শিরোনাম

শ্যামবাজার আড়তের দখলে বুড়িগঙ্গার বেড়িবাঁধ

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েতুল্লাহ  |  ০০:২৫, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

বুুুড়িগঙ্গা নদী ঘেঁষা পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শ্যামবাজার আড়ৎ। আর এ আড়তে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কাঁচামাল বেচাবিক্রিসহ লোড-আনলোড। তাই নদীকে ঘিরে যে বেড়িবাঁধ রয়েছে তা সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকে। সদরঘাট থেকে শুরু করে পোস্তগোলামুখী বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশ দখল করে চলছে শ্যামবাজার আড়তের কার্যক্রম। সড়কের দুই পাশেই বসে বিভিন্ন প্রকারের কাঁচামাল ও পান-সুপারির দোকান। এতে রাস্তায় গাড়ি বা মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শ্যামবাজার আড়তের কার্যক্রম চলে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাঁচামাল রাতে আসে এ আড়তে। যা সারা রাত শ্রমিকরা লোড-আনলোড করে। এতে রাতে রাস্তায় সৃষ্টি হয় চরম যানজট। পুরো রাস্তা থাকে ট্রাক, ভ্যান আর শ্রমিকের দখলে। যানজট সৃষ্টির ব্যাপারে শ্রমিক বা ড্রাইভারদের কিছু বললেই শুরু হয় ঝগড়। ঝগড়া থেকে হয় মারামারি। এটা শ্যামবাজার আড়তের নিত্যদিনের কাহিনী। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র চোখে পড়ে। এ ব্যাপারে লেগুনাচালক আ. কাদের বলেন, গতকাল রাতে বাংলাবাজার থেকে আসার পথে শ্যামবাজারে ট্রাক থেকে পণ্য নামানো নিয়ে রাস্তায় জ্যামে পড়তে হয়। শ্রমিকদের ভ্যান সরিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে দিতে বললে উত্তরে তারা বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাক। পরে যাবি। এ নিয়ে কথা একপর্যায়ে কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাকে লোড-আনলোড করতে থাকা শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে আঘাত করে। পরে যাত্রীরা কথা বললে, তাদেরও মারার হুমকি দেয় বলে জানান এই চালক। সকাল হলেই শুরু হয় কাঁচামাল বেচাকেনা। যা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। বেচাকেনার সময় এ রাস্তা দিয়ে মানুষ বা গাড়ি চলাচল করা খুবই কঠিন। ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বাংলাবাজার, ইসলামপুরের ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীদের অধিকাংশ বসবাস করে পোস্তগোলা, জুরাইন, হাসনাবাদ এলাকায়। সুতরাং এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করে হাজার হাজার মানুষ। বেড়িবাঁধে দোকান বসার কারণে রাস্তায় জ্যামের সৃষ্টি হয়। আর এই জ্যামের কারণে এসব মানুষের শত শত কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের ময়লা-আবর্জনা ফেলে শ্যামবাজারের লাকিঘাট এলাকা প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও শ্যামবাজারে লাকিঘাট বেড়িবাঁধে বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে বসেছে একটি অস্থায়ী কাঁচাবাজার। দিনে দিনে সেই বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতে। এতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর অংশ, আর ধীরে ধীরে সেই বাজারের জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। লালকুঠির ঘাট থেকে শ্যামবাজারের কচুঘাট পর্যন্ত সড়ক দখল করে আছে দুই শতাধিক অস্থায়ী কাঁচামালের দোকান। সড়কে ছড়িয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। এসব বর্জ্যরে ওপর দিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। দোকানের জন্য সড়কে রিকশাসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ আছে। দুপাশে বসা দোকান থেকে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। এসব দোকানের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে নদীতেই। নদীর কালো পানি থেকে বাতাসে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। সবজি কিনতে আসা ফরাশগঞ্জের বাসিন্দা সজিব বলেন, বেড়িবাঁধ সড়কটি উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরই আবার দোকান বসতে শুরু করে। কয়েক দিনের মাথায় তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। এখন নদীর কিনারে দোকান বসেছে। কিন্তু নজর দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নদীর ভেতর দোকান বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী রফিক বলেন, বাজারে মালামাল রাখার জায়গা পাই না। সবার দেখাদেখি নদীর পাশে দোকান বসাইছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শ্যামবাজারে বেড়িবাঁধ সড়ক দখলমুক্ত করলে সদরঘাট থেকে পোস্তগোলা যাতায়াত সহজ হবে। সময়ও কম লাগবে। নদীতে দোকান ও বর্জ্য ফেলতে পারবেন না ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে শ্যামবাজার আড়ৎ মালিক বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সেলিম বলেন, এটা অনেক পুরাতন একটি বাজার। অনেক দূর থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসে। ফলে একটু যাজটের সৃষ্টি হয়। তবে আমরা চেষ্টা করি, রাস্তাটা ক্লিয়ার রাখার। ভবিষ্যতে বাজার পরিষ্কার এবং যানজট যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবো। ডিএসসিসি সূত্র জানায়, বন্যা থেকে রাজধানীকে রক্ষায় ১৯৮৮ সালে পোস্তগোলা থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই বেড়িবাঁধ সড়কের লালকুঠির ঘাট থেকে শ্যামবাজারের কচুঘাট পর্যন্ত অংশটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নিয়ন্ত্রণাধীন। আর কচুঘাট থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত সড়কটি পাউবোর। এ ছাড়া সদরঘাট থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটারের এই সড়কটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। তারা জানায়, সড়ক থেকে দোকান সরাতে অনেকবার অভিযান চালানো হয়েছে। প্রয়োজনে আবারোও অভিযান চালাবো। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বাজারসংলগ্ন রাস্তাটি প্রয়োজন অপেক্ষা অপ্রশস্থ। যে কারণে এখানে যানজট লেগেই থাকে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা মনে করেন, সংশ্লিষ্টরা নজর দিলে অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ হবে আর অবৈধ দোকান না বসলে রাস্তা যা আছে তা দিয়ে ভালোভাবেই চলাচল করা যাবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত