শিরোনাম

নতুন মন্ত্রিসভাকে পলিসি পরিবর্তন বলছে শরিকরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:৪৭, জানুয়ারি ০৯, ২০১৯

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট ১৪ দলের নেতারা। গত দুই মেয়াদে সরকারে থাকলেও নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি জোটের কোনো নেতার। এটা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করলেও ভেতরগতভাবে ক্ষুব্ধ ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়াকে জোটগত রাজনীতিতে পলিসি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন তারা।গত সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে টানা তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৭ জনের সবাই আওয়ামী লীগের। এর আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সব সরকারই ছিল অংশগ্রহণমূলক। জোটের শরিক দল, এমনকি বিরোধী দলের প্রতিনিধিও ছিল সরকারে।২০০৮ সালের গঠিত জোটভুক্তদলের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ছিলেন- জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিএম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নু, জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারেও হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, মশিউর রহমান রাঙ্গাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনকালীন সরকারের জোটের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভায় নিজ দল আওয়ামী লীগের বাইরের কাউকে নেননি শেখ হাসিনা। যা সাধারণ মানুষের মতোই চমকে গেছেন ১৪ দলের নেতারা। মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের কাউকে রাখা হবে না এমন চিন্তা ছিল না কারোই। মন্ত্রিসভায় অন্তত চার থেকে পাঁচজন সদস্য চার দল থেকে আনা হবে এমন গুঞ্জন ছিল সর্বত্র।তথ্য মতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জোটের প্রার্থী নির্ধারণেও জোটকে অবহেলার চেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে। মনোনয়ন পাননি সাবেক সাংসদ নাজমুল হক প্রধান, শেখ হাফিজুর রহমানসহ একাধিক নেতা। জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়াসহ অনেককে মনোনয়ন দেয়া হলেও পরে বাদ দেয়া হয়। এরপরও নির্বাচনে জোটের শরিক দলগুলো ৩১ আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির তিনজন, জাসদ (ইনু) দুজন, তরিকত ফেডারেশন একজন, জেপির একজন সাংসদ হয়েছেন। জাতীয় পার্টি থেকে ২২ জন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ থেকে দুজন সাংসদ হয়েছেন। গুঞ্জন উঠেছিল- এদের অনেককে মন্ত্রিসভায় নেয়া হবে। মুখ পরিবর্তন হলেও অন্তত চারজনকে মন্ত্রিসভায় নেয়া হবে।নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, মন্ত্রিসভার এমন পরিবর্তনের বিষয়ে আমরা অবহিত নই। যেভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে, তাতে ১৪ দলকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি, আগে যেভাবে ছিল। পরিবর্তন আনা হয়েছে, এটা নিয়ে আমরা অবহিত না। এটা পলিসি পরিবর্তনের মতো হয়ে গেছে।নতুন কারো জোট নেতাদের মন্ত্রিসভায় আসার সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাদ দেয়া হয়েছে, এটা রিয়েলিটি, ভবিষ্যতে কি হবে, এটা বিবেচনা করা এখন যুক্তিযুক্ত না। সদ্য বিদায়ী সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কেউ অবগত নই। তবে সবার আশা ছিল, মন্ত্রিসভায় শরিকদের থাকাটাই স্বাভাবিক। নিশ্চয়ই এর ব্যাখ্যা শরিকদের পরে জানানো হবে।এদিকে, গত দুই মেয়াদে সরকারে থাকলেও এবার বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা, ছোট ভাই কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে বলে জাপার একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছে।নতুন মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করলেও এখনই হতাশ হচ্ছেন না ১৪ দলের অনেক নেতা। ১৪ দলের একাধিক নেতা মনে করছেন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সময় শেষ হয়নি। আগামী ১ বছরের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।বাংলাদেশ গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসকে সিকদার বলেন, মন্ত্রিসভা নিয়ে আমরা হতাশ নই। সময় এখনো শেষ হয়নি, অপেক্ষা করতে হবে। জোটনেত্রী শেখ হাসিনা সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমি আশাবাদী তিনি ১৪ দলের যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করবেন। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া জানান, ১৪ দল থেকে মন্ত্রী করা হলে সুন্দর হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী যে এনার্জিটিক মন্ত্রিসভা করেছেন, তা ইশতেহার বাস্তবায়নে আশানুরূপ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আমরা হতাশ নই এবং জোটের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। শরিকদের মন্ত্রিসভায় না রাখা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলীয় জোট কাউকে মন্ত্রী করার শর্তে গঠন করা হয়নি। মন্ত্রী হলে জোটে আছি, না হলে না বিষয়টি এমন নয়। আর তাছাড়া পাঁচ বছর অনেক বড় সময়। এর ভেতরে অনেক রদবদল হতে পারে। তখন জোট থেকে বা দলের ভেতর থেকে অনেকেরই ডাক পড়তে পারে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত