শিরোনাম

এমএলএম পদ্ধতিতে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আব্দুল লতিফ রানা  |  ০৩:০০, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

এমএলএম পদ্ধতিতে ভুয়া এজেন্সি খুলে চাকরি দেয়ার নামে সারা দেশেই প্রতারকচক্র জাল বিস্তার করেছে। এসব প্রতারক প্রতারণার মাধ্যমে দেশের বেকার যুবকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, অনেক যুবককে তাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিংয়ের নামে নিয়ে অপহরণের মাধ্যমে আটক করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, মোহাম্মদপুর, বনানী, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আলিশান অফিস করে। এরপর সোর্সের মাধ্যমে লোক নিয়োগের নামে প্রথমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর তাদের চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত দাবি করেন। একপর্যায়ে ওইসব বেকার যুবকদের মাধ্যমে আরও লোক নিয়োগের নামে টাকা নেয়। আর ওই টাকা থেকেই আগের নিয়োগপ্রাপ্তদের কমিশন দেওয়া হয়। এভাবেই সারা দেশে এই প্রতারকচক্র প্রতিনিয়ত বেকার লোকজনের কাছ থেকে এমএলএম পদ্ধতিতে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর প্রতারকচক্র এক জায়গায় বেশিদিন তাদের কার্যক্রম চালাতে না পেরে রাতের আঁধারে অফিসের মালামাল নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন গা-ঢাকা দেওয়ার পর পুনরায় অন্য এলাকায় অফিস নিয়ে কার্যক্রম শুরু করছে। এই প্রতারক চক্রের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার রাজধানীর বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারকচক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ।  সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. এনামুল কবির জানান, তার তত্ত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল হকের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাটারা থানাধীন বারিধারাস্থ নতুন বাজার এর প্লট নং-২, রোড নং-২, ব্লক নং- জে-এর প্রাইম অর্কেড বিল্ডিং-এর ৫ম তলায় এক্সিলেন্ট ট্রেড মার্কেটিং লিমিটেড নামক এজেন্সি খুলে প্রতারণার মাধ্যমে দেশের বেকার যুবকদের ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পান। এই অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন আশরাফুল ইসলাম, মো. আল আমিন মন্ডল @ রতন (৩০), মো. উজ্জল হোসেন (২৩), মো. শিমুল মোল্লা (১৯), মো. জহিরুল ইসলাম @ মো. পাপ্পু মিয়া (২০), আব্দুল মমিন (২৪), মো. শাহিন আলম (২৪), নূর আলম সিদ্দিকি (২৫), মো. মাজেদুল ইসলাম (২৫), ইমরুল হাসান (২৩), মো. মনিরুজ্জামান (২৪), রিংকু কুমার দাস (৩০), অভিজিৎ পান্ডে (২৪)। এদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-১১। অপরদিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় চাকরির প্রলোভনে এনে অপহরণের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব কুরবান আলী নামে ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গেছে, জুয়েল নামের এক যুবক চাকরি ছেড়ে ঢাকা থেকে গ্রামে গিয়ে কিছুদিন অবস্থান করেন। পরে জুয়েলকে তার বন্ধু মুসা ঢাকায় কাস্টমসে চাকরির প্রলোভন দেন। জুয়েল রাজি হলে তার ঠিকানায় একটি ভুয়া নিয়োগপত্র পাঠান মুসা। এরপর চাকরিতে যোগদানের জন্য ঢাকায় এলে সেই চাকরিদাতা বন্ধুর হাতেই অপহৃত হন তিনি। এই অপহরণের অভিযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার অভিযান নামে র‌্যাব-২-এর সদস্যরা। এরপর মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার ফাঁদ পেতে সেদিন রাতেই তেজকুনিপাড়া থেকে কুরবান আলীকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে উদ্ধার করা হয় অপহৃত জুয়েলকে।আটক কুরবানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-২-এর অপারেশন অফিসার এএসপি সাইফুল মালিক সাংবাদিকদের জানান, চাকরির কথা বলে জুয়েলকে কুরবান আলীর নিজের বাসায় নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য মারধর করা হয়। হাতুড়ি ও ইলেকট্রিক তার দিয়ে চলে নির্যাতন। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর কথা বলেন জুয়েল। অপহরণকারীরা জুয়েল আহম্মেদের কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় জুয়েলকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর জুয়েলের পরিবার র‌্যাব-২-এর কাছে অভিযোগ করে। র‌্যাব সদস্যরা অপহরণকারীদের কথা মতে বিভিন্ন সময় বিকাশে ২০ হাজার টাকা দেয়। এরপর গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে রাজধানীর তেজকুনিপাড়া থেকে কুরবানকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে, উদ্ধার করা হয় জুয়েলকে। আটক কুরবান আলী প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন, তার বন্ধু মুসার যোগসাজশে এই অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন তারা। র‌্যাবের এএসপি সাইফুল মালিক জানান, আটক কুরবানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর তাদের সহযোগী পলাতক মুসাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত