শিরোনাম

ডাকসু নির্বাচনে কর্মকৌশল তৈরিতে ব্যস্ত আ.লীগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥মো. রফিকুল ইসলাম  |  ০১:২৯, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু)। এ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের চার নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিতে শুরু করেছেন। দলীয় প্রার্থী ও জয়ের জন্য কর্মকৌশল তৈরিতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সাথে বৈঠকও করছেন তারা। যা নিয়ে সরগরম এখন ছাত্রলীগের রাজনীতি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই ডাকসু নির্বাচনে সফল হতে চায় আওয়ামী লীগ। তাই নির্বাচনে সফল করতে চার নেতাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরা হলেন- যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডাকসুর সাবেক ভিপি (বাসদ থেকে) ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামান। নেত্রীর দেয়া বিশেষ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছে তারা। এ নির্বাচনে সফল ও দলীয় প্রার্থী যাচাই-বাছাই করতে ছাত্রলীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে বৈঠক শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম, ডাকসু নির্বাচন পরিস্থিতি ও দলীয় প্রার্থীতাসহ বেশকিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে ছাত্রলীগ থেকে ডাকসু নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, বৈঠকে সেটি নির্ধারিত হয়নি বলে দাবি করেন বৈঠকের একটি সূত্রে। তবে তফসিল ঘোষণার পর ঠিক করা হবে বলেও বৈঠকসূত্রে জানায়।ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেণ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত সকল ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ডাকসু নির্বাচনে দায়িত্ব পাওয়া নেতারা। এ বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। এ বৈঠকে তারা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।প্রায় তিন দশক পর আগামী ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো। তবে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ভোটকেন্দ্র করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে আপত্তি রয়েছে ছাত্রদল ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর। প্রায় ৯ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল। গত বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে মিছিল বের করেন তারা। মিছিলে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন- এখন কোনো নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তাই তারা ডাকসু নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি জানান।দীর্ঘদিন মিছিল মিটিং না করা ছাত্রদলের নেতাদের এমন দাবিকে ভিন্নভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনকে বাতিল ও ভ-ুল করার জন্য তারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ডাকসুর নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যনেল নিরঙ্কুশ বিজয় পাবে, এটা আমাদের আশা। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে ডাকসুর আগামীর ১১ মার্চের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই আমরা চাই। যদিও এই নির্বাচনে ভ-ুল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে।তিনি বলেন, যেই মুহূর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সে মুহূর্তে হঠাৎ ছাত্রদলের তারিখ পিছিয়ে দেয়ার দাবি নির্বাচনকে আতঙ্কে ফেলে দেয়া বলে মন্তব্য করেন তিনি। তারা এই নির্বাচনকে ভ-ুল করতে, এই নির্বাচন যাতে না হতে পারে সে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা বিশ^বিদ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ যেন জয়ী হতে পারে সে বিষয়টি আওয়ামী লীগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো ডাকসুর প্যানেল দেয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রলীগ জোটের পথে হাঁটতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। কাদের বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চারজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরা এই নির্বাচনকে সিরিয়াসলি নিয়েছি। গণতান্ত্রিকভাবে জয়লাভ করব বলে আশা করছি। জাতীয় রাজনীতিতে যেভাবে পোলারাইজেশন হয়, তার প্রভাবটা ছাত্র রাজনীতিতেও পড়ে। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা হয়তো এত বেশি সুবিধা নিতে পারে না। আর যাদের সামর্থ্য আছে নির্বাচন করার মতো, পোলারাইজেশনটা তারা করবে এবং তারা চেষ্টা করবে এখান থেকে একটা ফায়দা তোলা যায় কি না?
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত