শিরোনাম

বন্যাঝুঁকিতে নেই বাংলাদেশ

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েতুল্লাহ  |  ০০:৩৯, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

দেশে এই মহূর্তে বড় ধরনের কোনো বন্যাঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গত মাসে চীনের জাঙপো নদীর পানি বাড়ায় দেশটিতে ব্যাপক বন্যা হয়। যে কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আসাম রাজ্যের চার জেলা পানিতে তলিয়ে যায়। চীন ভারতে পানি ছাড়ার পূর্বে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট বেইজিং সরকার নয়াদিল্লিকে এক সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলো। বার্তা পাঠানোর পরবর্তীতে ভারতের আসামসহ চার জেলায় বন্যা হয়। এর ওপর ভিত্তি করে গত ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লি থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বন্যা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় জানানো হয়েছিলো চীনের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাটিতে বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে। ভারতের সতর্কবার্তা পাঠানোর পর থেকেই নিম্নাঞ্চলের মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্কের কারণ হিসেবে জানা যায়, ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদে চীন পানি ছাড়ার পূর্বে ভারতকে সতর্কবার্তা দেয়। ফলে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক নাকানি চুবানি খাওয়ার পর কুড়িগ্রাম, জামালপুর, সিরাজগঞ্জসহ নিম্নাঞ্চলের মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার উদয় রায়হান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই মহূর্তে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। চীনের জাঙপো নদীর কারণে যে বন্যা ভারতে হয়েছে সেই পানি এখন কমে গেছে। সুতরাং সেই পানির কারণে বাংলাদেশে বন্যা হবে সে আশঙ্কা বর্তমানে নেই। এই প্রকৌশলী জানান, তবে দেশে ভারী বৃষ্টির ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বগুড়ার নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় পানি বিপদসীমার ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার উপরে উঠতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রকৌশলী জানান, ভারতেও এখন কোনো মেজর বন্যা নেই। যে পানি এসেছিলো তা কমে গেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। বাংলাদেশে কোনো বন্যা এ মহূর্তে হলে তা হবে প্রাকৃতিক। ভারতের পানিতে বন্যা হওয়ার মতো সম্ভাবনা আর নেই। তবে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ার ফলে আতঙ্কে আছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ। তারা বলেন, এই সময় আমাদের আতঙ্কে থাকতে হয়; কখন যেন বন্যা এসে যায়। তাদের এ আশঙ্কা সত্য হলে খুবই বিপাকে পড়বেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ। এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয় বোর্ডের এক অতিরিক্ত পরিচালক জানান, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বড় ধরনের কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নাই বলে জানান এ কর্মকর্তা। গত আগস্টে ভারতের জনপ্রিয় পর্যটন রাজ্য কেরালায় ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর এবার চীনের পানিতে আসাম এবং অরুণাচল প্রদেশে সে রকম না হলেও বন্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে চার জেলার মানুষকে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চার জেলার ৪৮টি গ্রামের ১২ হাজার ৪২৮ জন মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধেমাজি জেলায়। পানি উন্নয় বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের অতিরিক্ত পানির প্রভাব ভাটির দেশ বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা ছিলো। সেই আশঙ্কা থেকেই বাংলাদেশকে সতর্কবার্তা দিয়েছিলো ভারত। এ মহূর্তে দেশে বড় ধরনের আশঙ্কা না থাকলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের মাঝে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। তারা মনে করেন বৃষ্টি না কমা পর্যন্ত এ আতঙ্ক কাটবে না। প্রতি বছরই এই সময়ে তাদের আতঙ্কে কাটাতে হয়। পানি কমলে স্বস্তি ফিরে আসে। এসব মানুষের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করা যায় কিনা তা ভেবে দেখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত