শিরোনাম

তামিমের ১১ ও সাকিবের ১০ হাজার রান

স্পোর্টস রিপোর্টার  |  ১৯:৪০, জানুয়ারি ১৯, ২০১৮

দুই বন্ধু তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান যাই করেন, তা অলৌকিভাবে পাশাপাশি হয়ে যায়। আবার তা রেকর্ডও হয়ে যায়। শুক্রবার চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে তামিম ও সাকিব আরেকটি কীর্তি গড়লেন। তামিম ১১ হাজার ও সাকিব ১০ হাজার রানের ক্লাবে নাম লেখালেন। ৩৭তম ওভারের শেষ বল।

ডাউন দ্য উইকেটে এসে সুরঙ্গ লাকমলের একটি ডেলিভারি মিড উইকেটে পাঠালেন সাকিব আল হাসান। ফিল্ডার যতক্ষণে বল থ্রো করে পাঠালেন,ততক্ষণে দুই রান নিয়ে নেন সাকিব। এই দুই রান নেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজের মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত করলেন বাংলাদেশের এই পোস্টার বয়। জাতীয় দলের সতীর্থ ও বন্ধু তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিব।

১৫ জানুয়ারী উদ্বোধনী ম্যাচে পঞ্চম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন পেসার রুবেল হোসেন। ওই ম্যাচে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১১০০০ রানের মাইলফলকের একেবারে কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিমও। যদিও সেদিন সাত রানের অপেক্ষা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তবে সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই মাইলফলক ঠিকই স্পর্শ করেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তামিম। এই একই ম্যাচে নতুন আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাকিবও। ৬৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পথে ১০ হাজার রানের ক্লাবে নিজের নাম লেখান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

মজার ব্যাপার, গত বছরের মার্চে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তামিম। বন্ধু সাকিবও তার পথে হাঁটলেন। শুক্রবার সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই মাঠে নামার আগে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে সাকিবের প্রয়োজন ছিল ৬৬ রানের। ৬৭ রানের ইনিংস খেলার পথে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই বিজ্ঞাপন ছুঁয়ে ফেলেন এই মাইলফলক। ১০ হাজার রান করেছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে সাকিবের অবস্থান ৮১তম। ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার পর পরই সাজঘরে ফিরতে হয় সাকিবকে। ব্যক্তিগত ৬৭ রানে। আসেলা গুনারত্নের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন সাকিব।

তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এখন সাকিবের সংগ্রহ ১০ হাজার ১ রান। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ঝুলিতে রয়েছে ৪৯০টি উইকেট। আর ১০ উইকেট পেলে ইতিহাসের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ৫০০ উইকেট ও ১০ হাজার রানের মালিক হওয়ার কীর্তি গড়বেন সাকিব। তবে ইতোমধ্যেই ওই তালিকার ওপরের দিকে নিজের নামটি বসিয়ে নিয়েছেন ২৯৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার। ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রান এবং চার শতাধিক উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।

১১ হাজার ৭৭ রান নিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এই তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন তামিম। ১০ হাজার ১ রান নিয়ে সাকিবের অবস্থান দুই নম্বরে। এই তালিকায় সাকিবের পরই রয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার রান সংখ্যা ৮ হাজার ৮৪৭ রান। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫১টি টেস্ট খেলেছেন সাকিব। এই ফরম্যাটে ৪০.৩৮ গড়ে ৩ হাজার ৫৯৪ রান করেছেন তিনি। রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ২২টি হাফ সেঞ্চুরি। ওয়ানডেতে খেলছেন ক্যারিয়ারের ১৮২তম ম্যাচ। এই ফরম্যাটে তার রান সংখ্যা ৫ হাজার ১৮৪। সাতটি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এই ফরম্যাটে। এছাড়া ৬১ টি-২০তে তার সংগ্রহ ১ হাজার ২২৩ রান। রয়েছে ছয়টি হাফ সেঞ্চুরি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত