শিরোনাম

কারাগারে খালেদা, স্বস্তিতে সাংবাদিকরা!

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১০:৪৬, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যাওয়ার পর স্বস্তিতে পলিটিক্যাল বিটের সাংবাদিকদের বড় একটি অংশ। দীর্ঘ ২০-২৫ বৎসর যারা বিএনপির সংবাদ সংগ্রহ করছেন খোদ তাদের মুখেই এই স্বস্তির কথা শোনা গেল! শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বৃহৎ বিপর্যয়ের পর গত ৩১ ডিসেম্বর পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে যখন ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক চলে সংবাদ সংগ্রহে অপেক্ষারত সিনিয়র সাংবাদিকদের মুখে তখন তুমুল ক্ষোভ চলে। অনেক সিনিয়র সাংবাদিকও তখন হতাশ! যারা দীর্ঘ সময় বিএনপির সংবাদ সংগ্রহ করছেন এখন থেকে তাদের কোণঠাসা থাকতে হবে। নানা কারণে অফিসের চাহিদাও কম থাকবে। তখন আলোচনায় উঠে আসে, বিএনপির জনপ্রিয়তা আছে, তৃণমূলের শক্তি আছে, নেই শুধু বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি। কেন্দ্রীয় লিডারদের ভূমিকা নিস্তেজ তালিকায় বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির অবস্থা আরও নাজুক। কারণ বিএনপিতে এখন সবাই নেতা! স্থায়ী কমিটির অমুক নেতা বলেন তারেক জিয়া তার সাথে কথা বলেছেন, এই কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে আরেকটি অংশ কারাগারে খালেদার সঙ্গে দেখা করে বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশ শান্ত থাকতে হবে, আন্দোলনে যাওয়া যাবে না। এ নিয়ে ধূম্রজালে অনেকে। আসল সত্য কোনটা কেউ জানেন না। নেতাকর্মীদের ওপর এমন আশা-হতাশা আলোচনার মাঝে এবার স্বয়ং খালেদা জিয়ার উপরই ক্ষোভের কথা জানালো সিনিয়র এক সাংবাদিক। যিনি বাংলাদেশের প্রথম সারির একজন রিপোর্টার। দীর্ঘ ২৫ বৎসর বিএনপি বিটে কাজ করেছেন। এখনো ওই পত্রিকায় বিএনপি বিটে তিনজন রিপোর্টার কাজ করেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার আচরণে ক্ষোভে এক বছর আগে বিএনপি বিট ছেড়ে দিয়েছেন! জানালেন কষ্টের কথা। চাকরি করেন ঠিক আছে, স্বাভাবিকভাবে সারাদিন রিপোর্টের পেছনে দৌড়ে বিকাল চারটায় অফিসে ঢুকে রাত ৭-৮টার মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু মাঝেমধ্যে কাজ শেষ করেও আর বাড়ি যাওয়া হয় না। রাত যখন ১০টা বাজে তখন বিএনপি নেত্রীর কাজ শুরু হয়। কখনো শুরু হয়, স্থায়ী কমিটির বৈঠক, কখনো উপদেষ্টাদের বৈঠক, আবার নির্বাহী কমিটি কিংবা ভাইস চেয়ারম্যানদের বৈঠকও মাঝেমধ্যে হয়ে থাকে। রাত ১২টা ১টা বাজে স্ত্রীর অপেক্ষা, অফিসে নিউজ সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অপেক্ষা, কখন নিউজ আসবে পাতাটা তৈরি করে বাড়ি যাবে, আমি একজনের জন্য এতগুলো লোকের কষ্ট সহ্য হয় না। অবশেষে রাগে-ক্ষোভে বিএনপি বিটই ছেড়ে দিয়েছি। গত এক বছর ভালোই স্বস্তিতে আছি। আমার পত্রিকায় সিনিয়র একজন, আরও দুজন এ বিটে এখনো কাজ করছেন। তাদের কষ্ট অব্যাহত আছে, তবে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তারাও একটু স্বস্তিতে আছে। সুর মিলিয়ে পাশ থেকে কথা বললেন বাংলাদেশের সব চাইতে একটি জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেলের সিনিয়র রিপোর্টার কৌশিক (ছদ্ম নাম)। ভাই আমিতো ছিলাম আরও কষ্টে। আমি ইচ্ছা করলেই একলা আসতে পারি না, আমার সঙ্গে গাড়ির ড্রাইভার, ক্যামেরাপার্সন, একজন আইটি সংশ্লিষ্ট লোক থাকে। তারা মাঝেমধ্যে বলে ভাই, বিএনপিকে বলতে পারেন না, এই প্রোগ্রামগুলো দিনে করে ফেলতে তাহলে আমাদের এত কষ্ট হয় না। তাছাড়া সব সাংবাদিকই খুব ভালোভাবেই বিএনপিকে মিডিয়া কাভারেজ দিতে পারে। এতে করে বিএনপি বেশি লাভবান হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত