শিরোনাম

১৪ দলে টানাপড়েন!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:৩৩, জানুয়ারি ১৮, ২০১৯

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের রাজনীতিতে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। গত জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে সৃষ্ট এ টানাপড়েন অনেকটা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। তবে একথা জনসমক্ষে বলতে নারাজ শরিক দলের নেতারা। অপেক্ষায় আছেন জোটপ্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের ক্ষোভ বা মতবিরোধের বিষয়টি তুলে ধরতে চান তারা। তথ্য মতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জোটের প্রার্থী নির্বাচনে অখুশি ১৪ দলীয় জোটের শরিকদলগুলো। জোটের প্রতীক নৌকার প্রার্থী হয়ে অন্তত ৩০ জন নেতা সংসদে যাবার স্বপ্ন দেখলেও তা ভঙ্গ হয়েছে। নতুন তো নয়ই, বরং গত মেয়াদেও চেয়ে কমেছে প্রার্থী সংখ্যা। ১৪ দলের কয়েকজন নেতাকে প্রথমে প্রার্থী করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তা বাতিল করা হয়। এরপর অনেকেই আশা করেছিলেন- ঠাঁই পাবেন মন্ত্রিসভায়। কিন্তু সেখানেও হতাশ হয়েছে। গঠিত মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের কাউকে রাখেননি শেখ হাসিনা। যা নিয়ে ভেতরগত অন্তর্দহনে ভুগছে জোটের শীর্ষ নেতারা। এরই মধ্যে গতকাল জোট রাজনীতির দূরত্ব চলছে, এমন ইঙ্গিত মিলেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের করা মন্তব্যে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিকরা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করলে তাদের জন্য ভালো এবং সরকারের জন্যও ভালো। তারাতো বিরোধী দলে থাকবেন বলে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সেটা কেমন বিরোধী দল তা ব্যাখ্যা করেননি তিনি।জোটে কোনো টানাপড়েন আছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দল আদর্শিক ও নির্বাচনি জোট আর মহাজোট কৌশলগত জোট। মহাজোট বা ১৪ দলে কোনো টানাপড়েন নেই, ভাঙনের সুর নেই, বিভেদ নেই। তবে, কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে আলোচনা করে তা নিরসন করা হবে।এদিকে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছে ১৪ দলের শরিক দলগুলো। কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া এমন বক্তব্যেও হতাশ হয়েছেন অনেকেই। তারা বলছেন, আমরা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসেছি। মন্ত্রিসভায় না থাকলেও সরকারি দল, সরকারের বিরোধিতা কেন করবো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় রাজনৈতিকভাবে জোট হিসেবে কাজ করছে ১৪ দল। সদ্য একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ (ইনু), জাসদ (আম্বিয়া), তরিকত ফেডারেশন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে এমপি হয়েছে। নৌকা প্রতীকের সাংসদ হয়ে, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধী দলে থাকা কতটা যৌক্তিক তা ভাবার বিষয়। জোটে কোনো মতবিরোধী নাই বলে দাবি করছেন ১৪ দলের নেতারা। ওবায়দুল কাদেরর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মতামত বলছেন তারা। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ১৪ দলের শরিকরা বিরোধী দলে থাকবে কীভাবে, এটা উনি (ওবায়দুল কাদের) বলতে পারবেন। এটা তার মতামত। ১৪ দল একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকারে আছে। এখানে কোনো টানাপড়েন নেই। বিরোধী দলেযাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারি এমপি বলেন, আমাদের কোনো বৈরিতা নেই। বাকিদের কথা বলতে পারব না। তরিকত ফেডারেশন বিরোধী দলে বা সরকারের বিরোধিতা করবে না, আমরা সরকারে আছি। এটা উনার মতামত, আমাদের কিছু জানা নেই। নেত্রী আমাদের সঙ্গে বসবেন, বসলেই বিষয়টা জানতে পারবো। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, এসব কথার কথা, জোটের পলিসি পরিবর্তন। আমরা অবগত নই। কারা বিরোধী দল হবে, সেটা সরকারি দল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এটা তার ব্যক্তিগত মত। মিটিং হলে বুঝতে পারবো, কেন বলেছেন। তিনি বলেন, ১৪ দল আদর্শগত রাজনৈতিক জোট। রাজনৈতিক স্বার্থই এখানে মূল, ব্যক্তিগত নয়। নির্বাচনের পূর্ব সময়ও সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি, এখনো হচ্ছে না। তারপরও কোনো টানাপড়েন নেই। সরকারে থাকলেও গঠনমূলক সমালোচনা আগেও করেছি, আগামীতেও করবো। সেটা বিরোধী দল নয়।জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার এমপি বলেন, ওবায়দুল কাদের যে কথা বলেছেন, আমরা এসব জানি না। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। আগামীতে আলোচনা হলে বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার হবে। গণ আজাদী লীগের মহাসচিব মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান বলেন, আমরা জোটের প্রতীক নৌকার নির্বাচন করেছি। নৌকা নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। এখন নৌকার সরকারের বিরোধিতা কেন করব, এটা তো আত্মঘাতী হবে। ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন বলেন, এককভাবে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। সরকারের কাছে সবই বিরোধী দল। তবে আমরা এমপি, মন্ত্রী না পেলেও নির্বাচনে জোটে ছিলাম, সরকারের সঙ্গেই আছি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৪ দল থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন ০৮ জন। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির ০৩ জন, জাসদ (ইনু) ০২ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ০১ জন, তরীকত ফেডারেশন ০১ জন, জেপির ০১ জন সাংসদ হয়েছেন। মনোনয়ন চেয়েও পাননি জোটের অন্যতম নেতা সাবেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান, শেখ হাফিজুর রহমানসহ একাধিক নেতা। শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ অনেককে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দল থেকে ১৬টি আসনে সাংসদ নির্বাচিত হয়। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।২০০৪ সালে ৯ দফা দাবিতে গঠিত ১১ দল ও আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (মোজাফফর), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মিলে রাজনৈতিক জোট ১৪ দল গঠন হয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত