শিরোনাম

নতুন গাড়ি ফিরিয়ে দিচ্ছেন মন্ত্রীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০০:৪৯, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের দিন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বিলাসবহুল ১৫শ সিসি মিৎসু লেনসার সেডান কার এবং জেএলআই-এর নতুন গাড়ি দেয়া হয়। এসব গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে সদ্যবিদায়ী মন্ত্রীদের ২৫শ সিসি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরি গাড়ি নিচ্ছেন তারা। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর (পরিবহন পুল) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সরেজমিন সচিবালয়ে দেখা যায়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার পরিবহন পুলের বরাদ্দকৃত ২৫শ সিসি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরি ঢাকা মেট্রো-ভ ১১-১৮০৮ নাম্বারের গাড়িতে মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম গণপূর্ত বিভাগের ঢাকা মেট্রো ঘ ১৫-৯৩৮০ মডেলের পাজেরো স্পোর্ট গাড়িতে মন্ত্রণালয়ে এসেছেন। সূত্র জানায়, এক বছর আগে শুল্কমুক্ত ১৫শ সিসি লেনসার সেডান কার এবং ৬ বছর আগে ৩০ লাখ টাকায় জেএলআই ৪৪টি গাড়ি আমদানি করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবহন পুল। আর ২০১৬ সালে জুন মাসে ৭৭ লাখ টাকায় (শুল্কমুক্ত) উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২৫শ সিসির ৫০টি হাইব্রিড ক্যামরি সিডন কার জাপান থেকে কেনা হয়। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রয় করা গাড়ি ওই বছরের জুলাই মাসেই দেশে আসে। ২৫শ সিসির গাড়িগুলো ব্যবহার করেছিলেন দশম জাতীয় সংসদের মন্ত্রীরা। তাদের মধ্য থেকে যারা এবার মন্ত্রিত্ব পাননি তারা সরকারি গাড়ি জমা দিয়েছেন পরিবহন পুলে। নতুন মন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের দিন ১৫শ সিসির গাড়ি নিলেও তেল খরচ বেশি ও কম আরামদায়ক হওয়ায় সাবেক মন্ত্রীদের জমা দেয়া গাড়িগুলো নিতে নিয়মিত আবেদন করছেন বর্তমান মন্ত্রীরা।জানা যায়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার শপথ গ্রহণের দিন সেডান কারে বঙ্গভবনে যান। শপথ গ্রহণ শেষে সেডান কার পরিবর্তনের জন্য পরিবহন পুলে আবেদন করেন। আবেদন অনুযায়ী তাকে ২৫শ সিসি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরি দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সস্তার তিন অবস্থা কথাটি সামনে রেখে পরিবহন পুল মন্ত্রীদের যেসব ১৫শ সিসির নতুন গাড়ি দেয়া হয়েছে সেগুলো ফেরত দিয়ে পুরনো গাড়ি নিতে আবেদন করছেন। তবে দশম সংসদে যারা মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং বর্তমানেও মন্ত্রী আছেন তারা আগের ২৫শ সিসির গাড়ি ব্যবহার করছেন।পরিবহন পুলের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের রেকর্ড গড়ার পর চমক লাগানো মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা শপথ নেন। এ সময় মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও ৩ উপমন্ত্রীসহ প্রত্যেকে গাড়ি নিয়ে বঙ্গভবনে যান। শপথ গ্রহণ শেষে সরকারের মন্ত্রীরা নতুন গাড়ি ফেরত দিয়ে পুরনো গাড়ি পেতে নিয়মিত পরিবহন পুলে আবেদন করছেন। এই আবেদনের ভিত্তিতে অধিকাংশ মন্ত্রী নতুন গাড়ি পরিবর্তন করে পুরনো গাড়ি পেয়েছেন। তবে ভিন্নতা দেখা যায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বেলায়। তিনি পরিবহন পুলের ১৫শ সিসির মিৎসু লেনসার সেডান গাড়ির পাশাপাশি গণপূর্ত বিভাগের ঢাকা মেট্রো ঘ-১৫-৯৩৮০ মডেলের পাজেরো স্পোর্ট ব্যবহার করছেন। একই মডেলের পাজেরো স্পোর্ট ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৫-৯০৯০ নাম্বার গাড়িটি ব্যবহার করছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। মন্ত্রী ও সচিবের গাড়ি একই মডেলের হওয়ায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম আমার সংবাদকে বলেন, ‘দেখুন আমার জন্য একটা যানবাহনই যথেষ্ট। আমার পূর্বে মন্ত্রীরা বিএমডব্লিউ ব্যবহার করেছেন। আমার বিএমডব্লিউ কিংবা অন্য কোনো শখ নেই, সরকারের একটা দায়িত্বে আছি, স্বাচ্ছন্দ্যে চলার জন্যে একটি গাড়ি হলেই যথেষ্ট। আমার বিশেষ কোনো বিলাসিতা ও শখ নেই।’ এ ব্যাপারে সরকারি পরিবহন অধিদপ্তরের পরিচালক (সড়ক) যুগ্ম সচিব মো. শাহজাহান আলী আমার সংবাদকে বলেন, পরিবহন পুলের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই মন্ত্রীদের জন্য ২৫শ সিসি গাড়ি কেনা হয়। হাইব্রিড গাড়ি ২০ কিলোমিটার বেগে চললে তেল লাগে না, ব্যাটারির সাহায্যে চলে। শপথ গ্রহণের দিন মন্ত্রীদের দেয়া ১৫শ সিসির গাড়ি পরিবর্তনের জন্য আবেদন করলে তাদেরকে ২৫শ সিসির গাড়ি দেন। তবে ফিরিয়ে নেয়া ১৫শ সিসির গাড়িগুলো সরকারিভাবে বিদেশি অতিথিদের চলাচলে ব্যবহার হবে। এছাড়াও সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কমিশন গঠন করে। কমিশনের কার্যক্রম বেগবান করতেও ১৫শ সিসি জেএলআই এবং লেনসার গাড়ি ব্যবহৃত হবে।সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সড়ক) আবু খায়ের মল্লিক আমার সংবাদকে বলেন, জাপানের তৈরি ২৫শ সিসি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরি গাড়ি দশম সংসদ মন্ত্রীদের দেয়া হয়। আর একাদশ সংসদ মন্ত্রীদের শপথের দিন ১৫শ সিসি গাড়ি দেয়া হয়।পরিবহন পুলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, শুধু কম দামে গাড়ি কেনাই বড় কথা নয়, অনেকগুলো টেকনিক্যাল বিষয় জড়িত। ২৫শ সিসি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরির গাড়ি ব্যয় সাশ্রয়।জানা যায়, জাপানের তৈরি ২৫শ সিসি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরির প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৭৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) শুল্কমুক্ত ৫০টি টয়োটা হাইব্রিড ক্যামরি কিনতে প্রায় ৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা লাগে। এছাড়াও ১৫শ সিসি প্রতিটি জেএলআই গাড়ি ৩০ লাখ টাকা এবং লেনসার গাড়ি ২৯ লাখ টাকায় কেনা হয়।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রীর গাড়িচালক আমার সংবাদকে বলেন, স্যার নিয়মিত এই গাড়িতে চলাচল করেন। গাড়িটি জ্বালানির পাশাপাশি ব্যাটারিতে চলে। ফলে জ্বালানি সাশ্রয় হয়। গাড়িটি ২০ কিলোমিটার মাইলেজ চললে ব্যাটারির সাহায্যে চলে। হাইব্রিড গাড়ি চলার জন্য প্রাথমিক শক্তি হিসেবে হাইব্রিড ব্যাটারি এবং দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়। ব্যাটারির চার্জ যদি শেষ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিন চালু হয়। ব্যাটারির শক্তি গাড়ির জন্য যথেষ্ট না হলে হাইব্রিড ব্যাটারি এবং ইঞ্জিন যৌথভাবে শক্তি উৎপাদন করে এবং গাড়ির চাকাকে গতিশীল রাখে। জ্বালানি তেল সাশ্রয় গাড়ি প্রত্যেকের ব্যবহার করা উচিত। প্রসঙ্গ, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর, ১২ জানুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে যাত্রা শুরু হয়েছিল সরকারের। তাদের মধ্যে ২৯ জন মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন উপমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত ওই মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫৩ জন। তবে ভোটের আগে পদত্যাগ করেন চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও ৩ উপমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন। পদাধিকার বলে তারা সরকারি গাড়ি পেয়ে থাকেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত