শিরোনাম

সারাদেশে গায়েবি মামলা : সুনির্দিষ্ট তথ্য চায় পুলিশ সদর দপ্তর

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০০:২২, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

বেশকিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা করে হয়রানি ও গণহারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। নাশকতার ঘটনা মোটেও ঘটেনি কিংবা ঘটলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেনি এমন ব্যক্তিকেও এসব মামলায় আসামি করেছে পুলিশ। পুলিশের গায়েবি মামলায় এমনো ঘটেছে মৃতব্যক্তি, ঘটনার সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিংবা দেশের বাইরে ছিলেন এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। উদ্ভট মামলায় আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়েনি শিশুও। আলোচিত এসব ঘটনার মধ্যে বেশকিছু ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই-বাচাই করে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে সমাধান করতে সক্ষম হলেও সম্প্রতি রাজনৈতিকভাবে ওঠা গায়েবি মামলার অভিযোগগুলো তথ্যসংকটে সমাধান করা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে মিথ্যা, উদ্ভট কিংবা গায়েবি মামলার খবর পেলেও দু-একটি ঘটনার বিবরণ ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিবেদনেই পাওয়া যাচ্ছে না ঘটনার স্থান, সময় কিংবা জানা যাচ্ছে না এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দু-একটি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বাকি শত শত মামলা উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে সেগুলো কোথায়, কবে ঘটেছে তার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া ভুক্তভোগীরাও হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া অভিযোগ নিয়ে যাচ্ছে না পুলিশ সদর দপ্তরে। যে কারণে পুলিশ সদর দপ্তর এসব মামলার মধ্যে দু-একটির বিষয়ে জানলেও বেশিরভাগ ঘটনাই থেকে যাচ্ছে অজানা এবং জানাতে পারছেন না এসব গায়েবি মামলার সঠিক সংখ্যা। তারা বলছে, আগে থেকেই পুলিশ হেডকোয়াটার থেকে এ ধরনের মামলা যেন হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে, প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অভিযোগ পুলিশের গায়েবি মামলার এসব ঘটনা থামেনি বরং ধারাবাহিকভাবে তাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও করা হচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক ইস্যুতে দলটির অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, উদ্ভট ও গায়েবি মামলা দিয়ে গণহারে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, নিজেদের ইচ্ছেমতো অজ্ঞাত আসামি করেও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। তবে এসব নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলছে তদন্তের আগেই এসব মামলাকে সত্য-মিথ্যা বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া কেন এসব মামলাকে মিথ্যা বলা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে পুলিশের যে নিয়মিত গণগ্রেপ্তার কার্যক্রম চলছে তা এড়াতে পুলিশ সদর দপ্তর সেসব মামলার তালিকা চায় বলেও জানান ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তা বলেন, মামলার বিবরণ, সংশ্লিষ্ট থানা, ঘটনার সময় এবং ঘটনার স্থান সম্পর্কে জেনে প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল তা জানতে হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট থানাতে এসব মামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। জবাব দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যেসব মামলা মিথ্যা কিংবা গায়েবি বলা হচ্ছে সেসব মামলাগুলোকে পুনরায় পরীক্ষা করে ভুল পাওয়া গেলে তাও সংশোধন করা হবে।
এদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১ হাজার ৪৬টি গায়েবি মামলার তালিকা দেওয়া হয়। এসব মামলায় বর্তমানে ৫ হাজার ২৭৪ জন কারাগারে রয়েছেন এবং মামলাগুলোতে উল্লিখিত আসামির সংখ্যা ৯৬ হাজার ৭০০ জন। এছাড়াও এসব মামলায় পুলিশ ৩ লাখ ৭০ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা বলেন, এসব মামলার সংখ্যা এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে তা থেকে আমরা যা জানতে পেরেছি সেসবের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। কিন্তু বেশিরভাগ রিপোর্টেই সঠিক লোকেশন কিংবা তথ্য না থাকায় সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ধরনের মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই পুলিশ সদর দপ্তর তা খতিয়ে দেখবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে গায়েবি মামলার এমন নিউজ যখনই আমরা দেখেছি তখনই আইজিপি স্যার নিজ উদ্যোগে স্টেপ নিয়েছেন। অনুসন্ধান করে দেখছেন বিষয়টা কি? এরপরও যদি ভুল করে কারো নাম আসে তাহলে তদন্ত করে তাদের নাম বাদ দেয়া হচ্ছে। কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করেছি। তদন্ত শেষে পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ সত্য হয় এবং সে যদি সঠিক জবাব দিতে না পারে তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণগ্রেপ্তারের অভিযোগটি সঠিক নয়। প্রতিদিনই নানা কারণে গ্রেপ্তার হচ্ছে। তবে যদি কেউ গণগ্রেপ্তারের শিকার হয় তাহলে এরও সঠিক তালিকা চায় পুলিশ হেডকোয়াটার। তালিকা পাওয়ার পর তদন্তের মাধ্যমে সত্য মিথ্যা বলা যাবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত