শিরোনাম

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই স্থগিত হলো কেপিসিএলের লেনদেন

প্রিন্ট সংস্করণ॥গিয়াস উদ্দিন  |  ০১:২৫, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (কেপিসিএল) শেয়ার লেনদনে অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে(সিএসই) চলবে লেনদেন। গত ৭ অক্টোবর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সভায় ওকাম্পানিরটির লেনদেন স্থগিত করা হয়। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্গন করায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেন ডিএসইর একাধিক পরিচালক।ডিএসই সূত্র মতে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ৯ ধারার ৭ উপধারা ও ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫ এর ৫০ (১) অনুযায়ি, খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। কী আছে এই আইনে।সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ৯ ধারার ৭ উপধারায় বলা হয়েছে কোম্পানির কাছে তথ্য আছে, কিন্তু বিনিয়োগকারীরা জানেনা অর্থাত বিনিয়োগকারী ও কোম্পানির তথ্যের গ্যাপ থাকলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেন স্থগিত করতে পারে।অন্যদিকে ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫ এর ৫০ (১) উপধারায় বলা হয়েছে কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীরর মধ্যে তথ্যে সঠিক আদান-প্রদান না থাকলে বা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে কোম্পানির অবস্থা সন্দেহজনক মনে হলে ডিএসই লেনদেন স্থগিত করতে পারবে। তবে লেনদেন স্থগিত করার ৫ মিনিটির মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং কোম্পানিকে জানাতে হবে।এর আগে গত ৪ নভেম্বর খুলনা পাওয়ারের ১ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৫টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় কোম্পানিটির করপোরেট উদ্যোক্তা সামিট করপোরেশন। বিক্রির ঘোষণার খবরের দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে যায় ১১১.৯০ টাকা থেকে ১০২.৪০ টাকায়। যা পরের দিন (০৫ নভেম্বর) ৯২.৪০ টাকায় নেমে আসে। তবে ৬ নভেম্বর বেড়ে দাড়াঁয় ৯৮.৪০ টাকায়। এদিকে বাজারের বর্তমান অবস্থায় খুলনা পাওয়ারের প্রায় ২ কোটি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) এক বৈঠক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বৈঠক শেষে রকিবুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা ২০০৯-১০ সালে শেয়ার বিক্রি করে বাজারের ক্ষতি করেছে। তারা এখনো বিক্রি করছে। যে কারনে সাধারন বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারই কিনছে, সেটাতেই লোকসান হচ্ছে। এমন হলে শেয়ারবাজারে থাকা মুশকিল হবে। আরেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারের মন্দাবস্থা যাচ্ছে। যা কাটিয়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই চেষ্টা করছে। সেই মুহূর্তে খুলনা পাওয়ারের প্রায় ২ কোটি শেয়ার বিক্রি বাজারের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে। যে বিক্রির চাপ শেয়ারবাজার এই মুহূর্তে নিতে পারবে না। তাই সার্বিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা ভেবে খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। খুলনা পাওয়ারের ওই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির পেছনে সিরিয়াল ট্রেডিং ছিল বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। তবে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে সচেতন না হওয়ায় সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মতো অবৈধ লেনদেনগুলো বাজারে রাজত্ব করে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত