শিরোনাম

জামায়াতের ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ০০:৩০, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

*ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা কামালের
*জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হলেও শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবেন কিনা তার নিশ্চয়তা নেই
*ভোটের দিন ঐক্যফ্রন্ট মাঠে থাকার কৌশল নির্ধারণ
*প্রার্থী ও এজেন্টদের করণীয় কী হবে নির্দেশনা
*শূন্য আসনগুলোতেও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী থাকবে

ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি। বিএনপির নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্য এবারো জামায়াতে ইসলামী ২০১৪-এর মতো ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছিলো। জামায়াতকে বিএনপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল এবার তাদের দাবি মানা অসম্ভব, ভোট বর্জন করা হবে না। শেষ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে। ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দেশের বৃহৎ স্বার্থকেই বিএনপি বিবেচনা করবে। ভোটে থাকলে একটা গণবিস্ফোরণে বিজয়ের ইঙ্গিত আসবে।বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সূত্রের দাবি, গত বুধবার রাতে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির কাছে ভোট বর্জনের এজেন্ডা নিয়ে গিয়েছিলো। সঙ্গে জোটের কয়েকজন শরিককেও নিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক শক্তিসহ ভোটের নানান সমীকরণ ছক আকারে তুলে ধরা হয়। বিএনপির কাছে জামায়াতের দাবি, নির্বাচনে থাকলে ফের আওয়ামী লীগকে আরেকবার বৈধতা দেয়া হবে। চলমান পরিস্থিতিতে ভোট করলে বহু প্রার্থীর জীবন নিয়েও শঙ্কা আছে। আন্তর্জাতিক সহানুভূতিও হারাতে হবে। তাই ভোট বর্জন করে আন্দোলনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়। নির্বাচনের আগেই বিএনপি ভোট বর্জন করলে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলনে প্রথম সারিতে থাকার আশ্বাস দেয়া হয়। আন্দোলনের চূড়ান্তরূপে পুনরায় ভোট হতে বাধ্য। তাতে বিএনপিই ক্ষমতায় আসবে! বিএনপির কাছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা হালিম এ প্রস্তাবনা নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবি। এ এজেন্ডা উপস্থাপনের প্রেক্ষিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানিয়ে দেন এখন আর বিএনপি এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব নয়। অনেক কিছুতে ড. কামালের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। তাই কৌশলে জামায়াতকে বৈঠকে উত্তর দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জামায়াতের সিদ্ধান্ত যদি বিবেচনায় আসতো তাহলে বিএনপি গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনের বয়কটের ঘোষণা দিয়ে দিতেন। ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে দীর্ঘক্ষণ জামায়াতের দাবি বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত হয় যে বিএনপি এবার আর ভোটের মাঠ ছাড়বে না। বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ভোটের মাঠে থাকার চূড়ান্ত ঘোষণা দেন। তিনি বলেছেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করেছি। সেভাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি বিজয় অর্জন করবো। এ বিজয় জনগণের।’ বিএনপির একাধিক সূত্র মতে, ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে বিএনপির ভিত্তি মজবুত হোক এটা জামায়াতে ইসলামী চাচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্ট থাকার কারণে জামায়াতের অনেক সিদ্ধান্তই আলোর মুখ দেখছে না। জোটে জামায়াতের যে মূল্য তাও ড. কামালের নেতৃত্বের কারণে কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া জামায়াতের যে ২৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে আছে তারা শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। হয়তো অদৃশ্য কারণে নির্বাচনের আগের দিন হলেও বাতিল হয়ে যেতে পারেন। আর তা না হলে নির্বাচনের পরে যে তাদের যদি জয়ী প্রার্থীও থাকে তারা সংসদীয় নেতৃত্ব দিবেন তার কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই বিএনপির চলমান শক্তিধর নেতৃত্ব ও অস্তিত্ব বজায় থাকুক তা বিএনপির পছন্দ হচ্ছে না। এদিকে এতদিন জামায়াত নিয়ে মুখ না খুললেও গতকাল একটি ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, জামায়াত নেতারা ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হবে জানলে ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব নিতাম না। ভবিষ্যৎ সরকারে যদি জামায়াত নেতাদের কোনো ভূমিকা থাকে, তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একদিনও থাকবো না। গতকাল পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারস্থ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ড . কামাল আরও মন্তব্য করেন। ‘আজকে এই নির্বাচন হলো তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে, যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আজকে আমাদের ঐক্যের ভিত হলো স্বাধীনতার শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা, সংবিধানে যে কথা লেখা আছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত করার পথ সংবিধানে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই নির্বাচন হলো সেই পথের এক নম্বর দিক।’ পরির্বতনের জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে দেশবাসীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দিবেন, এটা কোনো দলের প্রতীক নয়, ঐক্যের প্রতীক। এটা দলের জন্য বলছি না। ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তিকে ভোট দেন, ধানের শীষে ভোট দেন।’ কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশে মানুষের মধ্যে কোনো ভয় নেই। যা করা হচ্ছে এটা নাজেহাল করা হচ্ছে, নিপীড়ন করেছে, কিন্তু মানুষ দমে যায়নি। এতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হচ্ছে।’ আজকের এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতিহাসের বিশ্বাসঘাতকদের তালিকায় স্থান পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ইতোমধ্যেই সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। সেজন্য প্রশাসনের ওপর ভর করেছে। সাংবাদিকদের ফখরুল বলেন, আপনারা কোনো চাপে মাথানত করবেন না। সত্য তুলে ধরবেন। এ সময় তিনি দেশেবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চান।’ প্রার্থীশূন্য আসনগুলো নিয়ে জানতে চাইলে আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের কোনো আসনই ফাঁকা থাকবে না। সবগুলোতে প্রার্থী থাকবে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ভাষ্য, নির্বাচনের দিনই তাদের আন্দোলনের দিন। তফসিল ঘোষণার আগে আন্দোলনে নামেনি বিএনপি। কারণ তারা শক্তি ক্ষয় করতে চায়নি। তাই নির্বাচনের দিনকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে মাঠে থাকতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন সকাল থেকে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দিতে বলা হয়েছে কেন্দ্র থেকে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে নেয়া এবং নেতাকর্মীকে মাঠে রাখার কৌশল নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের কর্মপন্থা ঠিক করা হয়েছে। ভোটের আগে তা নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র থেকে মেসেজ, ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে মাঠের চিত্র পাল্টে যাবে। এ কারণে নির্বাচনের দিন কর্মী-সমর্থকদের কীভাবে কেন্দ্রে নেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনাও নির্ধারণ করেছেন নীতিনির্ধারকরা। প্রার্থী ও এজেন্টদের করণীয় কী হবে তাও ঠিক করা হয়েছে। আগের রাতেই নির্দেশনা পৌঁছিয়ে দেয়া হবে। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর আমরা বিদেশিদের বলেছি কেন নির্বাচনে যাইনি। এবার সেই প্রমাণ বিদেশিরা পাচ্ছেন। প্রচারের পর হামলা-মামলার ঘটনায় সবাই বুঝতে পেরেছে সরকারের চরিত্র। চূড়ান্তভাবে মাটি আঁকড়ে ধরে মাঠে থেকে দেশবাসী ও বিদেশিদের সামনে সরকারের মুখোশ উন্মোচন করতে চাই। আবার বিজয় আমাদের হবেই।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত