শিরোনাম

লাভের চেয়ে লোকসানেই আগ্রহী রেলওয়ে

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০০:১৭, অক্টোবর ১১, ২০১৮

বাংলাদেশ রেলওয়ে, যা সেবা খাত হিসেবেই গণ্য। সেবার মানসিকতায় পরিচালিত এ খাত সরকারের সর্বোচ্চ সম্পত্তিরও অধিকারী। তবুও যুগের পর যুগ পড়ে থাকা লোকসানের কবল থেকে বের হতে পারেনি আজও। সেবার আদলে কর্মকর্তাদের অনিয়ম, দুর্নীতি আর একের পর এক নতুন নতুন ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রেলওয়ে। রেলওয়ের দুর্দিনের সময়েই হাল ধরার দায়িত্ব পান বর্তমান মন্ত্রী মুজিবুল হক। ‘কালো বিড়াল’ ইস্যুতে দেশের আপামর জনসাধারণের মধ্যে রেলওয়ে নিয়ে যে ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল তা পুরোপুরি ঘুচিয়ে উঠতে না পারলেও অনেকাংশেই রেলওয়েকে পূর্বের তুলনায় আধুনিক, গতিশীল ও লাভের কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতির লিপ্সায় পুরোপুরি লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারছে না বাংলাদেশ রেল। প্রথমত, বাংলাদেশে ডেমু চালানোর জন্য উপযুক্ত নয়। অন্যান্য ইঞ্জিন মেরামত কিংবা এসবের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চাহিদা অনুযায়ী হাতের কাছে পাওয়া গেলেও ডেমু ট্রেন মেরামতের জন্য নেই কোনো ওয়ার্কশপ, নেই কোনো দক্ষ প্রকৌশলী। যে কারণে ডেমু ক্রয়ের পর কিছুদিন চলতে না চলতেই রেলওয়ের ইঞ্জিনগুলো বিকল হয়ে পড়ে থাকে মেরামত কারখানাগুলোতে। এসবের পেছনে ব্যয় করা পুরো টাকাই যাচ্ছে জলে। তারপরও সম্প্রতি আরও দুই সেট ডেমু ক্রয়ের প্রস্তাব করে রেলওয়ে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ওই প্রকল্প পাসের প্রক্রিয়া চলমান। এ দুই সেট ডেমু ঢাকা থেকে কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলের জন্য বলেও জানায় রেলওয়ে সূত্র। চলতি বছরের মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ট্রেন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেমের কাছ থেকে ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয়ের চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ২৪ মাসের মধ্যে ইঞ্জিনগুলো সরবরাহ করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় এ ১০টি ইঞ্জিনের মূল্য ২৯৭ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার ৫৬০ টাকা। যা এডিবির অর্থায়নে কেনা হচ্ছে বলে জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) মো. শামসুজ্জামান এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ার হুন্দাই রোটেমের পরিচালক (গ্লোবাল রেল) কোয়াং কুন উন। এই ১০টি ইঞ্জিন ক্রয় চুক্তির চারমাসের মধ্যেই আবারো ৭০টি ইঞ্জিন ক্রয়ের চুক্তি করেছে রেলওয়ে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন রুটে আরও অধিক ট্রেন চালানো ও বর্তমানের তুলনায় বাড়তি রাজস্ব আহরণের লক্ষেই ১৯৮৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ টাকায় ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয় করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ১৭৮টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ইঞ্জিন থাকলেও ১৩৯টিরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। তারপরও এসব ইঞ্জিন মেরামত করে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে বলে জানায় রেলওয়ে। রেলের এ সংকট মিটাতে ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার রেল ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেমের সঙ্গে ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয়ের চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৮ থেকে ৬০ মাসের মধ্যে ৭০টি ইঞ্জিন সরবরাহ করবে হুন্দাই। রেলওয়ে জানায়, টেন্ডারার্স ফাইনান্সের মাধ্যমে এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এসব ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। গতকাল বুধবার প্রকল্পের পরিচালক আবদুল মতিন চৌধুরী, হুন্দাই রোটেমের পরিচালক (গ্লোবাল) কোয়াং কুন ইউন, রোটেমের প্রেসিডেন্ট সিউ য়ং ট্যাক কিম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন ও মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলমের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে ইঞ্জিন সংকটে ভুগছে। এছাড়াও ৭১ শতাংশ ইঞ্জিনের আয়ুষ্কালও শেষ হয়ে গেছে। তারপরও আমাদের মেরামত করে কোনো রকমে চালাতে হচ্ছে। কাজেই এ চুক্তি রেলওয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। তিনি আরও বলেন, ইঞ্জিন পাওয়া শুরু করলে অধিক পরিমাণে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে বেশি করে রাজস্ব আহরণ করা যাবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত