শিরোনাম

অশান্ত ঢাকা-আশুলিয়া

প্রিন্ট সংস্করণ॥হাসান-উজ-জামান  |  ০০:১৬, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

টানা পাঁচদিন আন্দোলনের পর একদিনের বিরতিতে গতকাল শনিবার ফের রাস্তায় নেমেছে গার্মেন্ট শ্রমিকরা। গতকাল ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকাÑ সাভার ও আশুলিয়ায় ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। আশুলিয়ায় রাস্তা অবরোধ করেছে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন টাঙ্গাইল ও ঢাকাগামী যাত্রীরা। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর হয়েছে। বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী গার্মেন্ট শ্রমিকদের দাবি এক মাসের মধ্যে পূরণেরও আশ্বাস দেন। কিন্তু এর পরও আন্দোলন। ধারণা করা হচ্ছে তৃতীয় কোনো চক্রের কারণেই শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছে। শ্রমিক সেজে এর বাইরে ষড়যন্ত্রকারীরা ঢুকে পড়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কেউ উসকানি দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ন্যূনতম বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মিরপুরের বেশকিছু পোশাক কারখানার শ্রমিক গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনের সড়ক থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল মোড় পর্যন্ত অবস্থান করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঘণ্টা দুয়েক অবরোধের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকা থেকে সরে যায় তারা। টেকনিক্যাল মোড়ে কল্যাণপুর থেকে গাবতলী হয়ে যাওয়া সব যানবাহন আটকা পড়ে। আবার বিপরীত দিকে সাভার হয়ে ঢাকামুখী দূরপাল্লার গাড়িও এখানে আটকা পড়ে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি- পশ্চিম) লিটন কুমার সাহা জানান, আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনার পর সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এদিকে ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় গতকাল দুপুরে কিছু সময়ের জন্য আবার সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় হামীম গ্রুপের শ্রমিকরা দুপুরের খাওয়ার বিরতির সময় কারখানা থেকে বের হয়। এর পর কয়েকশ শ্রমিক কারখানার ভেতরে না ঢুকে কারখানার পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। ওই অবরোধে সড়কের দুপাশে কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়। এর আগে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে সকাল নয়টা থেকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা দফায় দফায় আবদুল্লাহপুর বাইপাস সড়ক অবরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ১০টি যানবাহন ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কাজ করে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে আশুলিয়া এলাকায় অর্ধশত কারখানা বন্ধ ছিল। এদিকে গত কয়েক দিনে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার ৯টি গার্মেন্টে ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গী এলাকার ৯টি গার্মেন্টে ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞে সরাসরি জড়িত পাঁচজন। তারা শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আন্দোলনে উসকানি আছে কি-না দেখবে গোয়েন্দা সংস্থা
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কেউ উসকানি দিয়ে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে পিছিয়েপড়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে কেউ যদি ব্যক্তি স্বার্থ বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও শ্রমিকদের দাবির বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ কাজ করছে। শিগগির তাদের দাবি মিটিয়ে দেওয়া হবে। তিনি শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বেশকিছু কারখানার শ্রমিকরা। বিজিএমইএ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের চেষ্টায় নির্বাচনের আগে আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়। তবে গত রোববার ঢাকার উত্তরার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। পরের দিনগুলোতে তা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মজুরি কাঠামো ও দাবি-দাওয়া পূরণ করার আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত