শিরোনাম

সংরক্ষিত এমপি হতে নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

প্রিন্ট সংস্করণ॥মো রফিকুল ইসলাম  |  ০০:০৯, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

টানা তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। এবার আলোচনায় কারা হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নারী নেত্রীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নারী নেত্রীরা। দশম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বর্তমান এমপিদের প্রায় সবাই এবারও একই পদ ধরে রাখতে জোর লবিয়িং শুরু করেছেন। তাদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলটির সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নারীনেত্রীরাও এই পদে আসতে কাজ করছেন। সেই জন্য আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নেতাদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন মনোনয়নপ্রত্যাশী নারীরা। শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, নবগঠিত সরকারের মন্ত্রীদের কাছেও ধরণা দিচ্ছে তারা। এছাড়াও এই নির্বাচনে আলাদা গুরুত্ব ছিলো সংস্কৃতিকর্মীদের। তাই তারাও এবার সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন পেতে কাজ শুরু করেছেন।  গত ৩০ ডিসেম্বর দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগ। প্রথমে সংসদ সদস্যদের শপথ এর পর পরই মন্ত্রিসভা গঠন। এখন চলছে ক্ষমতাসীন দলটি নারী নেত্রীদের সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ায়র জন্য জোর লবিয়িং। সংরক্ষিত আসনে নারী এমপি পদে আসতে ইচ্ছুকদের মধ্যে অনেকে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রায় প্রতিদিনই তারা গণভবনে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে গত সংসদগুলোতে সংরক্ষিত নারী এমপি পদে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারাও এবার সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য কাজ করছে। এদিকে, সংরক্ষিত মহিলা আসন সাতক্ষীরা (৩১২) থেকে সংসদ সদস্যের মনোনয়নের জন্য নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন চৌধুরী নুরজাহার মঞ্জুর। তিনি সাতক্ষীরার সাবেক পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের স্ত্রী। বর্তমানে চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত। সাতক্ষীরার সাবেক এই পুলিশ সুপারের স্ত্রীর প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে সর্বত্র চলছে আলোচনা। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকানসহ রাজনৈতিক মহলে চল এই আলোচনা। প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) দল ও জোটওয়ারী তালিকা তৈরি করবে এবং ভোটার তালিকা ইসিতে টানিয়ে দেবে। এরপর ৩০০ আসনের বিপরীতে ৫০টি সংরক্ষিত আসনে দল কিংবা জোটের অনুকূলে বরাদ্দ করা হবে। গেজেট প্রকাশের নব্বই দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী এমপি নির্বাচন শেষ করতে হবে ইসিকে। গত ১ জানুয়ারি ইসি এবারের নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করেছে। এ হিসাবে ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই সংরক্ষিত নারী এমপি পদে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু এবং ২৯ মার্চের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। জাতীয় সংসদে তিনশজন সরাসরি নির্বাচিত হন। এরপর সংরক্ষিত আসনে ৫০ নারী এমপি নির্বাচিত করা হয়। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে প্রতি আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত নারী আসন দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ১৬৭টি। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি দল ও জোট একজন করে সংরক্ষিত নারী এমপি পাবে। এ পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচিত ২৫৭ জন এমপির জন্য প্রায় ৪৩ জন সংরক্ষিত এমপি পাবে। জাতীয় পার্টি ২২ জন নির্বাচিত এমপির বিপরীতে চারজনের মতো নারী এমপি পাবে। এবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২৮৮ জন নির্বাচিত সংসদের বিপরীতে ৪৮টি আসন পাওয়ার কথা। সংসদে ১৪ দল ও মহাজোট শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, বিকল্পধারা, বাংলাদেশ জাসদ, তরীকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি) এবং স্বতন্ত্র প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। তবে তাদের কারও আসন তিনের বেশি নয়। ফলে তাদের সংরক্ষিত নারী এমপি পেতে হলে জোট থেকে পেতে হবে। এ ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাতজন এমপি রয়েছেন, যাদের পাঁচজন বিএনপির ও দুজন গণফোরামের।জানা গেছে, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তফসিল দিয়ে মার্চের মধ্যেই ভোটগ্রহণ করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলো বাছাই করে তাদের পছন্দের নারীদের মনোনয়ন দিতে পারবে। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপ্রাপ্তদের বিনা প্রতিদ্বনিদ্ধতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবেন। আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন এবং মন্ত্রিসভা গঠনের চমক দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংরক্ষিত আসনের এমপি পদেও চমক থাকবে। তবে কারা আসছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এখানেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন শেখ হাসিনা।তথ্যমতে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের টিকিট পেতে আওয়ামী লীগের দেড় শতাধিক নারী নেত্রী মাঠে কাজ করছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক সামসুন নাহার চাপা, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি, ড. শাম্মী আহমদে, মেরিনা জাহান, উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানু আখতার, শ্যামপুর-কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া বেগম, সাধারণ সম্পাদক মাহমদুা বেগম কৃক, সহ-সভাপতি শিরীন নাঈম পুনম, সহসভাপতি নাসিমা ফেরদৌসী, সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, সহ-সভাপতি কোহলী কুদ্দুস মুক্তি, আশরাফুন্নেছা পারুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সেলিনা জাহান লিটা, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, মাহজাবিন খালেদ বেবী, ওয়াসিকা আয়েশা খান, অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এবং আখতার জাহানসহ আরও প্রায় অন্তত শতাধিক নারী ‘সংরক্ষিত’ এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী এমপি পদে আলোচনায় আছেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেছা তালুকদার, শরীয়তপুরে সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সহধর্মিণী মাজেদা শওকত, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি সাবেক সংরক্ষিত নারী এমপি চেমন আরা তৈয়ব, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিঘাত পারভীন, রাজশাহী জেলা মহিলা লীগ সভাপতি মর্জিনা পারভীন, কক্সবাজার জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী কানিজ ফাতেমা আহমেদ, বরিশালের জেবুন্নেছা আফরোজ, ময়মনসিংহের মনিরা সুলতানা, গোপালগঞ্জের আরিফা আকতার রুমা ও শেখ মিলি, নীলফামারীর অ্যাডভোকেট তুরিন আফরোজ, মৌলভীবাজারের সায়রা মহসিন, কুষ্টিয়ার সুলতানা তরুণ, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা মান্নান। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নন, কিন্তু শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করছেন এমন বিভিন্ন পেশাজীবী নারীদের নামও রয়েছে আলোচনায়। এর মধ্যে রয়েছেন- অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী, অভিনেত্রী অঞ্জনা, তারিন, জ্যোতিকা জ্যোতি, অপু বিশ্বাস, অরুনা বিশ্বাস, তানভিন সুইটি।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতেই দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে। তাই এই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখার জন্য আমাদের নেত্রী যাকে মনোনয়ন দিবে দলের সবাই তাকে সাথে নিয়ে কাজ করবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই সারাদেশের নারীদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে কাজ করছে। নারীদের এই ধারাবাহিকতা অব্যহিত রাখার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হানিসা তৃণমূল নারী নেত্রীদের মূল্যয়ন করবে। তিনি বলেন, যারা দল এবং সরকারের দুর্দিনে ত্যাগ স্বীকার করে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কাজ কছে এবং দলের বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে সফল হয়েছে-এমন জনপ্রিয় নেত্রীরাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন।

সংরক্ষিত ৪টি আসন চায় জাপা
একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির চারজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে স্পিকার বরাবর আবেদন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। যদিও জাতীয় পার্টির নির্বাচিত ২২ সদস্যের আনুপাতিক হারে দলটি তিনটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার কথা। গতকাল বুধবার চারজনের নাম উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা হলেন ১. পারভীন ওসমান (নারায়ণগঞ্জ), ২. ডা. শাহীনা আক্তার (কুঁড়িগ্রাম), ৩. নাজমা আখতার ফেনী), ৪. মনিকা আলম (ঝিনাইদহ)।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত