শিরোনাম

আ.লীগের বিজয় সমাবেশে সর্ববৃহৎ জনসমাগম

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:২৮, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

টানা তৃতীয়বারের মতো বিজয় সমাবেশের মাধ্যমে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এজন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে সমাবেশ সফল ও উৎসরে রূপ দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় নেতারা। রেকর্ড জয়ের পর সারা দেশের নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল বা অন্য কোনো আয়োজনে বারণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যার কারণে সারা দেশের কোথাও আনন্দ মিছিল দেখা যায়নি। যার কারণে ভোটের মাঠে জয়, সরকার গঠনের পর দুটোকে এক সাথে স্মরণ করতে মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছে। এবার সমাবেশকে উৎসবে পরিণত করে বিজয় উদযাপন করা হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে সমাবেশকে কেন্দ্র করে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা ও আশপাশের নেতা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল গুলিস্তানস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঢাকা জেলা, গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উল্লিখিত জেলার সব উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের  সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। তথ্য মতে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে বর্ণিল সাজে প্রস্তুত করা হবে মঞ্চ। সোহরাওয়ার্দী ময়দানসহ আশপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের তথ্যসম্বলিত পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানো হবে। পুরো মাঠে আলোকসজ্জা করা হবে। আয়োজন করা হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সাজ-সজ্জা করা হবে আশপাশের সড়কগুলোতে। বিজয়ের পর প্রথম সমাবেশে বড় ধরনের শোডাউন করতে চায় আওয়ামী লীগ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে। এছাড়া ঢাকার পাশর্^বর্তী মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও মুন্সীগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী যোগ দেবে। বাস, ট্রাক ও রেলপথে নেতাকর্মী ঢাকায় এসে বর্ণিল মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী ময়দানে সমবেত হবে। ঢাকার সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দেবে।সমাবেশ সফল করতে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা বলেন, ১৯ জানুয়ারির সমাবেশে যুবলীগের প্রতিটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে কাজ করছি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী স¤্রাট বলেন, বিজয়ের পর প্রথম সমাবেশে নেত্রী যে বক্তব্য দেবেন সেটা শোনার জন্য সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণসমাজ অপেক্ষা করছে। আমরা গণসংযোগকালে সেটা প্রমাণ পাচ্ছি। দলমত নির্বিশেষে তরুণ সমাজ ঐদিন সোহরাওয়ার্দী মাঠে সমবেত হবে, যার নেতৃত্ব দেবে যুবলীগ। পুরো সমাবেশ স্থলে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এজন্য সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিশাল কর্মীবহর পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেবকের দায়িত্ব পালন করবে। দুই মহানগরসহ আশপাশের প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের উপস্থিত করাসহ সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার কাজ চলছে বলে জানান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, ১৯ জানুয়ারির সমাবেশকে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এবং আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবে রূপ দিতে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। দক্ষিণ মহানগরের সব থানা, ওয়ার্ডের সব নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রেকর্ড পরিমাণ মানুষ উপস্থিত থাকবে আশা করছি এবং আমরা গণসংযোগ করছি।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের বিশাল জয়ের পর যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে নেত্রী আনন্দ র‌্যালি করতে বারণ করেছিলেন। সেটা নেতাকর্মীরা পালন করেছেন। তাই আমরা বিজয়ের আনন্দ সমাবেশের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত