শিরোনাম

শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় নতুন মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন কারা

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০৫:১৮, জানুয়ারি ০৪, ২০১৯

সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যরা শপথ নিয়েছেন গতকাল বৃহস্পতিবার। এবার মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পালা। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গত দুবারের মতো এবারো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। নির্বাচিত এমপিদের শপথের পর এবার আলোচনায় রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ গঠনের বিষয়টি। তাই গণভবন থেকে সচিবালয় সর্বত্রই এখন আলোচনায় বিষয় মন্ত্রিত্ব নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের মুখে মুখে এখন ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন আসছে বারবার। মন্ত্রিপরিষদে কারা আসছেন? কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন কোন নেতা? অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় অর্থাৎ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে, না বর্তমান মন্ত্রীরাই নতুন করে দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিয়েও গুঞ্জন এখন শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় শিক্ষা মন্ত্রলালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় নুরুল ইসলাম নাহিদকে। ৫ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভের পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গঠনের সময়ও নুরুল ইসলাম নাহিদের ওপর আস্থা রাখেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। দ্বিতীয়বারের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনে অংশ নেয়া নাহিদকে। টানা ১০ বছর শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সময়, শিক্ষকদের আন্দোলন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক কনটেন্ট যুক্ত করাসহ নানা অভিযোগ ওঠে নাহিদের ওপর। তবে সারাদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক এক পরিবর্তনও আসে এই ১০ বছরে। বিশেষ করে বছরের প্রথম দিনে সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব চেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া সরকারের গণমুখী কার্যক্রমের ফলে শিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। সমৃদ্ধির পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। স্কুলে ভর্তির হার শতভাগ, ছাত্র-ছাত্রীর সমতা, নারী শিক্ষায় অগ্রগতি, ঝরে পড়ার হার কমে যাওয়াসহ শিক্ষার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোল মডেল এখন বাংলাদেশ। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই সাফল্যের কা-ারি হয়ে কাজ করেছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের ২৩ হাজার ৩০০টি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন বিষয় হিসেবে ‘তথ্য প্রযুক্তি’ অন্তর্ভুক্ত করাসহ নানা সাফল্য আসে গত ১০ বছরে। তাই শিক্ষা পরিবার এবং আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব এবারো নাহিদকেই দেয়া হচ্ছে। বিকল্প কারো নাম এখন পর্যন্ত জোরালোভাবে সামনে আসেনি। গত এক বছর ধরে এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা কাজী কেরামত আলীও পুনরায় দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কেউ কেউ মনে করেন প্রতিমন্ত্রীর পদে আসবে পরিবর্তন। এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গত ৫ বছর ধরে মন্ত্রীর দায়িত্বে পালন করছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো সমালোচনা নেই। বিনয়ী ও সজ্জন বলে পরিচিত ফিজারকে এ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই। তবে ফিজারের পরিবর্তে কাকে এ পদে আনা হবে তা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি কেউ। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিজার স্যার আবারো মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার ও যুগোপযোগী প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বেশ ইতিবাচক কাজ করতে পারবেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একজন নেতা আমার সংবাদকে বলেন, গত ১০ বছরে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী যাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের মধ্যে নাহিদ সাহেব অন্যতম। প্রশ্নফঁাঁস নিয়ে দেশব্যাপী যখন সমালোচনা শুরু হয়, নেত্রী তখন নাহিদ সাহেবকে শক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে বলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের কথা শোনা যায়নি। এ ছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে নাহিদ সাহেবের সাফল্য অনেক। তাই নেত্রী তার ওপর আবারো আস্থা রাখতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কোন মন্ত্রলায়ের দায়িত্ব কে পাবেন তা শুধুমাত্র শেখ হাসিনাই নির্ধারণ করবেন বলে জানান দলটির একাধিক নেতা। তারা মনে করেন, মন্ত্রিত্ব পেতে বিগত দিনের সাফল্য, দলের প্রতি ত্যাগের বিষয়টিই গুরুত্ব দেয়া হবে। তবে দায়িত্ব কাদের কাঁধে যাচ্ছে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় তাতে মোট সদস্য ছিলো ৪৮ জন। ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী এবং ২ জন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে কয়েক দফা মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা হলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়ায় ৫২ সদস্যের। বর্তমান মন্ত্রিসভায় ৪৪ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী আছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত