শিরোনাম

বাংলাদেশে ১৫ ঘণ্টা বন্ধ ছিল আপওয়ার্কডটকম

ডিডাব্লিউ  |  ১১:৪০, মে ১০, ২০১৯

অনলাইনে ফ্রিল্যান্সারদের মার্কেট প্লেস ‘আপওয়ার্কডটকম' প্রায় ১৫ ঘণ্টা বাংলাদেশে বন্ধ ছিল৷ বন্ধের কারণ বলতে পারছেন না কেউ৷ এ কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার এবং ফ্রিল্যান্সারদের কাজ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে৷

বাংলাদেশে যাঁরা অনলাইনে ফ্রিলান্স আউট সোর্সিংয়ের কাজ করেন, তাঁদের জন্য বড় একটি মার্কেট প্লেস আপওয়ার্কডটকম (www.upwork.com)৷ ২০০৩ সাল থেকে এই অনলাইন মার্কেট প্লেসটি কাজ করছে৷ এখানে রেজিস্টার্ড ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় এক লাখ৷

কিন্তু গত বুধবার রাত ৯টা থেকে বাংলাদেশ থেকে এই অনলাইন মার্কেট প্লেসটিতে আর ঢোকা যাচ্ছিল না৷ ওয়েব অ্যাড্রেস থেকে সাইটটি পাওয়া যাচ্ছিল না৷ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে আবার সাইটটি বাংলাদেশে খুলে দেয়া হয়৷

আপওয়ার্কের বালাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাইদুর মামুন খান বলেন, ‘‘ঠিক কখন বন্ধ করে দেয়া হয় আমরা জানি না৷ তবে বুধবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে৷

আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিটি ডিভিশনকে জানালে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর আবার সাইটটি বাংলাদেশে চালু হয়৷ এটা চালু করতে জুনায়েদ আহমেদ পলক (আইসিটি প্রতিমন্ত্রী) খুব সহায়তা করেছেন৷ আইসিটি বিভাগও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে৷

কিন্তু কী কারণে সাইটটি বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছিল, তা আমাদের জানানো হয়নি৷''

তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে যা হয়েছে, ওই সময়ে যাঁদের কাজ ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল, তাঁরা দিতে পারেননি৷ নতুন অর্ডার নিতে পারেননি৷ আর যাঁদের ঘণ্টায় ঘণ্টায় কাজ ডেলিভারি দিতে হয় তাঁরা বেকার ছিলেন৷ কারো হয়তো কাজের জন্য ইন্টারভিউ ছিল, তাঁরা সেটা করতে পারেননি৷''

প্রথম ক্লায়েন্টদের কাছ থেকেই বাংলাদেশের ব্যাপারে অভিযোগ আসে৷ তাঁরা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে কাজ পাচ্ছিনে না বা সময়মতো রেসপন্স পাচ্ছিলেন না৷ এরপর আপওয়ার্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের যত ক্লায়েন্ট আছে, তাঁদের ই-মেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি জানানো হয়৷কেন এই অনলাইন মার্কেট প্লেসটি বাংলাদেশে বন্ধ করা হয়েছিল?

বিটিআরসি'র সিনিয়র সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) জাকির হোসেন খানবলেন, ‘‘এটা বিটিআরসির পক্ষ থেকে বন্ধ করা হয়নি৷ খোঁজ নিয়ে জেনেছি আমাদের কাছে বন্ধের কোনো নির্দেশনা ছিল না৷ বন্ধ হয়ে থাকলে আর কেউ করেছে কিনা আমাদের জানা নেই৷''

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)-র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, ‘‘আমাদের কাছে আপওয়ার্কের গেটওয়ে বা কোনো লিংক বন্ধের নির্দেশনা ছিল না৷ আমরা বন্ধ করিওনি৷ এখন আমাদের মাধ্যম ছাড়াও বন্ধ করা যায়৷''

তিনি বলেন, ‘‘এখন ন্যাশনাল টেলিকম্যুনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) সবগুলো আইআইজিতে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) তাদের নিজস্ব মনিটরিং ডিভাইস বসিয়েছে৷ তারা চাইলে এখন একটি কমান্ডেই সবকিছু বন্ধ করে দিতে পারে৷ তারা মনিটর করে৷ আমাদের প্রয়োজন হয় না৷ তবে তারা আপওয়ার্ক বন্ধ করেছে কিনা তা আমার জানা নেই৷''

আপওয়ার্কের রেজিস্ট্রার্ড ফ্রিল্যান্সার ৬০ হাজারের মতো৷ আপওয়ার্কের মার্কেট প্লেস ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিং করেন এরকম একজন তরুণ হলেন আমীন কবির৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি টাকার অংকে ধরি, তাহলে হয়তো এই কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার ক্ষতি তেমন বেশি না৷

কেউ হয়ত এই সময়ে কাজ পেতেন, পাননি৷ কেউ হয়তো কাজ সময়মতো ডেলিভারি দিতে পারেননি৷ আমাদের ইমেজের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে৷ এমনিতেই আমাদের ইমেজ সমস্যা আছে৷ অনেক অদক্ষ ফ্রিল্যান্সার আমাদের সমস্যা তৈরি করেছে৷ আমাদের কাজ পেতে অনেক কষ্ট হয়৷ এখন নতুন করে এই ঘটনা আমাদের আরো ইমেজ সংকটে ফেলবে৷ আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাজ করি৷

আর যেসব প্রতিষ্ঠানের কাজ করি, তার মধ্যে অনেক বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানও আছে৷ তারা জানল আমাদের দেশে এরকম সাইটও যে-কোনো সময় বন্ধ হয়ে যায়৷ তাই এখন আর তারা আমাদের কাজ দিতে ভরসা পাবে না৷ আস্থা রাখতে পারবে না৷ তারা মনে করবে, হাঠাৎ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের পক্ষে সঠিক সময় কাজ ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হবে না৷ তাতে তারাও বিপর্যয়ে পড়বেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘একটি কাজের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন দেশের ফ্রিল্যান্সাররা করেন৷ যদি এমন হয়, টানা ৫-৭ দিন সাইট এখানে বন্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে আউটসোর্সিংয়ের কাজ দিতে আর কেউ আগ্রহ দেখাবে না৷ তরুণ সমাজের একটি অংশ বেকার হয়ে পড়বে৷ বিশাল আর্থিক ক্ষতি হবে৷

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা জেনেছি, পর্ন সাইট বন্ধ করতে গিয়ে এটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু এইসব কাজ যদি এত অদক্ষভাবে করা হয়, তাহলে আরো বিপর্যয় হতে পারে৷ আমার মনে হয়, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরো দক্ষ এবং প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন লোকজনকে দেয়া উচিত৷ সরকার দেশের জন্য ক্ষতিকর, নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন কোনো সাইট বা লিংক বন্ধ করতেই পারে৷ কিন্তু একটা করতে গিয়ে যেন আরেকটার ক্ষতি না হয়৷ আর ভবিষ্যতে যাতে এরকম আর না হয় সে ব্যাপারে শুধু সতর্কতা নয়, নিশ্চয়তা দিতে হবে৷''

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস(বেসিস)-এর সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজারের মতো ডেডিকেটেড ফ্রিল্যান্সার আছেন৷

তাঁরা বছরে ৪০ মিলিয়ন ডলারের মতো বৈদেশিক মূদ্রা আয় করেন৷ আপওয়ার্কের মতো মার্কেট প্লেস ছোট ছোট ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি বড় জায়গা৷ এটা যদি বাংলাদেশে হঠাৎ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বড় ক্ষতি৷ এই ক্ষতিটা এখন বড় আকারে দেখা না গেলেও দীর্ঘ মেয়াদে অনেক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা দেবে৷''

গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা ভাষায় প্রথম কমিউনিটি ব্লগ সামহোয়ারইন ব্লগও একইভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল৷

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত