শিরোনাম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

গাড়িচালকের যোগসাজশেই একের পর এক ডাকাতি

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০০:১৭, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলছে নিত্যনতুন কৌশলে ডাকাতি। ডাকাত চক্রের কবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পণ্যবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাসগুলোও। এমন কী বাদ যাচ্ছে না বরযাত্রীর গাড়িও। প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ মহাসড়কে ১৫০ কিলোমিটারই রয়েছে চট্টগ্রাম অংশে। এ মহাসড়কে প্রতিদিন চলাচল করে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি যানবাহন। অথচ চট্টগ্রাম অংশের দেড়শ কিলোমিটারের বেশি এ মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে মাত্র ৩টি। তিনটি ফাঁড়িতেই লোকবলের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় অপ্রতুল টহলের সুযোগ নিচ্ছে ডাকাতরা। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ সংকট কাজে লাগিয়েই ডাকাতি করে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাতরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁড়িগুলোয় লোকবলের সংখ্যা না বাড়লেও ডাকাতরা প্রতিনিয়তই তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়াচ্ছে।সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কের ডাকাতিতে জড়িত কমপক্ষে ১০টি চক্রের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের প্রতিরোধ করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে নতুন তথ্য হচ্ছে পণ্যবহণকারী কিছু গাড়িচালক ও সহকারীর যোগসাজশ রয়েছে এসব ডাকাতদের সঙ্গে। র‌্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতিতে কয়েকটি চক্র সক্রিয় বলে আমাদের কাছে তথ্য আসছে। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে অভিযানের মুখে ডাকাতরা গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি স্থানীয় ডাকাতদের সহায়তায় মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদীর কয়েকটি ডাকাত দলও সক্রিয় হয়ে উঠছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতি করে এমন কমপক্ষে ১০টি চক্র সক্রিয়। তাদের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। এরা একের গ্রুপে ১০-১৫ জন অংশ নিয়ে দু-তিনটা গ্রুপে ভাগ হয়ে ডাকাতি করে। তিনি বলেন, ৩৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মহাসড়কে ১৫০ কিলোমিটার রয়েছে চট্টগ্রাম অংশে। এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে ৫০ হাজারের বেশি যানবাহন। মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপ্রতুল টহলের সুযোগ নিচ্ছে ডাকাতরা। স্থানীয় ডাকাত দলে প্রতিনিয়ত যোগ দিচ্ছে আশপাশের জেলার ডাকাতরা।  এ ধরনের ডাকাতিতে জড়িত এমন কমপক্ষে ১০টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। যাতে শতাধিক সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অন্তত ২৫টি স্থানে নিয়মিত ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে ১৫টি স্পট ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তরা। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে সীতাকু- সদর, কুমিরা, ছোট কমলদহ, মিরসরাই সদর, জোরাগঞ্জ, ফাজিলপুর, ফেনীর মহিপাল, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, পদুয়া, চান্দিনা ও দাউদকান্দি অন্যতম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও এক সদস্য বলেন, পণ্যবহণকারী কিছু গাড়িচালক ও সহাকারীর যোগসাজশ রয়েছে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সঙ্গে। তারা পণ্য নিয়ে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে ডাকাতদের তথ্য জানিয়ে দেয়। ডাকাত দলের সদস্যরা নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিয়ে গাড়ি এলে ডাকাতি করে। ডাকাতির পর লুট করা মালের একটি অংশ চলে যায় তথ্য দেওয়া চালক ও সহকারীর কাছে। র‌্যাবের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে সীতাকু-ের কুমিরায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় সেলিম নামে এক ডাকাত। একইভাবে ২০১৬ সালের ১৮ নভেম্বর ফেনীতে দুই, ২৯ অক্টোবর মিরসরাইয়ে তিন এবং ১৮ এপ্রিল জোরারগঞ্জে দুই ডাকাত মারা যায়। সব ঘটনা ঘটে ডাকাতি প্রতিরোধ করার সময়। কিন্তু এদের মৃত্যুতেও ডাকাতির ঘটনা বন্ধ না হয়ে বরং একের পর ডাকাতির ঘটনা ঘটছেই। সর্বশেষে ঘটনাগুলোর মধ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রবাসীর প্রাইভেট কারে লুটপাট ও চলতি বছরের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের সীতাকু-ের ঘটনাসহ গত বছর এবং চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত ১৫-২০টি আলোচিত-সমালোচিত ডাকাতির ঘটনা ঘটে। যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের বাইরে রয়েছে বলে জানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত