শিরোনাম
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন

ফিজি হতে পারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাওসার আজম  |  ০০:৫৫, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

ইউরোপের দেশ ফিজি। দেশটিতে প্রচুর নির্মাণ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। থাকা, খাওয়া ও ভালো বেতনের পাশাপাশি দেশটির আবহাওয়াও চমৎকার। সবকিছু মিলে ফিজি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি শ্রমবাজার। শ্রমিকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় সৎ ও দক্ষ রিক্রুটিং এজেন্সিকে ফিজিতে শ্রমিক রপ্তানির সুযোগ দিলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠবে। সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টিম ফিজি সফর শেষে সরকারকে এমন সুপারিশই করেছেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ফিজি সফর করা অন্য দুজন হলেন একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আখতারুজ্জামান ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সদ্য সাবেক পরিচালক (উপসচিব) আতিকুর রহমান। সফর শেষে গত সপ্তাহে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এই প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সরকারকে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধি দল প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩৩২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপ রাষ্ট্র ফিজি সফর করে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ফিজি সফরের সময় সে দেশের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি টু দ্য প্রাইম মিনিস্টার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিনিস্ট্রির প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের ডাইরেক্টর জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে। এছাড়া ফিজির আইন-কানুন বাংলায় অনুবাদের ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলেও প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হলো ফিজি। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে করে সৎ, দক্ষ ও আন্তরিক রিক্রুটিং এজেন্সি ফিজিতে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ পায়। এর ফলে শ্রমিকরা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এ ব্যাপারে ফিজি সফর করে আসা প্রতিনিধি দলের প্রধান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন, ইতোমধ্যে দেশটিতে বেশকিছু কর্মী গেছেন। তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন সেখানে। মূলত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা প্রফশনালদেরই সেখানে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের বেশ সুনাম রয়েছে, আমরা এটা লক্ষ্য করেছি। ফিজিতে এই মুহূর্তে নির্মাণশ্রমিকের বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া কৃষি খাতেও আগামীতে শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। আমরা ফিজির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, তারাও আগ্রহী। তবে ইতোমধ্যে আমাদের কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি সেখানে শ্রমিক পাঠিয়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে আবার নানা প্রতারণার বা জালিয়াতিরও অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব বিষয়েও উভয়পক্ষের মধ্যে কথা হয়েছে। ফিজির সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে যেন আমরা দক্ষ ও সৎ রিক্রুটিং এজেন্টের মাধ্যমে শ্রমিক পাঠাই। ভিসা প্রসেসিং প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, নিয়ম মোতাবেক নিয়োগকারী কোম্পানি জেনুইন ভিসা আমাদের এখানে ই-মেইলে পাঠিয়ে দেবে। আমরা যাচাই-বাছাই শেষে যদি দেখি কোম্পানি আছে, কাজ, বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ঠিক, তখনই আমরা ওই কর্মীর বিদেশ গমনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন এবং ফিজির ইমিগ্রেশন যৌথভাবে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে ভিসা জালিয়াতি রোধ করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে জানান আমিনুল ইসলাম। শ্রমিকের বেতন-ভাতা প্রসেঙ্গ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ফিজিতে বেতন-ভাতা ভালো। তাদের শ্রম আইনেই ন্যূনতম বেতন-ভাতার কথা উল্লেখ আছে। শ্রম আইন অনুযায়ীই সব পাবেন। এছাড়া সেখানকার সবকিছু সাজানো গোছানো, আবহাওয়া যেমন ভালো তেমনি থাকা-খাওয়ার মানও ভালো। আমরা সরকারকে এ সংক্রান্ত সুপারিশসহ লিখিত একটি প্রতিবেদন দিয়েছি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফিজিতে আফজাল খান নামের একজন অনারারি কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগে দেশটির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। প্রতিনিধিদলের দেয়া সুপারিশযুক্ত প্রতিবেদনের নানা দিক পর্যালোচনা শেষে ফিজিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আগামীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত