শিরোনাম
আমার সংবাদের মুখোমুখি ড. কামাল হোসেন

আমি শঙ্কিত নই; নির্বাচনে থাকাটা অসম্ভব হলে...

আবদুর রহিম  |  ১৮:০৩, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হঠাৎ ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে মতিঝিল চেম্বারে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গেও ফোনে কথা হয়েছে ড. কামালের।

সাক্ষাৎ শেষে মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তার (ড. কামাল) কাছে সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছি। নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল বলেছেন, তিনি সুস্থ আছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে এক ব্যক্তির অডিও ফাঁস হয়। সেখানে বলতে শোনা যায়, ওই ব্যক্তি লন্ডন সূত্রে জানতে পেরেছেন, নির্বাচনের আগের দিন হলেও ড. কামালকে হত্যা করা হবে! এর পরপরই রাজনৈতিক পাড়ায় গুঞ্জন উঠে নিরাপত্তার জন্য হয়তো ড. কামাল হোসেন গৃহবন্দি হতে পারেন!

বুধবার (২৬ডিসেম্বর) দুপুরে সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে দৈনিক আমার সংবাদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের এই সংবিধান প্রণেতা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আইনজীবী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ড. কামাল হোসেন।

এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন কিনা? ফলাফল যা হয় তা মেনে নিবেন কিনা? নির্বাচনের দিন বর্জনের গুঞ্জন রয়েছে এটি সত্য কিনা? নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে তিনি শঙ্কিত কিনা?

এ প্রশ্নগুলো নিয়ে তিনি আমার সংবাদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেছেন, আমি শঙ্কিত নই, তবে প্রয়োজন হলে বাসায় নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা করে দেবেন বলে ডিএমপি থেকে জানিয়েছেন।

নির্বাচন বর্জন বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে আছি শেষ পর্যন্ত আমাদের তো এ বক্তব্য ধরে রাখতে হবে। আমাদের থাকাটা যদি অসম্ভব করে দেয় এগুলো মানুষ দেখছে তাই না, মানুষ তো তখন বলবে এরা তো ছিল তাদের নির্বাচনে থাকাটা অসম্ভব করে দেয়া হয়েছে...

হঠাৎ পুলিশ আপনার চেম্বারে আসলো কেন? পুলিশ কি আপনাকে আটক করতে আসলো? এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এটা তো তারা পরিষ্কার করেনি। তবে আমি শুনেছি নিচে অনেক পুলিশ এসেছে। ডিএমপি থেকে পুলিশ এসেছে আমার সাথে কথা বলতে। তারা (পুলিশ) আমায় বলেছে আপনার নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আপনার কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদের বলতে পারেন। আমরা প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে সিকিউরিটি নিয়ে থাকবো। প্রয়োজনে আপনাকে বাসায় ব্যবস্থা করে দিতে পারি যদি আপনি চান। আপনি বাইরে গাড়িতে করে চললে আমরা সেরকম সিকিউরিটি করে দিতে পারি। এছাড়া আর তেমন কিছুই বলেনি।
আমরা আপনাকে সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছি বলে তারা জানিয়ে গেছেন।

ফোনে ডিএমপি কমিশনারের সাথে কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, উনি ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, উনি আসার কথা ছিল আসতে পারেনি। একটা কাজে উনি আটকা পড়েছেন। নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কিছু কথা হয়েছে।

গণমাধ্যমে দেখা গেছে আপনি পুলিশকে জানোয়ার বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য কিনা?

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি পুলিশকে এই অর্থে বলি নাই। আমি পুলিশকে মানুষের ভূমিকা পালন করতে বলেছি। আমি তো সবসময় বলি, পুলিশকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা নিরপেক্ষভাবে পালন করতে। ৪০ বছর পর্যন্ত এটা বলে আসছি। পুলিশকে আমি অনেক মূল্য দিই। ২৬ মার্চের রাতে রাজারবাগের পাশে আমার বাসা ছিলো। তখন দেখেছি কত পুলিশ যে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছে। তা তো আমি দেখেছি... ৮৩ সালের কথা, এরশাদের সময় আমাকে এরেস্ট করা হয়েছিল।

এরপর রাজশাহী থেকে আমাকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। তখন আমি চোখে পানি দেখেছি পুলিশের চোখে। আমাকে জড়িয়ে ধরে পুলিশ কান্না করেছে। তারা আমাকে বলছে... স্যার এটা মেনে নিতে পারি না আপনাকে গ্রেপ্তার করতে হচ্ছে। আসলে আমার সব বক্তব্য পুলিশের প্রশংসায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় পুলিশ যে ভূমিকা পালন করেছে তারা তো স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছে। এদেশের জনগণের অধিকারের পক্ষে কাজ করেছে।

নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দুদিন, পরিস্থিতি কেমন হতে পারে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এখনো ধরপাকড় চলছে। প্রত্যেক জেলা থেকে প্রার্থীরা বলছেন, তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এ হামলার ঘটনা অস্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে। নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি আমার লাইফেও দেখিনি। এরপর কী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে ভাবছেন?

উত্তরে কামাল হোসেন বলেন, আসলে আপনারা তো জানেন, আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, আক্রমণ করা হচ্ছে, পুলিশ বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে, নেতাকর্মীদের ধরছে... আমরা এগুলো পুলিশকে জানিয়েছি।

এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবেন কিনা? এ বিষয়ে আমার সংবাদকে ড. কামাল বলেন, এ বিষয়ে দুইটাই বলি... একটা আশাতো আমরা করি, নির্বাচনতো কারো খেয়াল-খুশির ব্যাপার না। সংবিধান বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচন করা সরকারের দায়িত্ব, সে দায়িত্বতো আমরা সব সময় স্মরণ করিয়ে দেব। আসলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা এটাতো এখন চিন্তা করাও দূরের বিষয়! আশঙ্কা তো হচ্ছে... যেভাবে কার্যকলাপ চলছে, পাইকারিভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আক্রমণ হচ্ছে। ঢাকায় আমাদের প্রার্থীদের ওপর তিন-চারবার হামলা হয়েছে। এটা বিশ্বাস করা যায় না। যেভাবে হামলা হয়েছে কিছু প্রার্থীকেতো আমরা পেতামও না! এগুলো আমি জীবনেও দেখিনি। এভাবে চলতে পারে না।

যদি একপক্ষীয় নির্বাচন হয়, আপনারা নির্বাচনে যেতে না পারেন, আর জনগণও ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভয় পাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা কী থাকবে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, শেষ পর্যন্ত আমাদেরতো বক্তব্য ধরে রাখতে হবে। ওরা যেন না বলতে পারে আমরা নির্বাচন থেকে সরে গেছি। ভোটে থাকা আমাদের অধিকার। আমরা থাকার চেষ্টা করে যাবো। তারা যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকাটা অসম্ভব করে দেয় এগুলো মানুষ দেখছে না? মানুষ দেখছে, মানুষও তখন বলবে এরাতো ছিল তাদের নির্বাচনে থাকাটা অসম্ভব করে দেয়া হয়েছে...

সিইসির পদত্যাগ দাবি করছেন আবার ভোটেও থাকছেন, এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত এমন প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, এটা কোনো সমস্যাই না। কেন পদত্যাগ দাবি করেছি সে তো আপনিসহ সবাই জানেন। আজকের পত্রিকায় অনেক ঘটনা দেখেছি। সে তো বুঝতেই পারছেন।

এরপর ফলাফল যা হয় মেনে নেবেন কিনা? উত্তরে কামাল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বুঝে উত্তর দেব... এতো আগ থেকে বলা যায় না।
নির্বাচনের দিন আপনারা সরে যেতে পারেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে উত্তরে আমার সংবাদকে ড. কামাল হোসেন বলেন, এখনো আরো দু-তিনদিন বাকি আছে... আগে কেমনে বলবো।

২৭ তারিখ ঢাকায় সমাবেশ হবে কিনা জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এখনো আমাদের পারমিশন দেয়া হয়নি। ইলেকশনের আগে ঢাকায় মিটিং করতে দেয়া হবে না এটা নতুন দেখছি। আমার জীবনে এটা শুনতে হবে মানা যায় না। জনগণ লড়াই করেছে। সংঘবদ্ধভাবে লড়াই করছে। জনমত গঠন করা হয়েছে। রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে বাধ্য করা হবে।

মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, তাতে বলতে শোনা যাচ্ছে নির্বাচনের আগের দিন হলেও আপনাকে হত্যা করা হতে পারে। এটি কী আপনি জানেন? উত্তরে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি মাত্র শুনলাম! এরকম কিচ্ছু আমি শুনিনি। আমি আতঙ্কিত নই। বয়স অনেক হয়েছে আর কয়দিনই বা বাঁচবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত