শিরোনাম
আমদানি-রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক দপ্তর

দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

প্রিন্ট সংস্করণ॥হাসান-উজ-জামান  |  ০০:২৭, অক্টোবর ১৪, ২০১৮

আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী দালালচক্র। এ দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সনদপত্র (আইআরসি এবং ইআরসি, ফায়ার, টিন-ভ্যাট সার্টিফিকেট) প্রদান করাই এদের কাজ। আমদানি রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে তারা দীর্ঘদিন ধরে তারা এ ধরনের অনিয়ম করে যাচ্ছে। এতে করে সরকার হারাচ্ছে নিয়মিত রাজস্ব। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে প্রতারিত। তবে আমদানি রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী কন্ট্রোলার মহিউদ্দিন ফারুকের দাবি, এখানের সব কাজকর্ম চলে ওয়ান স্টপ অনলাইনে। দু-একজন দালাল থাকতে পারে। তবে যারা আছে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কনসালটেন্সি করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালিয়াত চক্রগুলো প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাণিজ্যিক কোম্পানির প্যাড, সিল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সেই প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত অথরাইজ (প্রতিনিধি) হয়ে যান। এরপর আমদানি রপ্তানি দপ্তরে গিয়ে দালালির কাজ করে। আমদানি রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক দপ্তরের দুটো ফ্লোরের সোফায় তাদের দখল দেখলে মনে হয় সেটি দালাল চক্রের হাট-বাজার। একজন ভুক্তভোগী এ ব্যাপারে পল্টন থানায় অভিযোগও করেছেন। অনেকের বিরুদ্ধেই প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ। তবে দালালচক্রের ভেতরেও রয়েছে বিরোধ। এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গড়ে উঠেছে প্রতিপক্ষ তিনটি চক্র। এক চক্র অপর চক্রের বিরুদ্ধে হামলা মামলারও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশি হয়রানি এড়াতে দুর্বল চক্র অনুপস্থিত থাকলে কৌশলে তাদের ফাইল চলে যায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে ফাইল হাতে নিয়ে ফায়দা লোটে। দেশে হাজারো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও আমদানি-রপ্তানি দপ্তরে ঘুরে ফিরে সর্বসাকুল্যে ১৬ জনের দালাল চক্রই সব করে থাকে। সঠিকভাবে কাজ করাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের অথরাইজ ব্যক্তি আমদানি-রপ্তানি দপ্তরে এলেও উক্ত ১৬ জনের কেউ না কেউ তাকে জিম্মি করে ফেলে। পরিস্থিতি এমন যেন দেশের সবগুলো কোম্পানিরই নিয়োজিত প্রতিনিধি ওই ১৬ জন। এরা মানুষকে বেকায়দায় ফেলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর দালাল যতই থাকুক তাদের আয়ের বড় অংশটি চলে যায় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে। অল্পসংখ্যক দালাল থাকলে এসব কর্মকর্তাদের সুবিধাও অনেক। ঘুষের টাকা নিয়ে নতুন নতুন লোকের সাথে তাদের প্রতিদিন দরবার করতে হয় না। পুরোনোদের সব জানা। সংশ্লিষ্টদের অনেকে জানিয়েছেন, ওখানে দালালি করলে অল্প দিনে অনেক আয় করা সম্ভব। কর্মকর্তাদের চেয়েও দালালের আয় বেশি। অনেকেরই রয়েছে ঢাকায় বাড়ি-একাধিক গাড়ি। আমদানি রপ্তানির একজন উচ্চমান সহকারী চাকরি ছেড়ে ওই অফিসেরই দালালিতে লিপ্ত রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দালালের দাবি, তাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান নিরাপদে কাজ করতে পারবে না। কারণ কোম্পানির কাজে কোনো ফাইলে ১০টি বিষয়ের উল্লেখ থাকলে কোনো না কোনো কাগজের ঘাটতি থাকেই। টিন সার্টিফিকেট আছেতো ফায়ার সার্টিফিকেট নেই। ফায়ার সার্টিফিকেট আছে তো পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজ নেই। সব ঠিক আছেতো সত্যায়িত নেই। কোম্পানির লোক নিজেরা গেলে এসব নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়। আরা দালালরা সব কাগজপত্র ঠিক করে দেয়। নির্ধারিত লোকের মাধ্যমে গেলে কর্মকর্তারা ফাইল আটকায় না। ওই দালালের দাবি বরং তারা মানুষকে সহায়তা করেন। আর ভালো কাজে একটু দুনম্বরী কিংবা বাড়তি খরচ হবে এটাতো স্বাভাবিক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ। উচ্চমান সহকারী রাহাত হোসেন রনির বিরুদ্ধে রয়েছে মাদকের মামলা। এ মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন অনেক দিন। কর্মকর্তারা বলেছেন, রনির জেলখাটার তথ্য এমনকি তিনি মাদক মামলার আসামি সেটি তারা জানেন না। অথচ জামিনে থাকা রনি অফিস করছেন বুক ফুলিয়ে। পেছনে রয়েছে তার কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নেয়া কর্মকর্তা। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আমদানি-রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী কন্ট্রোলার মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, এখানের সকল কাজকর্ম হয় ওয়ান স্টপ অনলাইনের মাধ্যমে। দালালের কোনো স্থান নেই। তবে যারা আছে তারা কোনো না কোনো কোম্পানির কনসালটেন্সি করে। মালিক যদি কাউকে পাঠায় আমাদের কিছু করার নেই। আমরা এ ধরনের লোকের ভোটার আইডি নেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সকল গোয়েন্দা সংস্থা এমনকি দুদকের নজরদারিতে রয়েছে। এককথায় প্রতিষ্ঠানটি রেডিক্যাললি ক্লিন। তার পরও ডকুমেন্টারি কোনো অভিযোগ থাকলে জনস্বার্থে তিনি তা প্রতিষ্ঠানটির কন্ট্রোলারসহ ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত