শিরোনাম

মৎস্য সেক্টরে সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা

বেসরকারি উদ্যোক্তার আশায় সরকার
প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০০:৩০, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

বর্তমান সরকার আমাদের বাংলাদেশের মতো একটা সমুদ্র সম্পদ এনে দিয়েছেন। এটা আমরা অনেক আগে থেকেই অবগত। তবে সরকার বিশাল এই জলরাশিকে কিভাবে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন করতে যাচ্ছেন তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আমার সংবাদের সাথে কথা বলেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো: রাশেদুল হক। তিনি জানান, ব্লু- ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে আমরা আরো এগিয়ে নিতে পারবো। তবে বড় বাধা বিনিয়োগ। এই সমুদ্র সম্পদের কোথায় কি আছে তা আমরা কিছুই জানি না। এর জন্য আমরা প্রথমে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছি। ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার বিশাল সমুদ্র সীমানা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন সেক্টর এখানে কাজ শুরু করবে। আমরা মূলত সমুদ্রের যেসব গভীর এরিয়া আছে যেখানে মাছ প্রজনন করে থাকে সেখানে আমাদের ফিশারিজ জোন নিতে হবে, ফিশিং স্কুল, গ্রাউন্ড নিতে হবে। এই জায়গাগুলোতে মাছ প্রজনন করে। তাদের খাদ্যও আছে। এগুলো জরিপ করে আমাদের সামনে এগুতে হবে। এখানে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে উল্লেখ করে রাশেদুল হক বলেন, আমাদের ওই রকম বড় জাহাজ নাই, বিভিন্ন লজিস্টিক সাপোর্ট নাই। এখানে কয়েক’শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। যা সরকারি ভাবে সম্ভব নয়। আমরা এখন বেসরকারি উদ্যোক্তার আশায় আছি। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আবেদন করলে আমরা ওইসব উদ্যোক্তাদের কাজের অনুমোদন দিবো। মহাপরিচালক বলেন, দেশের মধ্যে অনেক উদ্যোক্তারা আছেন যারা বিভিন্ন ব্যাংক, বড় বিল্ডিং এবং বেশ কিছু সেক্টরে বিনিয়োগ করছেন। তারা চাইলেও এই ব্লু-ইকোনমিতে বিনিয়োগ করে মৎস সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বিদেশে মাছ রপ্তানি করতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এতে করে দেশ অনেক উন্নত হবে। বেকারত্বের সংখ্যা কিছুটা হলেও দূর করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন এই মহাপরিচালক। তিনি আরো বলেন, মৎস্য সম্পদ আহরণ করে আমরা উন্নয়ন করছি পাশাপাশি মৎস্য চাষ করেও আমরা উন্নয়ন করছি। দেশে মাছ চাষ বৃদ্ধির জন্যই আমরা মূলত কাজগুলো করে থাকি। সাধারণ জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছি। আমাদের এই মৎস্য উন্নয়নের মুল উৎস হলো- বদ্ধ জলাশয়, আধা বদ্ধ জলাশয়, উম্মুক্ত জলাশয় আর সমুদ্র সম্পদ। আমাদের স্বল্প সম্পদের মধ্যে থেকেও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাছ চাষ করে এই মৎস সেক্টরের উন্নতি করে যাচ্ছি। মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে গবেষণা ও জরিপ কার্য পরিচালনার মাধ্যমে মৎস আহরণক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ, বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্যসম্পদের মজুদ নির্ণয়, সর্বোচ্চ সহনশীল আহরণমাত্রা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে আর ভি মীন সন্ধানী নামে একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গবেষণা ও জরিপ জাহাজ মালয়েশিয়া থেকে ক্রয় করা হয়েছে। এই জাহাজের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে তিন ধরনের জরিপ কার্যক্রম (চিংড়ি মজুদ, ডিমার্সাল/তলদেশীয় মজুদ ও পেলাজিক/উপরিস্তরের মজুদ নির্ণয়) করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আর ভি মীন সন্ধানী ১৬টি ক্রুজ সম্পন্ন করেছে। এর ফলে ২৯৮ প্রজাতির মৎস্য, ২৩ প্রজাতির চিংড়ি, ১৬ প্রজাতির ক্রাস্টেসিয়ান ও ১২ প্রজাতির সেফালোপড (মোলাস্ক) চিহ্নিত করা হয়। এদিকে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের মজুদ নিরুপণ ও মৎস্য আহরণক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ। এর জন্য ডাটা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ। বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ নিরুপন ও সবোর্চ্চ টেকসই আহরণমাত্রা নির্ণয়। নতুন মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ। ইকোসিস্টেমভিত্তিক উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এর মূল কার্যক্রম হলো- ঘোষিত মেরিন রিজার্ভ ও এমপিও ব্যবস্থাপনা এবং নতুন মেরিন রিজার্ভ ঘোষণা। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে উদ্যোগ গ্রহণ। মেরিকালচার ও কোস্টাল একোয়াকালচার সম্প্রসারণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। পরিবীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদাকরণের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো- বাণিজ্যিক ট্রলারে ও মৎস্য নৌযানের রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স কার্যক্রম জোরদারকরণ। এমএসসি বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সমন্বিত তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি উপকূলীয় মৎসজীবী/জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ হলো- উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন। মৎস্য আহরণে নিরাপত্তা বিধান ও ঝুঁকি হ্রাসকরণ। মেরিটাইম সম্পৃক্ত বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ মৎস্য অধিদপ্তর এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবাই মিলে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা সফলতার মুখ দেখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত