শিরোনাম

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:১৭, অক্টোবর ০২, ২০১৮

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান যে বিধিমাল রয়েছে তা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক উভয় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নতুন নিয়োগ বিধিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন প্রণীত বিধিমালা গত রোববার সচিব কমিটির মিটিংয়েও তোলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে নারী ও পুরুষ প্রার্থীর জন্য আলাদা শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে পুরুষ প্রার্থীর জন্য স্নাতক পাস আর নারী প্রার্থীর জন্য এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিক পাস চাওয়া হয়। এছাড়া নারী প্রার্থীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়। নতুন সংশোধিত নীতিমালায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা একই রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো প্রার্থী সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে চাইলে তাকে কমপক্ষে স্নাতক পাস হতে হবে। তবে ৬০ শতাংশ নারী কোটা অপরিবর্তিত থাকবে।এছাড়া আরও ৪টি বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে সংশোধিত বিধিমালায়। এর মধ্যে সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এতোদিন স্নাতক চাওয়া হলেও নতুন বিধিমালায় তা পরিবর্তন করে স্নাতকোত্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমাও পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। পদটিতে নিয়োগ পেতে হলে এতোদিন প্রার্থীর বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর চাওয়া হতো। কিন্তু সংশোধিত বিধিমালায় পদটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়স চাওয়া হচ্ছে ২১ থেকে ৩০ বছর। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে প্রধান শিক্ষকের পদটি ইতোমধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। তাই সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে নতুন এ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।এদিকে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক করার বিধান থাকলেও নতুন বিধিমালায় তা পরিবর্তন করা হচ্ছে। এখন থেকে পদটিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ এবং সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে ২০ শতাংশ নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যারা স্নাতক হয়েছেন তাদের জন্য ২০ শতাংশ পদ রাখা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, মানবিক বিভাগ থেকে আসা শিক্ষকরা গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো সহজে আত্মস্থ করতে পারেন না। এ কারণে নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মোট পদের শতকরা ২০ ভাগ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্য থেকে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ক্লাস্টার বা উপজেলাভিত্তিক আর্ট ও সংগীত শিক্ষক রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগ আগের মতোই উপজেলা বা থানাভিত্তিক হবে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে গঠিত সহকারী শিক্ষক নির্বাচন কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া যাবে না। এমন ব্যক্তিকে বিবাহ করেছেন অথবা বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিকেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। নতুন বিধিমালার খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ১৩তম থেকে ১৬তম বেতন গ্রেডের কোনো পদে থাকা শিক্ষককে দশম থেকে দ্বাদশ বেতন গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির সুপারিশ করা যাবে। আর দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে থাকা শিক্ষক নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো পদে পদোন্নতির সুপারিশ পেতে পারেন। তবে, উভয় ক্ষেত্রেই পিএসসির সুপারিশ প্রয়োজন হবে। ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালায় এসব শর্ত নেই। বর্তমানে কোনো ব্যক্তির শিক্ষক পদে যোগদান করার তিন বছরের মধ্যে প্রশিক্ষণ বা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও নতুন বিধিতে তা থাকছে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে নতুন একটি নিয়োগ বিধিমাল করা হয়েছে। গত রোববার এটি সচিব কমিটিতে উঠেছিলো।’ তবে সচিব কমিটিতে বিধিমালাটি অনুমোদন পেয়েছে কিনা তা জানাননি তিনি। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ বিধিমালাটি সচিব কমিটি অনুমোদন দিলে মন্ত্রিপরিষদের সভায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন দেয়ার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিধিমালা-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই বিধিমালা অনুসরণ করা হয়। বর্তমানে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার। এই পদের জন্য আবেদন করেছে ২৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। তবে নতুন বিধিমালা সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তির জন্য কার্যকর হবেনা বলে জানা গেছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে নারী ও পুরুষ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন যে বৈষম্য রয়েছে তা কমবে বলে মনে করছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। সর্বশেষ বিজ্ঞাপিত পদের জন্য নিয়োগ পেতে আবেদন করেছেন এমন একাধিক প্রার্থী বলেন, এমনিতেই চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা রয়েছে। আবার শিক্ষাগত যোগ্যতাও তাদের জন্য অনেক শিথিল। এখন দেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান। তাই অধিদপ্তর যদি নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে তাহলে বৈষম্য কমবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত