শিরোনাম

ময়নাতদন্ত: ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে টি-২০

স্পোর্টস ডেস্ক  |  ১২:৪৩, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

বসন্ত তখনো আসতে দেরি। আট উইকেট, ১৬৩ রান আর ৯১ রানের বড় তিন জয়ে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে বইছিল তখন বসন্তই। আত্মবিশ্বাসের রেণু তখন উড়ে বেড়াচ্ছে মিরপুরের স্টেডিয়াম পাড়ায়। তবে পরাগায়নটা ঠিকঠাক হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসের ইতি টানতে ব্যস্ত ২০১৮ সালের ক্যালেন্ডার। আর বাংলাদেশ দল ব্যস্ত লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রায় এক মাসের ক্রিকেট যুদ্ধের হিসাব মেলানোয়। দারুণ তিন জয়ে শুরু হওয়া মিশনটাই কি না শেষ হলো তিন সিরিজের তিনটাই হেরে! নতুন বছরের প্রায় দুই মাস কেটে গেছে। এই দুই মাসে বাংলাদেশের ক্রিকেটও দেখে ফেলল মুদ্রার দুই পিঠ।

সিরিজ শেষে কাটাছেঁড়ায় ব্যস্ত যখন সবাই, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগে একটু চোখ রাখা যাক। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছে টেস্টেও। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের পরের মিশনটা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। ঘরের মাঠে দারুণ সাফল্য পাওয়ার পর সেই সিরিজে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল বিদেশের মাটিতেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

অনেক কিছু প্রমাণের প্রোটিয়া সফরে বাংলাদেশ প্রমাণ দিতে পারেনি কিছুই। তিন সিরিজ মিলিয়ে পুরো সফরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি সাত ম্যাচে হেরে শূন্য হাতে ঘরে ফেরা। পরের সময়টা কেটে যায় বিপিএলের ডামাডোলেই। মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বিশ্রামে থাকা সাকিব আল হাসানকে ঘোষণা করা হয় টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে। আর চার বছর ধরে বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্বে থাকা চন্ডিকা হাথুরুসিংহে চলে যান নিজের ঘর শ্রীলঙ্কাকে সামলাতে।

শ্রীলঙ্কা আর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে বাংলাদেশের বছরটা শুরু হয় ত্রিদেশীয় সিরিজের লড়াই দিয়ে। আর সে সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচের তিনটিতেই বড় জয় পেয়ে বোনাস পয়েন্টসহ ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ। সাবেক ‘গুরু’ হাথুরুসিংহে এক মাসের মাথায় আবার ফেরেন বাংলাদেশে, তবে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে। আর তাই মাঠে শ্রীলঙ্কা দল নামলেও অদৃশ্য একটা লড়াই ছিল হাথুরুর সঙ্গেও। তবে সফর শেষে হাসিমুখে লঙ্কান কোচের বিমানে চাপার দৃশ্যটায় অন্তত এতটুকু পরিষ্কার যে, সে লড়াইয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী তিনিই। সিরিজটা শুরু হওয়ার আগ থেকেই একটা ধারণা ভেসে বেড়াচ্ছিল বাতাসে। সাবেক ‘শিষ্য’দের নাড়িনক্ষত্র জেনে যাওয়ার সুবিধাটা কাজে লাগালেও লাগাতে পারেন হাথুরু। পুরো সফর গাঁইগুঁই করে শেষমেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এসে সেটা মেনেই নিলেন সফরকারী কোচ।

ময়নাতদন্তের এই পর্যায়ে এসে ‘ময়না’ নিজেও উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন কারণ হিসেবে। সতীর্থরা সাকিব আল হাসানকে ডাকে ময়না নামেই! সেই সাকিবকে বাংলাদেশ পায়নি ত্রিদেশীয় ফাইনালসহ টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং দুই ফরম্যাটের দলনায়কের অভাবটা যে এখনো অপূরণীয় সেটার প্রমাণ বাংলাদেশ দল দিল সিরিজ দুটো হেরে।

টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে শুধু পরাজয় নয়, বাংলাদেশকে নিজেদের খোঁড়া স্পিন নামের কূপে ফেলে একদম নাকানি-চুবানি খাইয়ে তবেই হারিয়েছে লঙ্কানরা। তবে অদ্ভুতভাবে সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আবারও বাংলাদেশ। ছয় নতুন মুখ নিয়ে দল ঘোষণা করলে তেমনটা তো হবেই!

অবশ্য নতুনের কেতন ওড়েনি। ছয়জনের মধ্যে যা একটু নজর কেড়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। বাকি পাঁচের কেউ-ই পারেননি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। যেখানে নতুন ক্রিকেটারদের এনে বাংলাদেশ উড়তে চাচ্ছিল তারুণ্যের ডানায় ভর করে। সেখানে উল্টো কপালে পড়ল চিন্তার ভাঁজ, তবে কি দলের ভবিষ্যৎটাও টি-টোয়েন্টির শেষ দুই ম্যাচের মতো!

না, তেমনটা ভাবতে চাইবে না কোনো ক্রিকেট ভক্তই। ব্যর্থতার তিমিরে এবারই প্রথম নয়। বাংলাদেশ অন্ধকারে ডুবেছিল অনেকবারই। শেষ ২০১৪ সালের কথাটাই মনে করা যাক। ভয়াবহ এক বছর কাটিয়েছিল সেবার। একের পর এক পরাজয়ের গ্লানিতে নাভিশ্বাস লাল-সবুজের দলের। অথচ পরের বছরে কি না সেই দলটাই খেলেছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে! এরপর তো অনেক ইতিহাসই গড়েছিল। কিন্তু এবার ঘরে মাঠের চরম ব্যর্থতা সেসব অর্জন যেন অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত