শিরোনাম

৭০ আসন ছাড়ছে বিএনপি জামায়াত পাচ্ছে ১৮

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ০০:১৯, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আলোচনায় জামায়াত! বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত জামায়াতের ঘরে সিদ্ধান্ত ছিলো শতাধিক আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করবে। এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশে এবং দেশের বাইরে চলছে আলোচনা। স্বতন্ত্র নয়, জামায়াত নির্বাচন করবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের বড় একটি অংশ লন্ডনে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। দলের আমির মকবুল আহমেদের ওপর হাইকমান্ডের চাপ ছিলো যাতে তিনি ফেনী আসন থেকে প্রার্থী হন। তিনি দলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনের জন্য তিনি ফিট নন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদার চেয়ে দলকে টিকিয়ে রাখাকেই গুরুত্ব দেবেন তিনি। এদিকে গতকাল লন্ডন থেকে দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে তারেক জিয়া একটি শর্ট লিস্ট পাঠিয়েছেন। এতে জামায়াতের দাবি, তার মধ্যে দলের ১৬ নেতার নাম আছে। কিন্তু তাতে জামায়াত তুষ্ট নয়। তাৎক্ষণিক ফের আরও ৬টি নামের তালিকা পাঠায় জামায়াত। দলের হাইকমান্ডের বিশ্বাস এ থেকে আরও ২-৩টি নাম যুক্ত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৮টি আসনই জামায়াতের ভাগ্যে জুটতে পারে। যদিও ৫১টি আসনের তালিকা জামায়াত বিএনপিকে দিয়েছিলো। কিন্তু তাতে বিএনপি সায় দেয়নি। তবে এখনো জামায়াতের কট্টর একটি অংশ ৪০ আসনে অনঢ় থাকতে চান। এখন আলোচনার মাধ্যমে ১৮-২০ আসন পেলে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। তবে অন্যদিকে জামায়াত বড় আশঙ্কায়ও রয়েছে। অতীতে জামায়াত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেনি। স্বতন্ত্র নির্বাচনের যে মর্যাদা ছিলো তাতে জনপ্রিয়তা হারাবে না তো? এছাড়াও জামায়াত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত যেসব প্রার্থীদের শতাধিক আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করেছেন শেষ মুহূর্তে বাদ পড়লে বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনের আশঙ্কাও করছে জামায়াত। এদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, তারেক জিয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলোÑ ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ গড়ে ৩০-৫০টি আসনে ছাড় দেবেন। গতকাল লন্ডন থেকে পাঠানো তারেক জিয়ার আসন ছক হচ্ছে ২০ দলীয় জোটসহ বিএনপি ২৩০টি আসন, জামায়াতের ১৬টি, ঐক্যফ্রন্টের যুক্ত শরিকদের ৫০টি। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, আসম আবদুর রবের জেএসডি গড়ে ৫-১০টি আসন, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৩-৫টি এবং সুলতান মনসুরের ঐক্য প্রক্রিয়াসহ অন্যদের একটি করে আসন ছাড় দিতে তারেক জিয়া সম্মতি জানিয়েছেন। জামায়াতের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি চাচ্ছে যাতে জামায়াত শতাধিক আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন না করে বিএনপির প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। জামায়াতের ৫১টি আসনের পরিবর্তে তারেক জিয়া ১৬টি আসন দিতে রাজি হয়েছেন। তবে এখনো জামায়াত বিএনপিকে ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মত, মো. আবু হানিফ-দিনাজপুর ১, আনোয়ারুল ইসলাম-দিনাজপুর ৬, গোলাম রাব্বানী-রংপুর ৬, মোস্তাফিজুর রহমান-কুড়িগ্রাম ৪, মাওলানা আমজাদ হোসেন-গাইবান্ধা ৫, নুরুল ইসলাম বুলবুল-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩, রফিকুল ইসলাম খান-সিরাজগঞ্জ ৪, আবু সাইদ মো. শাহদাৎ-যশোর ২, অধ্যাপক মতিউর রহমান-ঝিনাইদহ ৩, ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন-পাবনা ১, অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম-বাগেরহাট ৪, মাও. আবুল কালাম আজাদ-খুলনা ৬, গাজী নজরুল ইসলাম-সাতক্ষীরা ৪, শামীম সাইদী-পিরোজপুর ১, ডা. সৈয়দ আ. মো. তাহের-কুমিল্লা ১১, আনম শামশুল ইসলাম-চট্টগ্রাম ১৫। এ আসনগুলোতে জামায়াতকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে লন্ডন থেকে। কিন্তু এতে অসন্তুষ্ট হয় জামায়াত। ১৬টি আসন পাওয়ার ইঙ্গিতের পরপরই জামায়াত আরও ৬টি আসন নিশ্চয়তার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হামিদুর রহমান আজাদ-কক্সবাজার-১, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ-পটুয়াখালী-২, শাহজাহান চৌধুরী-চট্টগ্রাম ১০, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান-রাজশাহী ১, হাছান ইমাম ওয়াপি-শেরপুর-১, শফিকুর রহমান-ঢাকা ১৫। তবে জামায়াতের এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপির বক্তব্য হচ্ছে এ আসনগুলোতে বিএনপি শক্ত অবস্থান রয়েছে। বিএনপির ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখনো নীতিগতভাবে এগুলোতে বিএনপির প্রার্থী থাকবে বলেই জামায়াতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের ভাষ্য, হামিদুর রহমান আজাদসহ আরও দু-একটি আসন পাবে। এ নিয়ে জামায়াতের এক মহানগরীর শুরার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, এখনো আমাদের মধ্যে অনেক মত আছে, স্বতন্ত্রের চিন্তাও আছে। তবে আমাদের লন্ডনে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আমাদের ৫১টি আসন দাবি ছিলো, তবে এখন পর্যন্ত আমরা ৪০টি আসনে অনঢ় আছি। আপনারাই বলেন, ৪০টির নিচে কেমনে আসি। তবে আমাদের সিদ্ধান্ত থেকে আলোচনায় এসেছি এটিই এখন বড় দিক। ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবো কিনা এটি এখনো জামায়াতের আলোচনার টেবিলে। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের আরেক নেতার ভাষ্য, বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণার আগ পর্যন্ত স্বতন্ত্রের জন্যই তারা প্রস্তুত ছিলেন, এখন সেই সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছেন।ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনের চিন্তা কী জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের এক শীর্ষনেতা আমার সংবাদকে দিয়েছেন অভিন্ন তথ্য, তারা নির্বাচনের পক্ষে। তবে নির্বাচনকালীন সরকারে ঐক্যফ্রন্টের কেউ না থাকলে তারা নির্বাচন বয়কটের চিন্তাই করছেন। লেভেল প্লেয়িং না হলে নির্বাচন উগ্র করে ঢাকায় বড় অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেবেন। তাতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতির চিন্তা-ভাবনা তাদের।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত