শিরোনাম

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনি মহাজোট

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:১১, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম দেশের রাজনীতি অঙ্গন। নির্বাচনকে অর্থবহ করতে চলছে সংলাপ আর দরকষাকষি। রাজনৈতিক মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রধান প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে চূড়ান্ত সমাধান না আসলেও বেশকিছু বিষয়ে সরকার ঐকমত্যে পৌঁছেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসবে ধরে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল বহাল রেখেই গঠিত হবে নির্বাচনি মহাজোট। নবম জাতীয় সংসদের আগে গঠিত মহাজোটের শরীক জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগ, বিএনপির সাবেক নেতাদের নেতৃত্বাধীন জোট, ইসলামী নেতাদের কয়েকটি রাজনৈতিক জোটকে মহাজোটে দেখা যাবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর ১৪ দলসহ নির্বাচনি জোটে আসায় এসব শরীকদের সর্বোচ্চ ৭০ আসনে ছাড় দেবে আওয়ামী লীগ। তথ্য মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষন। জোটভুক্ত দলগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি জোটের আকার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেয় বড় দলগুলো। গত কয়েক মাস আগে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং বিকল্পধারা চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যুক্তফ্রন্ট নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিরোধী জোট হিসেবে জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে আদর্শিক পথ ধরে না রাখায় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট। আর বিএনপিকে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আত্মপ্রকাশ ঘটে। জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের যাত্রার প্রাক্কালে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের প্রতি ৭ দফা দাবি উত্থাপণ করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙ্গে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনের এক মাস আগে সেনা মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার বাদ, সামাজিক গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে।এসব দাবি নিয়ে সরকারপ্রধান ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে সংলাপ চেয়ে চিঠি পাঠান ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন। এরপর নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দুদফা এবং অধিকাংশ দলের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সরকার পক্ষ একমত হলেও অমীমাংসিত রয়েছে ৩ দফা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অমীমাংসিত দফাগুলো বাস্তবায়নের আন্দোলনের পাশাপাশি ভোটে আসার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, সরকার পক্ষের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন একাধিক দল ও জোট। এসব জোট ও দলের মধ্যে অনেকেই এর আগে আওয়ামী লীগবিরোধী শিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা এখন সেখান থেকে বের হয়ে শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর আগেও ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক করে একাধিক দল একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এসব জোট এবং দলগুলোর মধ্যেÑ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন ৫ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোট, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা চেয়ারম্যান একিএম বদরুদোজ্জার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপিনেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৩১ দলীয় জোট বিএনএ, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়াল এমপির ১৫ দলীয় জোট ইসলামি ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, আবুল কালাম আজাদ এমপির বিএনএফ, আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এনডিপি, প্রয়াত শেখ শওকত হোসেন নিলুর এনপিপি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (বাহাদুর শাহ), আবদুল লতিফ নেজামীর ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জালালী পার্টি, আশেকিন আওলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় ইসলামী জোট, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট। এসব জোট ও দলের নেতারা সংলাপ এবং ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতির নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, সংলাপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করার আগ্রহ দেখিয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে আসবে আগ্রহী দলগুলো নিয়ে নির্বাচনি জোট করা হবে। জোটের অগ্রভাগে থাকবে-১৪ দল, জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্ট। সেক্ষেত্রে আসন বণ্টন হলে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭৫টি আসনে ছাড় দেওয়া হবে।আরেকটি সূত্র জানান, জোটের শরীক ১৪ দলের মধ্যে বর্তমানে ১৮টি আসন রয়েছে। আগামীতে তাও অব্যাহত থাকবে, বাড়ার সম্ভাবনা তেমন নেই। আর সংসদীয় বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হতে পারে ৪০টি আসন। বর্তমানে দলটির ৩৪ আসন রয়েছে। আর যুক্তফ্রন্টসহ অন্য জোট বা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি আসন ছাড়া হতে পারে। এদিকে, জোটের রাজনীতিতে দলের সংখ্যা যাই হোক; ভোটের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। বৃহত্তর রংপুরের ২৬টি আসনের দলটির এককভাবে শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। এছাড়া সারাদেশে আরও অন্তত ৫০টি আসনে রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাঙ্ক। গত ৫ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে এরশাদের নেতৃত্বাধীন ৫ দলীয় সম্মিলিত জাতীয় জোট। বৈঠকে বিএনপি নির্বাচনে আসলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টি বা জোটের পক্ষে আওয়ামী লীগের কাছে শতাধিক আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী চেয়েছে এবং তালিকাও দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সংলাপ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমরা মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন করব, এটাই আমরা একমত হয়েছি। কোনো কারণে যদি সব দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে আমরা তিনশ আসনে নির্বাচন করব।জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, মহাজোটগতভাবে নির্বাচন হলে পল্লীবন্ধু এরশাদ ১শ আসন চাইবেন। কমপক্ষে ৭০টি আসনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে হবে; এর বাইরে জাতীয় পার্টি যাবে না। অন্যদিকে, গত ৪ নভেম্বর রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছে ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে আসন নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। জোট নেতারা সকলেই প্রধানমন্ত্রীর উপর দায়িত্ব দেন। তারা বলেন- আপনি সবই জানেন, সব তথ্যই আপনার কাছে। আশা করি যথাযথ মূল্যায়ন পাব। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন- চাইলেই হবে জোটের যে প্রার্থী জয়ী হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা আছে তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক জোট নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। জোট-মহাজোটের আসন বণ্টন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দল বা জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তীতে আলোচনায় এটা ঠিক করা হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন- আমাদের জোটের শরিকদের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে। ভালো প্রার্থী হলে দেওয়া হবে। উইনেবল প্রার্থীকে আমরা মনোনয়ন দেব।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত