালো হয় মূলত অ্যাপারচার, আইএসও লেবেল, পিক্সেল সাইজ, অটো ফোকাস, ব্রাইটনেস, লো-লাইট পারফর্মেন্স, নয়েজ রিডাকশন ইত্যাদির কারণে।

তাই ভালো ক্যামেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাল ব্র্যান্ড ও মডেলের উপর নির্ভর করে। ভালো ক্যামেরা পেতে ভালো ব্র্যান্ডের দিকে মনোযোগ দেয়াই উচিত।

ক্যামেরার কোয়ালিটির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১০টি স্মার্টফোনের বর্ণনা দেয়া হলোঃ

যে ১০টি স্মার্টফোনের রিভিউ দেয়া হল সেগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। তবে, বিভিন্ন অনলাইনে সেগুলোর দামের তারতম্য রয়েছে। তাই, আমরা দাম উল্লেখ করলাম না। এখান থেকে কোন ফোন কেনার জন্যে মনস্থির করলে, দামটা আপনি দোকান থেকে কিংবা অনলাইনে জেনে নেবেন।

1. Google Pixel 2 / Pixel 2XL

ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোন হিসেবে আলোচিত এই ফোনটি বাজারে লঞ্চ করেছে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে। ফোনটির ব্যাক সাইডে রয়েছে ১২.২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট সাইডে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ব্যাক ক্যামেরাটির এপারচার এফ/১.৮ এবং ফোনটির অটোফোকাস টাইপ হলো ফেইজ ডিটেকশন ও লেজার। ফোনটির ওজন মাত্র ১৪৩ গ্রাম / ১৭৫ গ্রাম। ৬৪ জিবি / ১২৮ জিবি স্টোরেজের এই ফোনটিতে রয়েছে ২,৭০০ এমএএইচ / ৩,৫২০ এমএএইচ এর ব্যাটারি।

এই ফোনটির রয়েছে বেশ ভালো সেন্সর এবং চমৎকার সফটওয়্যার প্রসেসিং। অর্থাৎ এর সাহায্যে আপনি স্বাভাবিকভাবেই ছবি তুলতে পারবেন এবং চলমান কোনো বস্তুর প্রতি মুহূর্তের ছবি আপনি ধারণ করতে পারবেন।

2. Samsung Galaxy Note 8

এই ফোনটিও ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোনের তালিকায় সবার নজরে আছে এখন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লঞ্চ হওয়া এই ফোনটির রিয়াল ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল এবং ফ্রন্ট ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল।

রিয়াল ক্যামেরার এপারচার এফ/১.৭ এবং এফ/২.৪। গ্যালাক্সি কোম্পানির এই ফোনটির অটোফোকাস টাইপ হলো ফেইজ ডিটেকশন। মাত্র ১৯৫ গ্রাম ওজনের এই ফোনটিতে রয়েছে ৩,৩০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি এবং ৬৪ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ।

বিশেষ কিছু কারণের জন্য Samsung Galaxy Note 8 এর ক্যামেরা আমাদের দেখা সবচেয়ে ভালো ক্যামেরা স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

এটি অনেক দ্রুত ছবি তুলতে সক্ষম, কারণ এর রয়েছে দুইটি শক্তিশালী ও ভালো মানের সেন্সর। আমরা একটি ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোনে যা যা খুঁজে থাকি যেমন- ব্লার ব্যাকগ্রাউন্ড, টেলিফটো লেন্স, তাৎক্ষনিক ছবি তুলার ক্ষমতা এসব কিছুই রয়েছে এই স্মার্টফোনে।

ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকার ফলে আপনি অধিক সময় ধরে ছবি তুলতে পারবেন Samsung Galaxy Note 8 দিয়ে।

এছাড়াও এই স্মার্টফোনের ক্যামেরাতে রয়েছে অনেক মুড যা অটোম্যাটিক সেটিং করে দেয়া আছে। ফলে আপনার ব্যবহার করতে সুবিধা হবে।

3. Samsung Galaxy S8 / Galaxy S8 Plus

ফোনটি বাজারে লঞ্চ করা হয় ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে। ফোনটির ব্যাক ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের একটি অটোফোকাস ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ব্যাক ক্যামেরার এপারচার এফ/১.৭। ১৫৫ গ্রাম / ১৭৩ গ্রামের এই ফোনটিতে রয়েছে ৩,০০০ এমএএইচ / ৩,৫০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি এবং ৬৪ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ।

বাজারে ফোনটি তার ক্যামেরার জন্য বিখ্যাত। ফোনটিতে রয়েছে একটি মাত্র সেন্সর, অর্থাৎ ফোনটি দিয়ে আপনি খুব ভালো পোর্ট্রেট তুলতে পারবেন না। এই কারণে ফোনটি আমাদের টপ লিস্টে নেই।

কিন্তু আপনি যদি এই বিষয়টি নিয়ে তেমন না ভাবেন তাহলে আমরা আপনাকে ফোনটি কেনার জন্য রিকমেন্ড করবো। কারণ এই বিষয়টি ছাড়া ফোনটিতে অন্য কোনো সমস্যা নেই, সবকিছুই অসাধারণ।

4. iPhone X

আইফোন এক্স ফোনটি লঞ্চ হয় ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে। বহুল আলোচিত এই ফোনটির ব্যাক সাইডে থাকছে দুইটি ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট ক্যামেরাটি ৭ মেগাপিক্সেলের।

ব্যাক ক্যামেরার এপারচার এফ/১.৮ এবং এফ/২.৪ এবং ফোনটির অটোফোকাস টাইপ হলো ফেইজ ডিটেকশন। ২,৭১৬ এমএএইচ ব্যাটারির এই ফোনটির ওজন মাত্র ১৭৪ গ্রাম এবং এতে রয়েছে ৬৪ জিবি থেকে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ।

অ্যাপলের সবচেয়ে ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে বর্তমানে আইফোন এক্স সবচেয়ে এগিয়ে। শুধু ব্যাক ক্যামেরাই নয় একই সাথে ফ্রন্ট ক্যামেরাটিও বেশ ভালো।

ফোনটিতে রয়েছে রেয়ার ডাবল সেন্সর, যার ফলে কম আলোতেও ভালো ছবি তুলার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও ছবির বিষয়বস্তু ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলার জন্যও ফোনটির ক্যামেরা খুব ভালো কাজ করে।

ক্যামেরাটিতে দুইটি ১২ মেগাপিক্সেল সেন্সরের কম্বিনেশন থাকায় একটি টেলিছবি ধারণ করে এবং দুইটি মিলে অপটিক্যাল স্টেবিলাইজেশন ইমেজ ধারণে সাহায্য করে।

5. Huawei Mate 10 Pro

এই ফোনটি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে বাজারে লঞ্চ হয়। ফোনটির ব্যাক সাইডে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল এবং ২০ মেগাপিক্সেলের দুইটি ক্যামেরা ও ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে একটি ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ব্যাক ক্যামেরা দুইটির এপারচার এফ/১.৬ এবং এফ/১.৬। Huawei Mate 10 Pro এর অটোফোকাস টাইপ হলো ফেইজ ডিটেকশন এবং লেজার। ১৭৮ গ্রামের এই ফোনে রয়েছে ৪,০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি যা আপনাকে দীর্ঘ সময় ছবি তুলতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও রয়েছে ১২৮ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ রয়েছে ছবি সংরক্ষণের জন্য।

এই ফোনটির ব্র্যান্ড মূলত ফোনের ফটোগ্রাফি পারফর্মেন্স এর দিকে বেশি ফোকাস করেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এখানে উল্লেখিত সব ফোনগুলোর মধ্যে এই ফোনটিই কেবল আলোতে ভালো ছবি তুলতে পারে না।

তবে কম আলোতে বা খুব কাছ থেকে ছবি তোলার ক্ষেত্রে ফোনটির পারফর্মেন্স খুব ভালো। প্রফেশনাল ইউজারদের জন্য এই ফোনটি সাজেস্ট করা হলো।

6. LG V30

G সিরিজের এই ফোনটি রিলিজ হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ফোনটিতে রয়েছে দুইটি ব্যাক ক্যামেরা। একটি ১৬ মেগাপিক্সেল ও অন্যটি ১৩ মেগাপিক্সেল এবং ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের একটি ক্যামেরা।

ব্যাক ক্যামেরা দুইটির এপারচার এফ/১.৬ এবং এফ/১.৯। ফোনটির অটোফোকাস টাইপ হলো ফেইজ ডিটেকশন ও লেজার। ৬৪ জিবি স্টোরেজের এই ফোনটিতে রয়েছে ৩,৩০০ এমএএইচ এর ব্যাটারি, ফোনটির ওজন মাত্র ১৫৮ গ্রাম।

কম আলোতে ফোনটি বেশ ভালো ছবি তুলতে না পারলেও অন্য সময় এটি বেশ শার্প ছবি তুলতে সক্ষম। ১৬ মেগাপিক্সেল সেন্সরটি দ্বারা আপনি খুব দ্রুত ছবি তুলতে পারবেন। এছাড়াও ফোনটি দিয়ে আপনি প্রফেশনাল মুডে বেশ ভালো ছবি তুলতে পারবেন।

সেলফি ক্যামেরা খুব বেশি ভাল না হলেও সব মিলিয়ে ভালো ক্যামেরার স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে এটি এগিয়ে আছে।

7. iPhone 8 Plus

আইফোন এক্স এর পরেই অ্যাপলের এই ফোনটির স্থান। ফোনটি রিলিজ হয়েছে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ১২ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা ও ৭ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরাসহ এতে রয়েছে অটোফোকাস টাইপ।

২,৬৯১ এমএএইচ ব্যাটারির এই ফোনের ওজন মাত্র ২০২ গ্রাম। ফোনটিতে রয়েছে ৬৪ জিবি থেকে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত স্টোরেজ।

ফোনটির ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে পোর্ট্রেট ছবি তুললে প্রথমে খুব ভালো না আসলেও পর পর কয়েকটি ছবি তুললে বেশ ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়।

এছাড়া এর সেলফি ক্যামেরা খুব বেশি ভালো না। অর্থাৎ এটি দিয়ে সেলফি তুললে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার হবে না আপনি যদি অ্যাপলের ফোন পছন্দ করে থাকেন তাহলে আইফোন এক্স কিনতে না চাইলে এই ফোনটি নিতে পারেন।

8. Huawei P10 Plus

ফোনটি রিলিজ হয় ২০১৭ সালের এপ্রিলে, ফোনের ব্যাক সাইডে রয়েছে ২০ মেগাপিক্সেল ও ১২ মেগাপিক্সেল এর দুইটি ক্যামেরা। ফ্রন্ট সাইডে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ৩,৭৫০ এমএএইচ ব্যাটারির এই ফোনের ওজন মাত্র ১৬৫ গ্রাম।

কম আলোতে ফোনটির পারফর্মেন্স মুটামুটি ভালো বলা যায়। এছাড়া ফোনটির ক্যামেরা অ্যাপটি খুব দ্রুত কাজ করে। আর এই জন্যই ফোনটি আমাদের লিস্টে আছে।

9. iPhone 7 Plus

এই ফোনটি রিলিজ করা হয় ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ফোনটির ব্যাক সাইডে রয়েছে দুইটি ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং ফ্রন্ট সাইডে একটি ৭ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ২, ৯০০ এমএএইচ ব্যাটারির ফোনটির ওজন মাত্র ১৮৮ গ্রাম।

অ্যাপলের ফোনগুলোর তালিকায় এই ফোনটির ক্যামেরাও বেশ ভালো। দুইটি সেন্সর থাকায় বেশ ভালো পোর্ট্রেট তুলা যায়। এছাড়া স্ক্রিন ফ্ল্যাশ থাকায় কম আলোতে ভালো সেলফি উঠে।

10. HTC U11

২০১৭ সালের জুন মাসে ফোনটি রিলিজ করা হয়। ফোনটির ব্যাক ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল ও ফ্রন্ট ক্যামেরা ১৬ মেগাপিক্সেল। ৩,০০০ এমএএইচ ব্যাটারির এই ফোনের ওজন ১৬৯ গ্রাম।

ফোনটি ফটোগ্রাফির জন্য বেশ ভালো। এছাড়াও আলট্রাপিক্সেল টেকনোলোজির জন্য কম আলোতে বেশ ভালো সেলফি তুলা যায়।

এসএস

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত