শিরোনাম

ডেডলাইন ২৯ সেপ্টেম্বর: রাজনীতিতে সহিংসতার আভাস

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৩৭, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

হুঙ্কার দিচ্ছে সরকারবিরোধী জাতীয় ঐক্য। মাঠ দখলের ঘোষণা আওয়ামী লীগের। প্রতিরোধের প্রস্তুতি বিএনপিতে। আগামী নির্বাচনে ঢাকাকে টার্গেট করে রাজনীতিতে ফের সহিংসতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি যারা আগে থেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবে তাদের আইনের আওতায় আনার। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সরকারবিরোধী ঐক্য আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হওয়ার পর দেশের রাজনীতিবিদরাও নড়েচড়ে বসেছেন। সবাই চোখ রাখছেন রাজনীতির মাঠে। রাজনৈতিক দৃশ্যপট নিয়ে এতদিন মুখে গুরুত্ব না দিলেও কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের হাইকমান্ডদের সভা-সমাবেশে বক্তব্যর প্রধান কেন্দ্রই হয়ে গেছে ঐক্য এবং বিএনপিকে নিয়ে। তা ছাড়া এবার ঢাকাকে কেন্দ্র করেই বিএনপির যত কর্মসূচী আসবে তা গণমাধ্যমের পাতায় বহুবার খবর এসেছে। দুই রাজনৈতিক দলই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আক্রামত্মক উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি এবং সারা দেশে নেতাকর্মীদের গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপরই বিরোধীদের প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারাদেশ দখলের ঘোষণা আসে আওয়ামী লীগ থেকে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। সবার মুখে মুখেই ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় সাধারণ মানুষ বলির পাঁঠা হবে নাতো! ঢাকা রক্তাক্ত ডেটলাইন হবে নাতো। এদিকে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনেক কারণেই বিদেশিরাও চোখ রাখছেন দেশের প্রতি। দীর্ঘ দশবছর ক্ষমতার আসনে আওয়ামী লীগ। তার বিপরীতে ক্ষমতার বাইরে বিএনপি। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মত, সংঘাত-সংঘর্ষ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার আগাম প্রতিবেদনও রয়েছে প্রশাসনের কাছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, মানুষের নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দল বিবেচনা না করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন যেন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি তাদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের তারিখ ২ দিন পিছিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করার কথা জানায়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর এই সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। একই দিন অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ঢাকায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। ওইদিন বিকাল ৩টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে এ সমাবেশের আয়োজনের কথা জানিয়েছেন ১৪ দলের সমন্বয়কারী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে মহানগর ১৪ দলের সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় নাসিম বলেন, আপনারা ১৪ দলের প্রোগ্রামে আসবেন। সেখানে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। ঢাকার প্রতিটি ঘরে ঘরে এ বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। ২৯ তারিখ ১৪ দলের সমাবেশ। আপনারা আপনাদের এমপিকে নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে যান।নাসিম বলেন, চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখবো, কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না? আগে থেকেই ঢাকা দখলে ছিল আমাদের, ইনশাআল্লাহ আগামীতেও ঢাকা আমাদের দখলে থাকবে। শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দখলে থাকবে বলে ঘোষণা দেন নাসিম। জোটের নেতাকর্মীদের যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় প্রস্তুত থাকবেন, যেন ওই অপশক্তি (বিএনপি) মাঠে নামতে না পারে। ওদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন। চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখবো কারা মাঠে নামবে আর কে নামবে না? নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, আগামী একটা মাস আপনাদের কোনো কাজ নেই। ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় আপনারা সজাগ থাকবেন। কোনো চক্রান্ত-নৈরাজ্য হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রতিহত করব।এদিকে গতকাল একটি অনুষ্ঠানে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে রেডি হয়ে যান। কঠোর আন্দোলন করতে হবে। মাঠে নামতে হবে। আগামী তিন মাসে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১ মাঠে আশা করি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। বিএনপির আন্দোলন ও হুঙ্কার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা একবার বলেন রোজার ঈদের পর আন্দোলন, আবার বলেন কুরবানির ঈদের পর। দেখতে দেখতে দশ বছর পার হয়ে গেল, মানুষ বাঁচে কত বছর? বিএনপির আন্দোলন কারাগারে বেগম জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে। বেগম জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ৫শ কর্মী নিয়ে নেতারা রাস্তায় বের হতে পারেননি। বাসায় এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখেন। বিএনপি একটি ভুয়া দল। এদিকে আরেকটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে কোনো অশুভ শক্তি বিএনপি-জামায়াতকে সমর্থন দেয়ার নামে নৈরাজ্য করলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনকি তারা কোনো অরাজকতা করলে, গোলযোগ করলে হাত-পা ভেঙে দেবেন।মোহাম্মদ নাসিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য সম্পর্কে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার সংবাদকে বলেন, আজকে আমি শুনেছি আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা দখলের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি গণতান্ত্রিক দেশে মানায় না। রাজনীতিতে সকল দলই সভা-সমাবেশ করার অধিকার রাখে। আওয়ামী লীগ দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি দখলের রাজনীতি করে না। জাহাঙ্গীর কবির নানকের বক্তব্য প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, রাজনীতিতে হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘোষণা নিম্ন রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছে করলে এ বিষয়ে ব্যবস্থাও নিতে পারে বলে মন্তব্য বিএনপির এ নেতার।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত