শিরোনাম

এশিয়া কাপে সেঞ্চুরির পর আত্মবিশ্বাসী লিটন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ক্রীড়া প্রতিবেদক  |  ০০:৪৯, অক্টোবর ১৭, ২০১৮

এশিয়া কাপের আগে লিটন দাস বলেছিলেন, বড় ইনিংস খেলে বড় খেলোয়াড়রা। এশিয়া কাপে প্রথম চার ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও ফাইনালে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেন তিনি। খেলেন ১২১ রানের অসাধারণ ইনিংস। যেহেতু বড় ইনিংস খেলেছেন তাহলে তো তিনিও এখন বড় খেলোয়াড়? লিটন অবশ্য পা মাটিতেই রাখছেন। এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরির পর জাতীয় লিগে খেলতে নেমেই ডাবল সেঞ্চুরি করেন লিটন। তাও মাত্র ১৪০ বলে। যেটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি। ঘরোয়া ক্রিকেটে লিটন ব্যাট হাসে অবশ্য নিয়মিতই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে ঠিক মেলে ধরতে পারছিলেন না। এশিয়া কাপের সেঞ্চুরির পর আত্মবিশ্বাসী লিটন এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে চান।  এক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্ববহ। আপনারাও ভালো জানেন, আমি অনেক দিন ধরেই ব্যাকফুটে ছিলাম। পারফর্ম করাটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সাথে আমার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, এটা আমার জন্য অনেক ব্যাপার। আরেক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, হ্যাঁ, আমার মূল লক্ষ্য এটাই। আমার মনে হয় আমি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলি, তখন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে থাকি। ওই জিনিসটাই ঘাটতি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আমি চেষ্টা করছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়ার। লিটন বলেন, আমার খেলার ধরনটাই এমন। রেসিপিটা কী, সেটা কীভাবে বলব বুঝতে পারছি না। আমার ন্যাচারাল খেলার ধরনটাই এমন। এখনো বড় খেলোয়াড় হইনি (হাসি)। কিন্তু আমি চেষ্টা করব, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিয়মিত পারফর্ম করার। আমি বলব না যে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আগে থেকে একটু চাপ মুক্ত অবস্থায় আছি, এটা বলতে পারেন। আর নিজের প্রতি একটু আত্মবিশ্বাস এসেছে। যখন ভালো কিছু করি তখন নিজের ভেতর এই জিনিসটা আসে। লিটন দাস বলেন, আমার কাছে এতটা মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয় প্রতিদিন প্রতিটা ম্যাচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা সত্যি, একটি ম্যাচ অনেকের ক্যারিয়ারে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আমাকে পরের ম্যাচে কিন্তু আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। আমার চেষ্টা শূন্য থেকে বড় কিছু করা। ওটা নিয়ে এখন আশা করে বা চিন্তা করে কোনো লাভ নেই। এশিয়া কাপ থেকে এসেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এনসিএলে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ওইটাই বললাম, একজন ক্রিকেটার পারফর্ম করলে মাথা থেকে সেই জিনিসটা সরে যায়। ক্রিকেট তো সম্পূর্ণ মানসিকতার খেলা। মানুষ বলে, মন যত পরিষ্কার থাকবে তত ভালো খেলবেন। যেহেতু পারফর্ম করিনি, তখন মনে নিজের সামর্থ্যে একটু প্রশ্ন থাকেই। আর পারফর্ম করার পর মানসিকভাবে একটু চাপমুক্ত হওয়া যায়। এই জন্য হয়ত ভালো হয়েছে। আমিও যে দলে নিয়মিত ছিলাম, তাও না। তামিম ভাই ছিল নিয়মিত। তার সাথে সাথে সবাই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিল। আমার নিয়মিত হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। আমার সাথে যে সঙ্গী হবে, সেও নতুন হবে, আমিও নতুন। হ্যাঁ, আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে একটু ভালো জায়গায় আছি হয়ত। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, প্রতিটা ম্যাচ নির্ভর করে সেই দিনের ওপরে। হতে পারে পরের ম্যাচে আমি শূন্যও করতে পারি। সেই আকাশ ছোঁয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোনো লাভ নেই। পূজার ছুটিতে ক্যাম্প করার অনুভূতি সম্প্রর্কে লিটন বলেন, খুব ভালো (হাসি)। গত দুই বছর ধরে তো মাঠেই ছিলাম। এখন দেশে, দুই বছর দেশের বাইরে ছিলাম। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। পেশাদার খেলোয়াড়দের একটু ছাড় দিতেই হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত