শিরোনাম

রিজভীর ঝটিকা মিছিলে বিরক্ত হাইকমান্ড!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ০০:৪৯, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

নিষ্ফল ঐক্যতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির লজ্জার পরাজয়। আওয়ামী লীগের ভাষ্য, বিএনপি আন্দোলনেও ব্যর্থ! এখন রাজপথে নেই বিএনপির উত্তাপ কর্মসূচি, কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেপ্তার-হয়রানিও কমে গেছে। নীরব হয়ে গেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতারা। তৃণমূলের নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন। এরপরও নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়েননি মিডিয়া কাভারেজ নেতা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মাসের পর মাস স্বেচ্ছাবন্দিত্ব জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। ইচ্ছা হলেই প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল-বিকাল দুই দফা গণমাধ্যম ডেকে ব্রিফিং করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যম পাড়ায় প্রতিদিন সকাল ১১টায় পল্টনে ‘রিজভীর ক্লাস’ বলে একটি শব্দও চালু হয়ে গেছে। সারাদিনে বিএনপির কোনো কর্মসূচি না থাকলেও বেলা ১১টা কিংবা রাত ৯-১০টায় প্রতিদিনই তার ব্রিফ থাকে! সম্প্রতি নতুন আরেকটি রীতি চালু করেছেন রিজভী। আধভোরে কিংবা সূর্যাস্তের সময় নীরবতাকালে রিজভীর ঝটিকা মিছিল! কোনো ইস্যু নেই, কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নেই, ওপর থেকে কোনো নির্দেশনা নেই ইচ্ছা হলেই কখনো ৭ জন কখনো ১৯ জন নিয়ে মিছিলে বেরিয়ে পড়েন! যদিও গতকালের মিছিলে ২১ জন ছিলো। রিজভীসহ মিছিলে থাকা লোকদের মাথা গুণে এই সংখ্যা জানা যায়। গতকাল শুক্রবার সকালে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড়ের দিকে ২১ জন নেতা নিয়ে অগ্রসর হন রিজভী! পরে দুপুর ১২টা ১ মিনিটে ছবিসহ মিছিলের একটি সংবাদ বিবরণী গণমাধ্যমে পাঠান বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন। ওই সংবাদ বিবরণী থেকে জানা যায়, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঝটিকা মিছিল করেন তিনি। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ৩০ ডিসেম্বর মহাভোট ডাকাতির নির্বাচন বাতিলের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর দৈনিক বাংলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেব দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মিছিলটি দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুলের দিকে এগিয়ে যায়। এ নিয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বহীন ইস্যুতে যখন-তখন প্রেস কনফারেন্স ডেকে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিয়ে নতুন করে ঝটিকা মিছিলে তার প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। বিএনপি জোটের বহু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ইস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রিজভীর প্রেস কনফারেন্স ও ঝটিকা মিছিল আয়োজনে। এদিকে বিএনপিতে আবাসিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। বারবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাবন্দি হয়ে থাকার কারণে নেতাকর্মীদের কাছে তিনি এ পরিচিতি পান। ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে টানা ৫৭ দিন ও ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে মাসাধিককাল নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাবন্দি ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় স্বেচ্ছাবন্দি থাকাকালে ভোরে মই বেয়ে দোতলার বারান্দায় উঠে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সর্বশেষ নিম্ন আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর দিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে রীতিমতো বাসাবাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন রুহুল কবির রিজভী। কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছোট্ট একটি কক্ষে অবস্থান করেন তিনি। সেখানেই খাওয়া-দাওয়া আর রাত কাটান।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত