শিরোনাম

সরকারের নজর এবার মাদরাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:৪৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

দেশের শিক্ষা খাতে ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে চলেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় এ উন্নয়ন অনেক বেগবান হয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নানামুখী উন্নয়ন এবং বরাদ্দের কারণে প্রশংসিত হয়েছে বর্তমান সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার এবার নজর দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে। জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত, উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন সময় একাধিক প্রকল্প বরাদ্দ করেছে সরকার। দেশের সাধারণ শিক্ষার দিকে তুলনামূলকভাবে সরকারের বেশি নজর থাকলেও এবার চাইছে মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন। পূর্বে মাদরাসা শিক্ষায় নানামুখি পদক্ষেপ নিলেও এবার এক সঙ্গে এক হাজার ৬৮১টি মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়া দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই সুদৃষ্টি মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অনেক অবদান রাখবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার এক হাজার ৬৮১টি মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে। যা ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন’ নামে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গত মঙ্গলবার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ওইদিন সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটির আওতায় প্রত্যেক এমপি তার এলাকার ৬টি মাদরাসা উন্নয়নের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা পাবেন। জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় মাদরাসাগুলোতে আইসিটিসহ সব ধরনের আধুনিক শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে। এসব মাদরাসায় থাকবে কম্পিউটার ল্যাব। প্রতিটি ভবন হবে পাঁচতলা, নিচতলা ফাঁকা থাকবে। তারপরও শিক্ষার্থীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে ভবনের আকার-আয়তন। এছাড়া মাদরাসাগুলোর জন্য নতুন টেবিল চেয়ার কেনাসহ স্যানিটেশন, পানি ও বৈদ্যুতিক সুবিধাও বাড়ানো হবে। দেশের ৩০০ সংসদ সদস্য নিজের এলাকার মাদরাসার দৈন্যদশা ও জরাজীর্ণতার বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগে ডিও (আধা সরকারিপত্র) দেন। সেই পত্রে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন করেন। তাদের আবেদনটি বিশ্লেষণ করে মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে একনেক এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৯ হাজার ৩১১টি দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসা রয়েছে। তার মধ্যে ৩টি সরকারি এবং বাকি ৯ হাজার ৩০৮টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সহায়তা এমপিও এর মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রদান করা হয়।
ইতোপূর্বে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৫৯টি মাদরাসায় ২-৩টি শ্রেণিকক্ষ সংবলিত একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪ হাজার ৭৫২টি মাদরাসায় এখন পর্যন্ত কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ৯৭৮টি মাদরাসার অবকাঠামো সম্পূর্ণ কাঁচা প্রকৃতির এবং মাত্র ২ হাজার ১৪৭টি মাদরাসায় সম্পূর্ণ পাকা ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে।ব্যানবেইসের তথ্য মতে, বেশিরভাগ মাদরাসায় অবকাঠামোগত উন্নত সুবিধা এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে অবকাঠামোগত সুবিধা বঞ্চিত ওই সব মাদরাসায় অনুন্নত পরিবেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিধায় পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে ওই মাদরাসাগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাকা অবকাঠামো তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে এসডিজি-৪ বাস্তবায়নে ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে নির্বাচিত ১ হাজার ৬৮১টি মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।এদিকে প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষার বাইরে থাকায় এতদিন কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি ছিলো না। এদিকেও নজর দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে ইতোমধ্যে কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বিল উত্থাপিত হয়েছে। যা পাস হবে বলেও আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাদরাসা শিক্ষার দিকে সরকারের সুদৃষ্টিকে স্বাগত জানিয়েছেন সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমাদ। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকার এত বড় প্রকল্প মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়নি। শেখ হাসিনার সরকারই প্রথম এত টাকার বরাদ্দ দিলো। তাই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই।’ এই বরাদ্দ দেশের মাদরাসা শিক্ষার জন্য অনেক ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলেও মনে করেন তিনি।কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদরাসায় শিক্ষা নিচ্ছে দেশের বিশাল একটি অংশ। আমরা যদি দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করি তাহলে তাদের সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে। এই জন্য হলেও তাদের স্বীকৃতি দরকার ছিলো। শেখ হাসিনার সরকার এ স্বীকৃতি দিয়ে মহত্বের পরিচয় দিয়েছে।বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম সাইফ উল্লাহ আমার সংবাদকে বলেন, পূর্বে অনেকেই আওয়ামী লীগ সরকারকে মাদরাসা বিদ্বেষী বলে মনে করতো। কিন্তু মাদরাসার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই বিশাল পরিমাণ বরাদ্দ প্রমাণ করলো আওয়ামী লীগ সরকার মাদরাসা বিদ্বেষী নয়, বরং মাদরাসাপ্রেমী। সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের মাদরাসা শিক্ষাকে আরও বেগবান করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর মাদরাসাগুলোর অবকাঠামোগত দিক পাল্টে যাবে। এদিকে কওমি মাদরাসা সনদ স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন। তিনি গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে রুহুল আমীন বলেন, কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। আশা করি এটি পাস করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত