শিরোনাম

রোহিঙ্গা শিশুদের ভাষা শেখাবে সরকার

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৩৩, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

কক্সবাজারের কুতুপালংসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান নেয়া মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনসহ তাদের জীবন-যাত্রার উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাও রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ করছে। তবে এবারই প্রথম পৃথকভাবে রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে তাদের শেখানো হবে রাখাইন ও ইংরেজি ভাষা। এ জন্য তৈরি করা হবে এক হাজার ৫০০ লার্নিং সেন্টার। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে থাকবে টেলিভিশনসহ বিনোদনের নানা মাধ্যম। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা যায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নিপীড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। এরমধ্যে শিশু রয়েছে ৬০ হাজার। যাদের বয়স ৬ থেকে ১৪ বছর। এসব শিশুরা যেন শিশুশ্রমসহ শিশু অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে তার জন্যই পৃথকভাবে তাদের শিক্ষা দেয়া হবে। প্রকল্পটির জন্য ইতোমধ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার বা সাড়ে সাতশ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর অর্ধেক টাকা খরচ হবে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায়। এদিকে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে ক্যাম্প পার্শ্ববর্তী অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোসহ যাতায়াতের রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনুদানের বাকি টাকা এই স্কুলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নসহ রাস্তা নির্মাণে ব্যয় করা হবে। তাছাড়া প্রায় ১০০টি নতুন স্কুল তৈরি করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা শিশুরা যেন শিশুশ্রম ও শিশু অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে তার জন্যই তাদের শিক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব শিশুদের জন্য লার্নিং সেন্টার নির্মাণ ছাড়াও সেন্টারগুলোতে রাখা হবে টেলিভিশন। পাশাপাশি শিশুরা যেন নানারকম বিনোদন পায় সে জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হবে। মন্ত্রণালয় বলছে, ক্যাম্পগুলোতে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের শিশু রয়েছে ৬০ হাজার। সূত্র জানায়, লার্নিং সেন্টারগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেবে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনিসেফ। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষ আর অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। রোহিঙ্গা শিশুরা যেন কোনোভাবেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি না হতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে। বিষয়টি স্বীকার করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার আমার সংবাদকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) নামের একটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পর অর্থ শেষ করা সম্ভব হয়নি। রস্কের যে অর্থ অবশিষ্ট ছিলো বিশ্বব্যাংক তা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় ব্যয় করার পরামর্শ দেয়। তবে, আমরা ঋণের টাকা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য খরচ করতে রাজি হইনি। পাশাপাশি তাদের বলেছি, রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে আমাদের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। রাস্তঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো মেরামতসহ রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা দিতে হলে অনুদান হিসেবে বরাদ্দ দিতে হবে। এরপর বিশ্বব্যাংক আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেক টাকা রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় খরচ করা হবে। বাকি টাকা আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট নির্মাণে ব্যয় করা হবে। তাছাড়া প্রায় ১০০ নতুন স্কুল করার চিন্তাও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা এক হাজার ৫০০ লার্নিং সেন্টার স্থাপন করে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুকে রাখাইন ও ইংরেজি ভাষা শেখাবো। পাশাপাশি সেন্টারগুলোতে টেলিভিশনসহ বিনোদনের যাবতীয় ব্যবস্থা রাখা হবে। এদিকে অনুদানের টাকার সঠিক ব্যবহারের জন্য আগেই সতর্ক রয়েছে সরকার। বরাদ্দ যেন যথাযথভাবে ব্যয় করা হয় তার জন্য এনজিও মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে নাম সর্বস্ব কোনো এনজিওকে এ দায়িত্ব দেয়া হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত